ব্যাংক ঋণ পায় না হাওরের ভূমিহীন চাষিরা
, ১১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা:
হাওর এলাকায় বোরো ধান চাষে জড়িত চাষিদের বড় একটি অংশই ভূমিহীন। তারা বড় কৃষক বা জমির মালিকদের কাছ থেকে এক বছরের জন্য জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করেন। জমির মালিকানা বা কাগজপত্র না থাকায় এসব কৃষক ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ পান না। ফলে পুঁজির সংকটে বাধ্য হয়ে তাদের যেতে হচ্ছে এনজিও ও মহাজনের কাছে। সেখানে নিতে হয় চড়া সুদের ঋণ। অন্যদিকে, ব্যাংকের কৃষিঋণের বড় অংশ চলে যাচ্ছে জমির মালিকদের হাতে, যারা নিজেরা সরাসরি চাষ করেন না।
হাওরে এখন পুরোদমে চলছে বোরো চাষ। চারা রোপণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চারদিকে শোনা যায় শ্যালো মেশিনের শব্দ। সদ্য বোনা জমিতে দেওয়া হচ্ছে সেচ। সার প্রয়োগ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। এই ব্যস্ততার মাঝেই চাষিরা ছুটছেন পুঁজির খোঁজে। কেউ এনজিওতে। কেউ মহাজনের দরজায়। কারণ, ব্যাংকের দরজা তাদের জন্য প্রায় বন্ধ।
কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওরের বোরো চাষিদের প্রায় ৮০ শতাংশই ভূমিহীন। স্থানীয়ভাবে ‘জমা’ পদ্ধতিতে তারা জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন। জমা, সার, বীজ, সেচসহ সবকিছুর জন্যই শুরুতেই দরকার নগদ টাকা। কিন্তু, নিজের জমির কাগজ না থাকায় ব্যাংক কৃষি ঋণ দেয় না তাদের। ফলে ঋণের বোঝা নিয়েই শুরু হয় তাদের চাষাবাদ। তার ওপর রয়েছে অকাল বন্যা ও বৈরি আবহাওয়ার ঝুঁকি। সব মিলিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও লাভ থাকে না এই কৃষিতে।
করিমগঞ্জের চংনোয়াগাঁয়ের ভূমিহীন কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংক আমাদের বলে জমির কাগজ দেখাতে। আমরা তো জমির মালিক নই। জমির কোনও কাগজপত্র নেই আমাদের কাছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিতে হয়।
হাওর উপজেলা মিঠামইনের গোপদীঘির আলাল মিয়া বলেন, ফসল ওঠার পর আগে সুদের টাকা শোধ করতে হয়। লাভ থাকে হাতে গোনা।
রফিক মিয়া বলেন, একবার বন্যা হলে সব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ঋণ আর সুদ থেকে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট কৃষক পরিবার পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৬০০টি। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার রয়েছে চার লাখ ৬৩ হাজার ১৯৬টি। অর্থাৎ, জেলার অধিকাংশ কৃষকই ব্যাংকের কৃষি ঋণের আওতার বাইরে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে, কৃষিঋণ আসলে কাদের দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি ব্যাংকের মরিচখালী বাজার শাখার কর্মকর্তা সাগর আহমেদ বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিক যদি ভূমিহীন কৃষকের জামিনদার হন, তবেই কৃষিঋণ দেওয়া সম্ভব।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে এমন জামিনদার খুব কমই পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, যারা সরাসরি মাঠে নেমে চাষ করেন, তাদের সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের শস্যবীমার আওতায় আনা দরকার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পানির নিচে রেললাইন, ৮০০ যাত্রী নিয়ে আটকে পর্যটক এক্সপ্রেস
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৪২ বছরের রেকর্ড বৃষ্টি, পানিবদ্ধতায় কার্যত অচল চট্টগ্রাম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ৭ হাজার ছাড়াল
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শ্বেতহস্তী কর্ণফুলী টানেল: অপচয়-অনিয়মের পাহাড়
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ফারুক আহমেদ
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সরব হচ্ছে আওয়ামী লীগ
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশের জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে -প্রধানমন্ত্রী
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১২ জেলায় বন্যার আভাস
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রশ্ন ফাঁসের সাজা কমে ৫ বছর, সংসদে বিল পাস
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ জুলাই বরিশাল সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












