মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল
, ০৪ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৭ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২১ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَـلْيَـفْرَحُوْا هُوَ خَيْـرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ
তরজমা: উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যমীনে পাঠানোর উদ্দেশ্য এবং যমীনবাসীর কর্তব্য সম্পর্কে বিশেষভাবে বর্ণনা করেছেন। আর উক্ত পুরো বিষয়টি যামনার সুমহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পবিত্র রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি সংক্ষেপে এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, উম্মতের কামিয়াবী হাছিলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আমল মুবারক দুটি। (এক) যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আমল মুবারক অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ। (দুই) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক।
প্রকাশ থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে উনার উম্মতকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন। কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান এনে কায়িনাতবাসী তথা উম্মত মু’মিন-মুসলমান হবে এবং উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করবে, পরিপূর্ণরূপে উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করবে, যথাসাধ্য খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবে, যথাযথ সম্মান মুবারক করবে এবং দায়িমীভাবে ছানা-ছিফত মুবারক করবে। আর এটাই মূলত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ উনার ৮ ও ৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّاۤ أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا .لِتُـؤْمِنُـوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُـعَزِّرُوْهُ وَتُـوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি (আমার হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা বা প্রত্যক্ষদশীর্, সুসংবাদ দানকারী, ও সতর্ককারী হিসেবে যাতে তোমরা ঈমান আনো মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। আর সেইসাথে উনার তোমরা খিদমত মুবারক করো, উনাকে সম্মান মুবারক করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অথার্ৎ দায়িমীভাবে। (পবিত্র সূরা ফাতহ্: আয়াত শরীফ ৮,৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَـقَدْ أَطَاعَ اللهَ
অর্থ: মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে আনুগত্য করবে, প্রকৃতপক্ষে সে মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্য করলো। (পবিত্র সূরা নিসা: স আয়াত শরীফ ৮০)
মূলকথা হচ্ছে, উম্মতের পক্ষে মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য বা অনুসরণ ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করা আদৌ সম্ভব নয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য মুবারকের বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য মুবারকের উপর নির্ভরশীল।
সুতরাং কেউ নামায পড়–ক, যাকাত আদায় করুক, রোযা রাখুক, হজ্জ পালন করুক, কুরবানী করুক, টুপি পরিধান করুক, পাগড়ী পরিধান করুক, রুমাল পরিধান করুক, কোর্তা পরিধান করুক, লুঙ্গি পরিধান করুক, খাবার গ্রহণ করুক, পানিয় গ্রহণ করুক, শয়ন করুক, চলা-ফেরা করুক, বিবাহ-শাদী করুক ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে আমল করতে হলে তাকে অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করে করতে হবে। উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করলেই সে মহান আল্লাহ পাক উনার মহব্বত, ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হবে। সুবহানাল্লাহ!
মোটকথা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করলে অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করলে উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হওয়ার সাথে সাথে যিনি খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনারও মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ!
আর এটাই মূলত বান্দা ও উম্মতের চূড়ান্ত কামিয়াবী ও চূড়ান্ত চাওয়া পাওয়ার বিষয়।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৯৭তম সংখ্যা থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: সর্বোত্তম ঈমান উনার অধিকারী হওয়ার শর্তাবলী (২)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (২)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খছম বা ঝগড়া কু-স্বভাবটি পরিহার করা অপরিহার্য কর্তব্য
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১০)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












