মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ইরান যুদ্ধে বেকায়দায় সন্ত্রাসী ড্রাম্প
, ২৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিদেশের খবর
* হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে ড্রাম্প, বাড়ছে তেলের দাম
* ইরানে হামলার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে, মূল্যায়ন করেনি ড্রাম্প প্রশাসন
* কয়েক দিনে যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও ১৪ দিনেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি
আল ইহসান ডেস্ক:
ইরানে হামলা শুরুর পরপরই সন্ত্রাসী ড্রাম্প বলেছিলো, শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হবে। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এদিকে সন্ত্রাসী ইসরায়েলও এখন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। এ পরিস্থিতিতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রাম্প প্রশাসনের সূত্রই তাদের জানিয়েছে, ‘হামলা চালালে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহনের কি হবে, এ বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে।’ সিএনএনের আরেক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মনে হচ্ছে ড্রাম্প দিন দিন বড় হয়ে ওঠা এ যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা শুধু সন্ত্রাসী ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না; বরং তা উপসাগরীয় যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে হামলা শুরু করে ইরান। তবে কয়েক দিন পর মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালায় ইরান। এর জেরে সৌদি আরব একটি তেল শোধনাগার বন্ধ করে দেয়। কাতার তার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করেছে। ইরাক, ওমানেও তেলের স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে। এমন হামলা হয়েছে বাহরাইনেও।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা কমে আসতে শুরু করে যুদ্ধের এক সপ্তাহ না পেরোতেই। বাধ্য হয়ে এসব দেশে আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। একই পথে হাঁটতে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) সিস্টেমের অংশবিশেষ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইরানের হামলার ভয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্রের মতে, চলমান অভিযানের পরিকল্পনা করার সময় ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ইচ্ছা বা সক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষা করে গেছে পেন্টাগন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল সম্ভাব্য পরিণতিগুলো পুরোপুরি বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস এ যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ের পুরোটাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলো। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা সভায় জ্বালানি ও অর্থ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলো। তবে বাইডেন বা এর আগের সব প্রশাসন হরমুজ নিয়ে যেসব বিশ্লেষণ এবং পূর্বাভাস দিয়েছিলো, সেগুলো উপেক্ষা করে গেছে বর্তমান প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খানেমি গত বৃহস্পতিবার হরমুজ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ বন্ধ থাকবে। ফলে এই প্রণালি দিয়ে কবে পণ্য পরিবহন পুরোদমে শুরু হবে এবং এর কল্যাণে জ্বালানি সংকট কাটবে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, সন্ত্রাসী ড্রাম্প এই প্রণালিতে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বললেও মার্কিন নৌবাহিনী তাতে সাড়া দেয়নি।
সিএনএনের আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ড্রাম্প ইরানে এবারের হামলা শুরুর পর বিজয় ঘোষণা করতে পারবে না। মনে হচ্ছে, সে একটি সম্প্রসারিত হয়ে চলা যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং যুদ্ধ থেকে সরে আসার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিণতি, এতে থেকে যাওয়ার চেয়ে বেশি বিপর্যয়কর হবে।
ড্রাম্পের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির আভাস দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহব্যাপী এই যুদ্ধের আকার দিন দিন বড় হচ্ছে। এই যুদ্ধের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের ক্রমহ্রাসমান সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে তেল রপ্তানির একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। কারণ, ড্রাম্প প্রশাসনের হুমকি সত্ত্বেও ইরান সরকার দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক আধিপত্য থাকলেও সবকিছু সহিংসতা দিয়ে সমাধান করা যায় না।
সিএনএনের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ড্রাম্পকে এমন এক সামরিক ধাঁধায় ফেলেছে, যা সমাধান করার চেষ্টা করা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ড্রাম্পের যে চরম দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে, সেটাও প্রকাশ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অবস্থা।
এলোমেলো বার্তা ট্রাম্পের:
কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চেয়ে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ড্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গতকাল সে বলে, ইরানে আগামী সপ্তাহের মধ্যে কঠোর আঘাত হানা হবে।
সন্ত্রাসী ড্রাম্প বলে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পার হতে বিভিন্ন দেশের জাহাজগুলোকে রক্ষা করবে।
বিপাকে সন্ত্রাসী ইসরায়েল:
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এখন ইরানের ওপর চলতে থাকা ক্রমবর্ধমান ও অনির্দিষ্টকালীন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে তারা এমন কিছু সম্ভাব্য ‘এক্সিট র্যাম্প’ বা ‘প্রস্থান পথ’ বা সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটি হলে হয়তো যুদ্ধ আরও বিস্তার লাভ করার আগেই থেমে যেতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইরানের শীর্ষ নেতাদের তথ্য দিলে কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খারগ দ্বীপ: মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপ’ করার হুমকি ইরানের
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দখলদারদের কথিত ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর প্রমাণিত হয় যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালদ্বীপে অগ্নিকান্ডে ৫ বাংলাদেশি নিহত
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এরদোগান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কোন প্রযুক্তিতে ভর করে এমন নিখুঁত হামলা করছে ইরান, চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন ২ রিফুয়েলিং বিমানে হামলা, একটি ভূপাতিত, আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত -নিহত ৪ মার্কিন সেনা, আহত ২
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সপ্তাহে ৫ হাজার কোটি ডলার করে ঋণ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মালদ্বীপে অগ্নিকারে ৫ বাংলাদেশি নিহত
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এরদোগান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কোন প্রযুক্তিতে ভর করে এমন নিখুঁত হামলা করছে ইরান, চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন ২ রিফুয়েলিং বিমানে হামলা, একটি ভূপাতিত, আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত -নিহত ৪ মার্কিন সেনা, আহত ২
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












