মিশরের সহায়তায় আফ্রিকাতেও যেভাবে মোসাদ ঠেকাচ্ছে চীন
, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বিদেশের খবর
চলতি বছরের শুরুতে মেজর জেনারেল হাসান রাশাদের নেতৃত্বে মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট (জিআইডি) আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে এক বিস্তৃত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অভিযান শুরু করে। এতে সহযোগিতা করে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, যা কার্যত চীনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিলো ইসরায়েলি দখলদারদের গোয়েন্দা তৎপরতা, বিশেষ করে মোসাদের কার্যক্রম মোকাবেলা করা। মিশর ও চীন এই কার্যক্রমকে তাদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করে।
এই পদক্ষেপের সময়ে মিশর-চীন গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হয়। আফ্রিকায় মোসাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তারা একসঙ্গে কাজ শুরু করে। দুই দেশ ‘মোসাদের ওপর চাপ সৃষ্টি’র কৌশল নেয়। চীনা গোয়েন্দা সংস্থা এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করে, যা মিশরের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে। এর লক্ষ্য ছিলো, আফ্রিকায় মোসাদের প্রভাব কমানো, মিশরের সীমান্ত স্থিতিশীল রাখা এবং চীনের স্বার্থ রক্ষা করা।
এই তথ্য প্রকাশ করে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম। তারা জানায়, আফ্রিকায় ইসরায়েলি সম্প্রসারণ ঠেকাতে মিশর জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে, বিশেষ করে লিবিয়ায়।
সংবাদপত্রটি জানায়, মিশরের জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ব লিবিয়ার কমান্ডার খলিফা হাফতারের ছেলেদের সম্পর্ক বিস্তারে বাধা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। হাফতারের ছেলে সাদ্দাদ ও খালেদ তাদের বাবার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে রয়েছে।
মেজর জেনারেল আবদেল-খালেক লিবিয়া সফরে গিয়ে সতর্কবার্তা দেয়। সে বলেছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে হাফতারের ছেলেদের যোগাযোগ বাড়ানো যাবে না। সংবাদপত্রটি আরও জানায়, এক জ্যেষ্ঠ মিশরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গোপন সফর ও ব্যাপক তৎপরতা চালায়। এতে মূলত মেজর জেনারেল আবদেল-খালেকই নেতৃত্ব দেয়। উদ্দেশ্য- আফ্রিকায় মোসাদের কার্যক্রম সীমিত করা।
চীনের সহায়তায় আফ্রিকায় মিশরের পদক্ষেপগুলো কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো।
প্রথম বিষয়টি ছিলো- সুদান। কায়রো চীনের সহযোগিতায় সুদানের সংকট ঘিরে মোসাদের তৎপরতা শনাক্ত করে। বিশেষ করে বিদ্রোহী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সন্ত্রাসী ইসরায়েল সমর্থন দিচ্ছে- এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিশর ও চীন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে সুদান সফর করে। সেখানে সে সুদানের সেনাপ্রধান ও সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে বৈঠক করে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক হয়। তার মূল লক্ষ্য ছিলো- সুদানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও মোসাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বয় করা। মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের ধারণা, সন্ত্রাসী ইসরায়েল সুদানের বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান হামদান দাগালো বা হেমেদতিকে সমর্থন দেয়। এ ছাড়া সোমালিল্যান্ড নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের স্বীকৃতি, নীলনদের পানিবণ্টন বিরোধ এবং নীলনদ অববাহিকায় সন্ত্রাসী ইসরায়েলের ভূমিকা- এসব বিষয়ও মিশরের স্বার্থের বিপক্ষে বলে তারা মনে করে।
দ্বিতীয় বিষয়টি ছিলো- হর্ন অব আফ্রিকার অঞ্চল ও নীলনদ অববাহিকা। সন্ত্রাসী ইসরায়েল ও তাইওয়ানের পক্ষ থেকে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাইওয়ানের ‘টি-ডম’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের সহায়তা বেইজিং ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। টি-ডম ব্যবস্থাকে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের আয়রন ডোমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল ও পূর্ব আফ্রিকা চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার সড়ক, নৌপথ ও প্রণালিগুলো চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে চলতি ২০২৬ সালের শুরুতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল সফর করে। এই সফরকে সন্ত্রাসী ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সে ফিলিস্তিনবিষয়ক দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উগান্ডা সফর করে। উদ্দেশ্য ছিলো- নীল অববাহিকা ইস্যুতে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ ঠেকানো। আবদেল-খালেক লক্ষ্য করে, ইসরায়েলি ও উগান্ডার কর্মকর্তাদের মধ্যে নীল অববাহিকা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এরপর সে উগান্ডার স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে একাধিক সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়।
সে সময় মিশরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের আফ্রিকা কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে সে (মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক) রুয়ান্ডা, উগান্ডা, লিবিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান সফর করে। ইসরায়েলি কর্মকুত্তাদের সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে আফ্রিকায় কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা মিশনের নেতৃত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও মিশর যৌথভাবে সোমালিয়ার বৈধ রাজধানী মোগাদিসুর প্রতি সমর্থন জানায়।
লিবিয়ার ক্ষেত্রেও চীন মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। একই সময়ে একটি মিশরীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল পূর্ব লিবিয়া সফর করে। তারা স্থানীয় পক্ষগুলোকে সতর্ক করে দেয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো যাবে না। তারা জোর দিয়ে বলে, মিশর তার পশ্চিম সীমান্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দা উপস্থিতি মেনে নেবে না। এই অবস্থানে চীন ও মিশর একমত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততায় উদ্বিগ্ন ভারত
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইরান যুদ্ধ ও অস্ত্রসংকট নিয়ে কংগ্রেসে তোপের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবও!
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে একজনের মৃত্যুদ- কার্যকর
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি অটুট, মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের স্বীকারোক্তি
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে ঢুকছে তুরস্ক ও কাতার
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় দাবানলে ১১ হাজার একর এলাকা ভস্মীভূত
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোনের কাছে অসহায় ইসরায়েলি সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
এখানে কোনো ইসরায়েলি ঘাঁটি নেই -ইরাক
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সন্ত্রাসী ড্রাম্পকে ‘মাঠে’ পরাজিত করেছি; ভাববে না কূটনীতিতে বিজয়ী হবে: ড্রাম্পকে বেলায়েতি
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে চীনের ৪ দফা প্রস্তাব, ইরানের সমর্থন
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৭৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












