মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৮)
, ১৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৪ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
স্বাধীনা মেয়েদেরকে প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চেহারা ঢাকার নির্দেশ মুবারক দিয়ে যিনি খ¦ালিক, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِأَزواجِكَ وَبَناتِكَ وَنِساءِ المُؤمِنينَ يُدنينَ عَلَيهِنَّ مِن جَلابيبِهِنَّ ذلِكَ أَدنى أَن يُعرَفنَ فَلا يُؤذَينَ -
অর্থ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মহাসম্মানিতা মহাপবিত্রা হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, মহাসম্মানিতা মহাপবিত্রা আপনার হযরত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম এবং মুমিনগণ উনাদের আহলিয়াগণকে বলে দিন, উনারা যেন উনাদের চাদরের কিয়দংশ মাথার উপর থেকে টেনে নিয়ে চেহারাসহ সমস্ত শরীর পর্দায় আবৃত করে নেয়। এর দ্বারা চিনা যাবে যে, উনারা স¦াধীনা মুমিনা নারী, ফলে উনাদেরকে উত্যেক্ত করা বা কষ্ট দেয়া হবে না। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ-৫৯)
উল্লিখিত আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ও ব্যাখ্যা (৫):
আল-বাহরোল মুহীত্ব ফীত-তাফসীর ৮ম খ-, ৫০৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
فَأُمِرْنَ أَنْ يُخَالِفْنَ بِزِيِّهِنَّ عَنْ زِيِّ الْإِمَاءِ بِلُبْسِ الْأَرْدِيَةِ والملاحف وستر الرؤوس وَالْوُجُوهِ-
অর্থ: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে স্বাধীনা মহিলা উনাদেরকে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চাদর ও বোরকা পরিধান করে মাথা ও চেহারা আবৃত করার মাধ্যমে দাসীদের বিপরীত পোশাক পরিধান করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তাফসীরে মাযহারী ৬ষ্ঠ খ-, ৪৯৫ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-
فان عامة محاسنها في وجهها فخوف الفتنة في النظر الى وجهها اكثر منه في النظر الى سائر اعضائها وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المرأة عورة فاذا خرجت استشرفها الشيطان- رواه الترمذي عن ابن مسعود فان هذا الحديث يدل على انها كلها عورة -...
অর্থ: নিশ্চয়ই মহিলাদের সৌন্দর্য সাধারণত: মুখের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। সুতরাং তাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের দিকে দৃষ্টি দেয়ার তুলনায় চেহারার প্রতি দৃষ্টি দেয়া অধিকতর ফেৎনার কারণ। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহিলাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর পর্দায় আবৃত থাকবে। কেননা, তারা যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাদের দ্বারা পাপ কাজ সংঘটিত করানোর জন্য উকি ঝুকি মারতে থাকে। তিরমিযী শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই মহিলাদের সমস্ত শরীরই সতরের অন্তর্ভুক্ত...।
তাফসীরে আহমাদ হুত্বাইবাহ ২য় খ-, ১০২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
فالمرأة الشابة البالغة إلى أن تصل إلى سن القواعد قبل ذلك يجب عليها أن تستتر، والراجح أن تستر جميعها:لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (المرأة عورة)- فتضع الخمار فوق رأسها، وتلبس الدرع، وهو القميص الذي تلبسه النساء- ثم تجعل الجلباب ساتراً فوقها- وهو العباءة تلبسها فتتغطى من رأسها إلى رجليها-
অর্থ: অত:পর যুবতী বালেগা মেয়েলোক অতিবৃদ্ধাবস্থায় পৌছার পূর্ব পর্যন্ত তার সমস্ত শরীর পর্দায় আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরয। কেননা, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- মহিলাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর্দায় আবৃত থাকবে। সুতরাং মহিলারা ওড়না দ্বারা তাদের মাথা ঢেকে নিবে এবং ক্বমীছ পরিধান করবে। তার উপরে জিলবাব পরিধান করে সমস্ত শরীর আবৃত করে নিবে। জিলবাব হলো عباءة আ’বা, যা মহিলাদের মাথা থেকে দু’পাসহ সমস্ত শরীর আবৃত করে নেয়।
হিওয়ারু হাদিউ মা‘য়াল গাযযালী-৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
يدنين عليهن من جلابيبهن فإن الجلباب ثوب أوسع من الخمار تغطي به المرأة بدنها فهو فوق الثياب كلها وهو يشبه العباءة –
অর্থ: يدنين عليهن من جلابيبهن উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত জিলবাব হলো: নিশ্চয়ই এটা ওড়না থেকে আরো অধিক প্রশস্ত পোশাক। যার দ্বারা মহিলাগণ উনাদের পরিহিত অন্যান্য সকল পোশাকের উপর পরিধান করে সমস্ত শরীরকে আবৃত করে নেয়। এটা عباءة আ’বা এর সদৃশ পোশাক।
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খছম বা ঝগড়া কু-স্বভাবটি পরিহার করা অপরিহার্য কর্তব্য
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১০)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা (২)
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (১)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












