মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার সংশ্লিষ্ট আয়াত শরীফসমূহ উনাদের সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক (৪)
, ২৬ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০২ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
والله على كل شيئ قدير
অর্থ: “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সবচাইতে শক্তিশালী।” সুবহানাল্লাহ!
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
শিক্ষা দিলেন কে? যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক শক্তিশালী তিনি। সুবহানাল্লাহ!
আবার বললেন,
ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى
তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী। সুবহানাল্লাহ! তিনি অপেক্ষমান ছিলেন।
اِسْتَوَى (ইস্তিাওয়া) এই সম্মানিত শব্দ মুবারক অর্থ কি? ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহ আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো اِسْتَوَى (ইস্তাওয়া) শব্দ মুবারক উনার অর্থটা কি? তিনি সব অর্থই বললেন- বরাবর হওয়া, উপবেশন করা ইত্যাদি অনেক অর্থ। তবে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ‘ইস্তাওয়া’ হয়েছেন, তা জিন-ইনসানের ইলিমের বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
এখানে ‘ইস্তাওয়া’ অর্থ হচ্ছে অপেক্ষমান। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী। সুবহানাল্লাহ! তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি তো উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন। যদিও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো স্থান, কাল, পাত্রের অধীন নন। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে সম্মানিত শান মুবারক কতটুকু বুলন্দ করা হয়েছে, সে বিষয়টা বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি অপক্ষেমান ছিলেন। কোথায়?
وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى
সর্বোচ্চ প্রান্তের শীর্ষে। সর্বোচ্চ প্রান্তের শীর্ষে তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এখানে একটা বিষয় বলা হয়, সম্মানিত ইলমে তাছাউফ মুবারক উনার পরিভাষায় সেটা হচ্ছে, আলমে ইমকান। আলমে ইমকানটা কী? সেটা হচ্ছে, যমীন থেকে অর্থাৎ তাহতাচ্ছারা থেকে সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম শরীফ পর্যন্ত হচ্ছে আলমে খল্ক্ব। আব, আতেশ, খাক, বাদ, নফস এই পাঁচটা। তাহতাচ্ছারা থেকে আরশে আযীম পর্যন্ত আলমে খলক্ব। যেটা বলা হচ্ছে-
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ
অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই আলমে খলক্ব ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন ৬ দিন এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ভাষা। মানুষ কিন্তু এই দিনটা বুঝে না। মানুষকে বুঝানোর জন্য বলা হয় যে ৬ ধাপে, ৬ স্তরে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এবং এর উপরে আরশে আযীম থেকে ঠিক সমপরিমাণ, নিচ থেকে আরশে আযীম যতটুকু তার উপর ঠিক ততটুকু হচ্ছে আলমে আমর। আর এই দুইটা মিলে হচ্ছে আলমে ইমকান। আলমে আমর হচ্ছে- ক্বলব, রূহ, সের, খফী, আখফা। এই পাঁচটা। যেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ বলা হচ্ছে-
إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
অর্থাৎ “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন চান, ‘কুন’ বললেই আলমে আমর সেটা সৃষ্টি হয়ে যায়।” সুবহানাল্লাহ! যেমন- আরো বলা হচ্ছে-
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي
অর্থাৎ ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, আপনি বলে দিন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার একটা সম্মানিত আদেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আর আলমে আমরের আক্ছ প্রতিচ্ছবী হচ্ছে আলমে খলক্ব। এই দুইটা মিলে হচ্ছে আলমে ইমকান। এই সমস্ত কিছুর শীর্ষে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘ইস্তাওয়া’ অপেক্ষমান ছিলেন। সেখান থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক শুরু হলো। সুবহানাল্লাহ!
-মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীক্ব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












