বছরে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য দেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে, অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনায় এই ঝুকিই হতে পারে অমিত সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধির পূজি।
, ১৮ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০২ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৬ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সম্পাদকীয়
ই-বর্জ্যরে ঝুঁকি কমাতে সরকার ২০২১ সালে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা’ তৈরি করলেও দুই বছরে তার বাস্তব প্রয়োগ নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ বর্জ্যরে শেষ গন্তব্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড। তিন পাশে নদীবেষ্টিত ল্যান্ডফিল্ডে জৈব বর্জ্যরে সঙ্গে প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্যও জমা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, ল্যান্ডফিল্ডের বর্জ্য থেকে নিষ্কাশিত বিষাক্ত পানি সরাসরি মিশছে নদীর পানিতে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড থেকে সংগৃহীত পানির স্যাম্পলে লেডের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৮.৯৪ পিপিএম, যা নির্ধারিত গাইডলাইন থেকে প্রায় ৯০ গুণ বেশি। ক্যাডমিয়াম ও পারদের উপস্থিতিও নির্ধারিত গাইডলাইন থেকে অনেক বেশি। এই পানি নদীতে পড়লে তা মানুষসহ নদীর জীববৈচিতর্্েযর জন্য হুমকি। ভূগর্ভস্থ পানিতে মেশার বড় সুযোগ রয়েছে, যার পরিণতি হবে মারাত্মক।
তথ্যানুযায়ী, দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার গত এক দশকে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ কোটি টাকায়। এসব ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে বছরে সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য। গত জুনে এক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং জানায়, প্রতি বছর দেশে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০২টি টেলিভিশন।
এ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন ই-বর্জ্য। নষ্ট বা মডেল পরিবর্তন করতে গিয়ে বাতিল হচ্ছে কয়েক কোটি মোবাইল ফোন। শুধু স্মার্ট ডিভাইস থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে সাড়ে ১০ লাখ টন ই-বর্জ্য। প্রতিদিনই বাতিলের খাতায় যুক্ত হচ্ছে ফ্রিজ, ওভেন, ব্যাটারি, কম্পিউটার, সোলার প্যানেল, চার্জারসহ অগণিত ইলেকট্রনিক পণ্য। প্রতি বছর এই বর্জ্য বাড়ছে ৩০ শতাংশ হারে। ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যরে ৩ ভাগ রিসাইক্লিং হয়, ৯৭ শতাংশের ঠাঁই হয় ভাগাড়ে।
এদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল সায়েন্স ডিরেক্টরিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক টন ওজনের মোবাইল ফোনে অন্য নানা ধাতুর পাশাপাশি রয়েছে ৫৩ কেজি তামা, ১৪১ গ্রাম সোনা, ২৭০ গ্রাম রুপা, ১০ গ্রাম প্লাটিনাম ও ১৮ গ্রাম প্যালাডিয়াম। এক টন পিসিবিতে (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) রয়েছে ৬৭৮ গ্রাম সোনা, ১১০০ গ্রাম রুপা, ২৭৮ কেজি তামা, ৩৮ গ্রাম প্লাটিনাম, ৯৮ গ্রাম প্যালাডিয়াম। সুতরাং, এসব ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি আয় করা সম্ভব বিপুল পরিমাণ অর্থ।
২০৩৫ সাল নাগাদ প্রতি বছর যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ লাখ টন। আমাদের দেশে ই-বর্জ্য বাড়ছে, সঙ্গে দেশে ই-বর্জ্য দূষণ বাড়ছে। তা মোকাবেলায় আমাদের নেই পর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ই-বর্জ্য দূষণ থেকে পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপদ করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন জরুরি। ঠিকমতো ই-বর্জ্য নিষ্কাশন করা না হলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের অকল্পনীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে মানুষ নতুন এ সমস্যা উপলব্ধি করতে পারে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে সচেতন হয়।
ই-বর্জ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে যথার্থ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নয়ন করা, আইনের দুর্বলতা দূর করা এবং ই-বর্জ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুনর্ব্যবহারের বা রিসাইকেলের ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। ই-বর্জ্যে থাকা বিষাক্ত পদার্থ থেকে নিজেদের বাঁচাতে চাইলে আমাদের সঠিক নিয়ম মেনে এর রিসাইকেল করতে হবে। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্য উৎপাদনও বাড়ছে। সুতরাং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই এবং এ-সংক্রান্ত বিধিমালাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালাটির যুগোপযোগিতা বাড়ানো দরকার এবং সেটি প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া ই-বর্জ্যে দামি ধাতু থাকায় একে ‘আরবান মাইন’ বলা হয়। পরিবেশসম্মত কার্যকর উপায়ে এসব ধাতু সংগ্রহ করা গেলে ই-বর্জ্য পরিণত হবে একটি মূল্যবান সম্পদে। চাইলে সরকারি ও বেসকারি উদ্যোগে সমন্বয় করে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে রিসাইকেলিং প্লান্ট তৈরির মাধ্যমে ই-বর্জ্য থেকে অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করা সম্ভব, যেমন চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া করতে সক্ষম হয়েছে।
তাই বাংলাদেশের সার্কুলার অর্থনীতিতে ই-বর্জ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এর পুনর্ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেশে একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ই-বর্জ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বদিচ্ছা থাকলে আগামীতে এ ক্ষেত্রটি অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
সঠিক ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আরও উদ্যোগ নেওয়া হলে শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি জাতে বর্জ্যই হবে সমৃদ্ধির পূজি। সরকারকে তাই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োগ, পুনোদনা ও পৃষ্টপোষকতা করতে হবে ইনশাল্লাহ।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সরকার দলীয় শ্রমিক কর্মচারী তথা গণ আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রতারক সরকার যেখানে ডিপিওয়ার্ল্ড নিষিদ্ধ করেছে সেখানে নির্বাচিত দাবীদার বর্তমান সরকার কী করে সে দেশ বিক্রির পথেই হেটে ডিপিওয়ার্ল্ডকে আনতে পারে?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারত একটি চরম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি এবং দিপাক্ষিক চুক্তি- এমনকী নিজ দেশের সংবিধান সবই ভারত বর্বরতার সাথে লঙ্ঘন করে ও করছে। ভারতকে কঠিন শিক্ষা দিতে হবে এবং সাবেক উপদেষ্টা বিবৃত ২২ লাখ ভারতীয়কে অবিলম্বে পুশব্যাক করতে হবে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন শুধু সামরিক বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই নয় বরং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের জজবাকে সমুন্নত করার জন্য হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম্রিকা শকুনীরা চাচ্ছে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরী করতে। ডিপস্টেট আমলাদের দ্বারা প্রণীত হচ্ছে- রফতানী বাধাগ্রস্থ করার নীল নকশা। চা রফতানীর বাধাসমূহ অবিলম্বে দূর করতে হবে।
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আজ সুমহান বেমেছাল বরকতময় ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ! সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি এই মহিমান্বিত দিনটি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াদী আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান বরকতময় ১৮ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ! খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক অর্থাৎ পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আম্রিকা বাংলাদেশকে আরো বেশী তুলা আমদানিতে চাপ সৃষ্টি করছে। আম্রিকা থেকে তুলা আমদানি জটিল, অধিক ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। অথচ একটু উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশই হতে পারে তুলায় স্ব-নির্ভর। ইনশাআল্লাহ।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নানা নামে বিভিন্ন কর আরোপকে মহা জুলুম হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন বাজেটে নানা কর পরিকল্পনা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। সরকারকে অন্যায্য কর মুক্ত বাজেট দিতে হবে।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাপবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৪ তারিখ মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ দিবসসমূহের তাৎপর্য অনুধাবন গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব।
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় পবিত্র ৭ই যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস এবং পাশাপাশি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ই শরীফ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় পবিত্র ৬ই যিলহজ্জ শরীফ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












