যে কারণে যুগের পর যুগ শেকলবন্দি হয়ে আছে গাছ
, ২০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) তাজা খবর
১৮৮৯ সালের ঘটনা। ভারতবর্ষজুড়ে ইংরেজদের তা-ব চলছে। পাকিস্তানের লান্ডি কোটালে ছিল ইংরেজ সেনানিবাস। সেখানে ইংরেজবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম না থাকায় সেনারা দিন কাটাচ্ছিল আরামে। জনগণের উপর নির্যাতন ছাড়া তাদের বিশেষ কোনো কাজ ছিল না সেসময়। মদে ডুবে বুঁদ হয়ে থাকত সেনা কর্তা থেকে শুরু করে সেপাইরা।
একদিন মাতাল অবস্থায় সেনানিবাসে ফিরছিলো ইংরেজ এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেমস। হঠাৎ সে ভাবলো, কিছু একটা তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে ভয় পেলো এবং সৈন্যদের বললো- জিনিসটিকে দ্রুত বন্দি করতে। অফিসারের কথা না-শোনার বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সাধ্য ছিল না কারো। যে কোনো নির্দেশ দ্রুত পালন করাই তাদের কাজ। ফলে সৈন্যরা শেকলবন্দি করলো সেই গাছ। গাছটি ছিল বটগাছ।
পরদিন সকালে জেমস দেখলো তারই নির্দেশে একটি গাছে শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। সে মনে মনে লজ্জা পেলেও এ নিয়ে আর মাথা ঘামায়নি। নির্দেশ দেয়নি শেকল খুলে ফেলার। ওদিকে নির্দেশ না পেয়ে সৈন্যরাও আর শেকল খোলেনি।
আজ আর ইংরেজ শাসন নেই। ভারতবর্ষ অনেক আগেই মুক্ত হয়েছে। কিন্তু যুগের পর যুগ এখনো গাছটি রয়েছে সেভাবেই। ইংরেজ শাসনামলে এই গাছটি ছিল খোগিখেলি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির। ইংরেজরা ক্ষমতাবলে দখলে নিয়েছিল সেই জায়গা। তারা ভারতবর্ষ ছাড়ার পর সেখানে বসবাস শুরু করে আফ্রিদি বংশের লোকেরা। সেই আফ্রিদি বংশের লোকেরাও আর গাছের শেকল খুলেনি।
গাছের এই শেকলবন্দি অবস্থা মূলত বিশেষ বার্তা দিতো স্থানীয়দের। ইংরেজদের শাস্তি কতটা নিষ্ঠুর এবং খারাপ হতে পারে বিষয়টি স্মরণে রাখতেই স্থানীয়রা গাছটি শেকলমুক্ত করেনি। আঘাত কিংবা হত্যা না করেও মানুষকে ভয় দেখাতে বিশেষ প্রতীক হিসেবে কাজ করতো সেই শেকলবন্দি গাছ।
বটগাছটিকে এক সময় ব্যবহার করা হয় ফ্রন্টিয়ের ক্রাইমস রেগুলেশনের (ঋঈজ) রূপক হিসেবে। সেই আইনে বলা ছিল, কোনো উপজাতীর কেউ যদি ব্রিটিশবিরোধী পদক্ষেপ নেয় বা আন্দোলন করে তবে সমগ্র উপজাতিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সরকার। সেই আইন কার্যকরের জন্য কোনো ধরনের আদালতের প্রয়োজন নেই। সেই আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো উকিলও এর পক্ষে সুপারিশ করতে পারবে না। ইংরেজরা যেভাবে ইচ্ছে, যত দিনের শাস্তি দিতে পারবে, এর কোনো প্রতিবাদও করা যাবে না। এরপর অনেকদিন পর্যন্ত কার্যকর ছিল এই নিয়ম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মেহেরপুরে সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেসব কারণে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যবস্থার নির্দেশ, অভিযোগ জানাবেন যেভাবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইউক্রেনের বিমানঘাঁটিতে হামলা: দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৩ হাসপাতালে র্যাবের অভিযান, ৮ দালালের কারাদণ্ড
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বন্ধে সমঝোতা, মঙ্গলবার দোহায় বৈঠক
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রেলে সরকারের আয় উধাও, বরাদ্দ ৯,৯৪১ কোটি টাকা
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রকল্প বরাদ্দে জামাত এমপি’র বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৮ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মাদক মামলার বিচারে হবে পৃথক আদালত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












