ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (২১)
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আমার মিশন চলাকালীন সময়ে একজন লোক সবসময় আমাকে অনুসরণ করে গেছে। সে ছিলো মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত একজন গোয়েন্দা। সেও যেসব রিপোর্ট পাঠিয়েছিলো দেখলাম আমার দেয়া রিপোর্টের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সচিব আমাকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সঙ্গে যখন দেখা হলো তিনি আমার প্রতি এমন ব্যবহার করলেন যে তিনি যেন আমার আসার অপেক্ষাতেই ছিলেন। বুঝলাম আমি তার হৃদয়ের একটা স্থান করে নিয়েছিলাম।
নজদের মুহম্মদকে বশ করতে পেরেছি জেনে মন্ত্রী ভারী খুশি হলেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য সে একটি শক্তিশালী অস্ত্র এবং আমরা এমনটাই খুঁজছিলাম। তাকে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি দাও। ভাল হয় যদি তোমার পুরো সময়টা তাকে আমাদের আদর্শে গড়তে ব্যয় করো। ”
আমি বললাম, আমি অবশ্য নজদের মুহম্মদকে নিয়ে চিন্তিত আছি। হয়তো সে তার মত পাল্টে ফেলতে পারে। তিনি বললেন, ভয়ের কিছু নেই। তুমি চলে আসার পর থেকে তোমার দেয়া ধারণা থেকে সে এখনও সরে আসেনি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরের সঙ্গে তার ইস্পাহানে দেখা হয়েছিলো এবং গুপ্তচর জানিয়েছে যে, সে এখনও মত পাল্টায়নি। আমি মনে মনে চিন্তা করলাম, অপরিচিত লোকের কাছে কি করে নজদের মুহম্মদ মনের কথা বললো? অবশ্য আমি মন্ত্রীকে এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন করিনি। যাই হোক, পরে যখন নজদের মুহম্মদের সঙ্গে দেখা হয়, তখন জানতে পারলাম, ইস্পাহানে করিম নামে একজনের দেখা হয়েছিলো। সেই তার মনের কথা কৌশলে বের করে নেয়। সে বলেছিলো, আমি শায়খ মুহম্মদের (অর্থাৎ আমি) ভাই। সে আপনার সম্পর্কে যা জানে সব বলেছে।
নজদের মুহম্মদ বললো, সুফিয়া তার সাথে ইস্পাহানেও গিয়েছিলো। সেখানে আরো দু’মাসের জন্য মুতা বিবাহ করেছিলো। আব্দুল করিমও সিরাজ পর্যন্ত আমার সাথে ছিলো সেখানে আমার জন্যে আয়েশা নামের এক মেয়ের সন্ধান দেয়। আয়েশা সুফিয়ার চাইতেও সুন্দরী ও আকর্ষণীয় ছিলো। তাকেও আমি মুতা বিবাহের আওতায় এনেছিলাম। পরে জানতে পারি, আব্দুল করিম আসলে খ্রিষ্টান এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইস্পাহানে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিলো। আয়েশাও মন্ত্রণালয়ের অপর এজেন্ট, সে সিরাজের অধিবাসী এবং ইহুদী। আমরা চারজনে মিলে নজদের মুহম্মদকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। আমাদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিলো ভবিষ্যতে আমরা যেভাবে চাইবো সেভাবে কাজ করবে। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি যখন সকল ঘটনা বর্ণনা করছিলাম তখন সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের আরও দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন যাদের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিলো না। মন্ত্রী আমাকে বললেন, “মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাবার যোগ্য তুমি। ” মন্ত্রণালয়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তচরদের মধ্যে তুমি সবার সেরা। সচিব তোমাকে দেশের কিছু গোপন তথ্য দেবে যা তোমার মিশনে তোমাকে সাহায্য করবে।
সে সময় আমাকে ১০ দিনের ছুটি দেয়া হলো যাতে আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে পারি। সুতরাং সেই সময়েই আমি বাড়ী রওয়ানা হলাম এবং আমার বেশ কিছু মধুর সময় আমার ছেলের সাথে কাটালাম। আমার ছেলে ছিলো অনেকটা আমার মতই দেখতে। সে দু চারটা শব্দ বলতে শিখেছিলো এবং সে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে এমনভাবে হাটতো মনে হতো সে যেন আমার শরীরের একটা অংশ। এই দশটি দিন আমি খুব সুখে এবং আনন্দের সাথে কাটালাম। আমার এমন মনে হয়েছিলো আমি যেন আনন্দে আকাশে উড়ছিলাম। ঘরে ফিরে আসা এবং পরিবারের কাছে আসা একটা দারুণ আনন্দের বিষয়। এ দশদিনের ছুটিতে আমি আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করলাম যিনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করে ভালই করেছিলাম। কেননা আমার তৃতীয় মিশনের যাত্রার পরেই আমার ফুফু মারা গিয়েছিলো। তার মৃত্যুতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম।
এই দশটি দিন যেন এক ঘন্টা সময়ের মত পার হয়ে গেলো। এভাবেই আনন্দের দিনগুলো ঘন্টার মত খুব দ্রুত কেটে যায় আর বেদনার দিনগুলো কেটে যেতে শতাব্দী লেগে যায়। নাজাফে আমার অসুস্থতার দিনগুলো মনে হলো। সেই কয়েকটি দিন আমার কাছে মনে হয়েছিলো কয়েক বছর।
যখন নতুন নির্দেশ জানতে আমি মন্ত্রণালয়ে গেলাম সচিব অত্যন্ত আনন্দ এবং মর্যাদার সাথে আমাকে গ্রহণ করলেন। তিনি আমার সঙ্গে এমনভাবে হাত মেলালেন যে তার সেই আন্তরিকতা ভোলার নয়।
তিনি আমাকে বললেন, আমাদের মন্ত্রী এবং উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের কমিটি প্রধানের নির্দেশে তোমাকে দেশের দুটো গোপন তথ্য দিবো। এই দুটো গোপন তথ্য থেকে পরবর্তীতে তুমি যথেষ্ট উপকার পাবে। খুব অল্প সংখ্যক দু-চারজন লোক ব্যতীত এ গোপন তথ্য কেউ জানে না।
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












