পাঠক কলাম:
মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া ইহসান মুবারক
, ২৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১২ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
প্রতিদিন আমাদের সমাজ নারীঘটিত ফিতনা-ফাসাদে জর্জরিত। বেশিরভাগ ফিতনা-ফাসাদের মূলে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো- নারী। যার কারণে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই অধিকাংশ পিতা-মাতা বোঝা মনে করে থাকে। মূলত মেয়ে সন্তান পিতা-মাতার জন্য বোঝা নয়, বরং ইহসান।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “কারো যদি তিনটা মেয়ে থাকে সে যদি উপযুক্ত শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি তা’লীযম-তালকীন দিয়ে সৎপাত্র-এর কাছে বিয়ে দেয় তাহলে সে এবং আমি এইভাবে থাকবো। ” সুবহানাল্লাহ!
তখন হযরত উম্মুল মু'মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি দু’জন হয়? তখন তিনি জবাব মুবারক দিলেন, “তাহলেও এভাবে আমি থাকবো। ” সুবহানাল্লাহ!
পরবর্তী আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি কারো একজন মেয়ে সন্তান থাকে- তাহলে? তখন তিনি জবাব মুবারক দিলেন সে আর আমি এভাবেই থাকবো। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ কোনো পিতা মেয়েদের দ্বীনি তা’লীম-তালকীন দিয়ে নেককার পরহেযগার করে এবং নেককার পরহেযগার ছেলের সাথে বিয়ে দেয় তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উক্ত পিতা একত্রে জান্নাতে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত এখন সেই মেয়ে সন্তানদের দ্বীনি তা’লীম-তালক্বীন দেয়া হয় না; বরং বলে থাকে আমার এই মেয়েকে পুরুষের মতো করে স্বাবলম্বী করে তুলবো। যার কারণে এই স্বাবলম্বীর আকাঙ্খা পিতা-মাতার জন্য আযাব-গযবে পরিণত হয়। নাউযুবিল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে একজন মেয়ে আল্লাহওয়ালী হলেই একটা সমাজ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া সহজ হয়। কেননা একটি মেয়ে এক সময় মা হয়। আর একজন মা যখন আল্লাহওয়ালী হয় তখন তার সন্তান-সন্তুতিগণ সহজেই আল্লাহওয়ালা আল্লাহওয়ালী হয়। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেক পিতা-মাতাকে তাদের ছেলে সন্তানের পাশাপাশি মেয়ে সন্তানের তা’লীম-তালক্বীন অর্থাৎ দ্বীনি শিক্ষায় সচেতন হওয়া বাঞ্চণীয়। যখন সমাজের সব মেয়েরা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, সমাজ হবে কলুষমুক্ত, ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
এখন এই সঠিক দ্বীনি ইলিম শিক্ষা অর্জনের সঠিক স্থান হলো একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা। যা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা ছহিবাতুল মুকাররামাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত। যেখানে খাছ পর্দার সাথে পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাউফসহ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনার আলোকে শিক্ষা দিয়ে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালী বানানো হয়। সুবহানাল্লাহ!
তাই দেরি না করে আজই আপনার সন্তানকে ঈমান-আক্বীদা আমল হিফাযত করার একমাত্র সু-প্রতিষ্ঠান মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ উনার মধ্যে নিয়ে আসুন।
-ফাতেমা জান্নাত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তওবা
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












