মধুমতীর ভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, স্থায়ী বাঁধের দাবি
, ২৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) তাজা খবর
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া গ্রামে মধুমতী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুটি মসজিদ, প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি ও ১২০ থেকে ১৩০টি বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় মধুমতী নদীর পাড়ে ভাঙনকবলিত স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে আল হেরা দাখিল মাদরাসার সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। এ বছর জিও ব্যাগসহ নদীর পাড়ের আরও অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এনডিসি আল হেরা দাখিল মাদরাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া একটি সাব-পোস্ট অফিস, একটি এতিমখানা, ছয়টি মসজিদ, কবরস্থান, ফসলি জমি, বসতঘরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে ঝুঁকিতে।
আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে বর্তমানে নদীর দূরত্ব মাত্র ৪০ গজ। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, জরুরি ব্যবস্থা নেয়া না হলে কয়েক দিনের মধ্যে মাদরাসাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুর রব বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা থেকে নদী মাত্র ৪০ গজ দূরে। আমরা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন পার করছি। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করা না গেলে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। আমরা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।’
আল হেরা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল জব্বার ও ফাতেমা খানম বলেন, ‘এক মাস আগেও নদী অনেক দূরে ছিল। এখন ভাঙতে ভাঙতে নদী মাদ্রাসার কাছাকাছি চলে এসেছে। এক মাস পর আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে গেলে আমাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাদরাসাটি রক্ষায় আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’
একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজুল্লাহ ও সাজ্জাদ হোসেন।
চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান বলেন, ‘আমাদের স্কুল থেকে নদী প্রায় ৬০ গজ দূরে। এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ভাঙন রোধে আমরা সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’
চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, এ বছর নদীভাঙনে তাঁর পাঁচ একর ফসলি জমি ও চারটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের জমিতে কোনও রকমে ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুস ছত্তার মিয়ার দুই একর ফসলি জমি ও তিনটি ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ফসলি জমি ও বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে চান না তারা। এ কারণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত তিন বছরে চর মাকড়াইল নামে একটি গ্রাম প্রায় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
দিগনগর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গত তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন শুরু হয়। গত বছর ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এ বছর সেগুলোও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এর একটি স্থায়ী সমাধান চাই।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে চরখোলাবাড়িয়া গ্রামটিও আলফাডাঙ্গার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের দিগনগর, চরখোলাবাড়িয়া ও চর মাকড়াইল—এই তিনটি গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এ বছর যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও শত শত বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে এর একটি স্থায়ী সমাধান চাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।’
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘ভাঙনকবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আগামী দুই দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে সময় লাগবে।’
স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মেঘনায় গোসলে নেমে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ন্যাম ভবন থেকে জামাত এমপি গাজী নজরুলের কথিত স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার!
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী আবার বিয়ে না করার শর্তে আজীবন পেনশন পাবেন
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম ছুটির তালিকা সংশোধন
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইলিয়াস মোল্লাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পেনশনভোগীদের সার্ভার অদৃশ্য মাফিয়ার নিয়ন্ত্রণে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মাদকের টাকার জন্য শিশুকে বিক্রির চেষ্টা -৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উদ্ধার
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অপ্রাপ্তবয়স্কদের হ্যান্ডসেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালা জরুরি
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অর্থনৈতিক প্রশাসনে বহাল পুরনো বলয়
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেতন বাড়ল সরকারি চাকরিজীবীদের, বেসরকারি খাতে চ্যালেঞ্জ!
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন আজ -জাতিসংঘে ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বড় ধরনের নতুন হামলার প্রস্তুতি, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












