সূদী ব্যাংক ব্যবস্থা মূলত: আত্মঘাতী এবং শোষক ব্যবস্থা।
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
বর্তমান সংকটাপন্ন অর্থনীতি বাঁচাতে অতিসত্বর সুদী ব্যাংক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের ব্যাংক ব্যবস্থা চালু করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ১৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
(১)
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতেই প্রায় হাজার খানিক শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পেছনে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ যেমন রয়েছে, তেমনই ব্যাংক খাতের কঠোর নীতিও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সমস্যাগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার পরিবর্তে শুধু ঋণ পুনঃতফসিলের মতো সাময়িক ব্যবস্থা নেয়।
ব্যাংক তার হিসাব পরিষ্কার করার জন্য পুনঃতফসিল করে, কিন্তু এতে সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক ছয় মাস বা এক বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা পুনঃঅর্থায়ন দেয় না। ফলে সাময়িকভাবে সময় পাওয়া গেলেও মূল সমস্যা থেকে যায়। ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য “শুধু রিশিডিউল করলেই হবে না। রিশিডিউলের পাশাপাশি রিফাইন্যান্সও করতে হবে। না হলে শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।”
উদাহারনত: একটি কারখানায় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। ব্যাংকের ঋণ হয়তো ১৫০ বা ২০০ কোটি টাকা। কোনও কারণে সেই ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে ব্যাংক সব সুবিধা বন্ধ করে দেয়। তখন কারখানা চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মনে রাখতে হবে অনেক ক্ষেত্রে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকও তাদের পুরো টাকা ফেরত পায় না। বরং কারখানা সচল থাকলে ঋণ ধীরে ধীরে পরিশোধ হওয়ার সুযোগ থাকতো।
প্রায় প্রতিটি গার্মেন্ট কোম্পানিরই কোনও না কোনও ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক রয়েছে। গার্মেন্ট কারখানা থেকে ব্যাংকগুলো নিয়মিত মুনাফা পেলেও, কারখানা সংকটে পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া যায় না। এমনও উদাহরণ রয়েছে, মাত্র পাঁচ কোটি টাকার দেনার কারণে ২০০ কোটি টাকার কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।
(২)
প্রসঙ্গত: শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার প্রভাব শুধু উদ্যোক্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর বড় প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থানের ওপর। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে প্রতিটি কারখানায় কয়েকশত থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ফলে একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারায়।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শত শত কারখানার কারণে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।
কারণ একটি বড় কারখানা বন্ধ মানে শুধু মালিকের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িত থাকে হাজারো শ্রমিক ও সরবরাহকারী, পরিবহন খাতসহ আরও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তাদের পরিবার।
সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি যদি একটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান সাময়িক সমস্যায় পড়ে, তাহলে সেটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত। কারণ সেটি বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন- সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু ঋণ পুনঃতফসিল নয়, পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়ন, পুরো সুদ মওকুফ এবং সুদবিহীন পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বলার অপেক্ষা রাখেনা এটা প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থায় আশা করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ছহীহ শরঈ ব্যাংক ব্যাবস্থা।
সরকার যদি প্রকৃত ব্যবসাগুলোর জন্য আরও সাহসী ও পুনরুদ্ধারমুখী তথা ইসলামী পদক্ষেপ নিতো তাহলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারতো এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও জনগণ বর্তমান সংকট থেকে বাঁচতে পারতো। বর্তমান মুমূর্ষ অর্থনীতি বাঁচাতে অতিসত্বর সুদী ব্যাংক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের ব্যাংক ব্যবস্থা চালু করতে হবে ইনশাআল্লাহ। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ সক্রিয় হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই ছফর শরীফ এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বাআহ্ আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












