অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগ সারছে না, বাংলাদেশের শিশুদেরঃ
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
এখনই জোরদার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন
, ১০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
গত ২০ জুলাই একটি বৈশ্বিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বিশ্বের ৮২টি দেশের ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সী ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮১ জন শিশুর সংক্রমণের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ-প্রতিরোধী হওয়ার এই প্রবণতা আগামী এক দশকে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা সাধারণ সংক্রমণেও শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।
মানব শরীরে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর উপস্থিতির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়ছে এন্টিবায়োটিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শিশুদের শরীরে এসব জীবাণুর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফলে নিউমোনিয়াসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকসমূহ শিশুর শরীরে আর কাজ করছে না। চিকিৎসকদের মতে, সম্ভবত মায়ের শরীর থেকে এসব ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করেছে।
যখন সময়ের সাথে সাথে মানব শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও বিভিন্ন পরজীবী বিবর্তিত হয় এবং ওষুধের কার্যকারিতা এসব পরজীবীর ওপর আর কাজ করে না, তখনই এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স গড়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং যেকোনো অসুখ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ওষুধ অকার্যকর হয়ে পড়াতে সাধারণ রোগ যেমন- জ্বর, আমাশয়ের কারণেও মৃত্যু ঘটতে পারে রোগীর।
অনেক মানুষই ভাবেন এন্টিবায়োটিক গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ভুল না করলে তারা রেজিস্ট্যান্ট হবেন না। কিন্তু এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স মূলত ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাসের মধ্যে গড়ে ওঠে, মানবদেহে নয়। তাই এন্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেও যে কেউ, যে কোনো বয়সের মানুষ এর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। যে সকল শিশু কোনো এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে নি, তারাও এর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের দেহেও এই রেজিস্টেন্স তৈরি হতে পারে। এমনকি একটি শিশু সারাজীবন এর ভুক্তভোগী হতে পারে।
আবার পরোক্ষভাবেও আমাদের দেহে এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। যেমন- পোল্ট্রি খামারীরা মুরগীকে ঠা-ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সিপ্রোফ্লক্সাসিন নামক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন। এই মুরগী খাওয়ার ফলে মানুষের দেহেও এই এন্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ক্রয় ও সেবন করা যাবে না। বাংলাদেশে ৩৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ক্রয় করেন। বাংলাদেশ সরকার এন্টিবায়োটিক বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নতুন আইন পাস করেছে। উক্ত আইন অনুযায়ী, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আবার, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো রোগের জন্য এন্টিবায়োটিক সেবন করলেও, এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ, এন্টিবায়োটিকের পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে রোগীর শরীরে ঐ রোগের কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস অবশিষ্ট না থাকে। পূর্ণ ডোজ না নেওয়া হলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া রয়ে যায়। এই অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ঐ এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স বা প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। ফলে পরবর্তীকালে এই এন্টিবায়োটিক ঐ রোগীর দেহে আর কাজ করবে না।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্ট (এআর) প্যাথোজেনগুলি প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন মৃত্যুর বিপরীতে ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক ৭০০,০০০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২০০,০০০ নবজাতক। বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে একটি এবং থাকবে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মানবস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মোকাবিলার জন্য আমাদের এক সাথে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকা প্রদান, সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এখনই এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, কারণ, দিনে দিনে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ডাক্তারদের হাতে ওষুধ প্রতিরোধী সংক্রমণ চিকিৎসার জন্য কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিকের অপশন কমে যাচ্ছে। আমাদের সবার সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ফিরে আসা প্রতিরোধ করতে হবে।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












