প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা হারাম, যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৫)
, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আঙুলের ছাপের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছু কথা:
এ বিষয়টি নির্দেশ করতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্টের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যে কারণে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় আঙুলের ছাপকে সর্বাধিক স্থায়িত্ব দিয়েছেন। যা কিনা মৃত্যুর পরও অনেকদিন পর্যন্ত বজায় থাকে। সুবহানাল্লাহ!
এমতাবস্থায় যদি মানবজাতির এই অসীম প্রকৃতির আঙুলের ছাপের কোন বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস না করা হয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র আঙুলের ছাপকে ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নির্ণয় করাটা কিছুতেই সম্ভব হবে না।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট যে মহান আল্লাহ পাক উনার একটি বিশেষ কুদরত, তা বোঝা যায় বয়সের সাথে আঙুলের ছাপ অপরিবর্তিত থাকার মাধ্যমে। মায়ের রেহেমে থাকা অবস্থায় একজন মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরী হয় এবং সেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের গঠন সারাজীবন অপরিবর্তিত থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজন মানুষ শিশু থেকে যুবক, যুবক থেকে বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হয় এবং এ সময়কালে তার সারা দেহের চামড়া ও ত্বকের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু আঙুলের ছাপের কোন পরিবর্তন ঘটে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ইরশাদ মুবারক করেছেন “আঙুলের ডগাসহ” তিনি নিখুঁতভাবে পুনরুত্থিত করবেন, এ থেকে বোঝা যায় মানুষের আঙুলের ছাপকে মহান আল্লাহ পাক বিশেষ কুদরত হিসেবেই রেখে দিয়েছেন।
অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক তৎকালীন মুসলিম বাঙালী গণিতবিদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট শ্রেণীবিন্যাসের আবিষ্কার চুরি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা:
বর্তমানে মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিজ্ঞান অনেক জটিল একটি বিষয়। মূলত বিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যা কাফিরদের ভুল ও বক্র চিন্তাধারার দ্বারা জটিল রূপ লাভ করেছে। বিপরীতে মুসলমান বিজ্ঞানীগণ উনাদের গবেষণার দ্বারা বিজ্ঞান সহজ, সুন্দর ও সঠিক রূপ লাভ করেছে এবং এ কারণেই মানবজাতি বর্তমানে বিজ্ঞানকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারছে।
কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনার শ্রেণীবিন্যাসকরণের কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবহার যে কতোটা সহজ হয়েছে, তার উদাহরণ হিসেবে আমেরিকার একটি পুলিশ রিপোর্টের ছবি পূর্ববর্তী লেখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টটির ডানদিকের উপরের কোনায় একজন অপরাধীর দশ আঙুলের ছাপের শ্রেণীবিন্যাস একটিমাত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোডের মাধ্যমে তুলে করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে এমন কোন দেশ নেই, যেখানে কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনার এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোডিং ব্যবহার করা হয় না।
কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কিত এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কৃতিত্ব সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনাকে দেয়া হয়নি। যে এডওয়ার্ড হেনরির অধীনে আঙুলের ছাপ সংক্রান্ত প্রকল্পের কাজটি চলছিল, সে নিজেই এই পুরো আবিষ্কারের কৃতিত্ব তার নিজের নামে চালিয়ে দেয়। কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক এখানে ছিলেন অসহায়, কারণ এডওয়ার্ড হেনরির চুরিতে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছিল যালিম ব্রিটিশ সরকার।
কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনার গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো নিয়ে এডওয়ার্ড হেনরি একটি বই লিখে ‘ক্ল্যাসিফিকেশন এন্ড ইউজেস অব ফিঙ্গারপ্রিন্টস’ নামে, যেখানে এডওয়ার্ড হেনরি তার নিজের নামে এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট শ্রেণীবিন্যাসের পদ্ধতির নাম দেয় ‘হেনরি সিস্টেম’!
ব্রিটিশ সরকারও যথারীতি স্বীকৃতি দিল এই তথাকথিত ‘হেনরি সিস্টেম’কে। শুধু তাই নয়, এই চোর এডওয়ার্ড হেনরিকে ব্রিটিশ সরকার নাইটহুড দিয়ে ‘স্যার’ উপাধিতেও ভূষিত করলো।
কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক তিনি উনার এই আবিষ্কারের স্বীকৃতি চেয়ে ব্রিটিশ সরকারের নিকট আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই আবেদন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। যালিম ব্রিটিশ সরকার এর বদলে উনাকে নামকাওয়াস্তে ‘খানবাহাদুর’ উপাধি, সামান্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ছোটখাটো একটা জায়গীর ধরিয়ে দেয়। অবিভক্ত ভারতের চম্পারানে (বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের একটি জেলা যা উত্তর চম্পারান নামে পরিচিত) কাটে কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনার জীবনের শেষ দিনগুলো। সেখানেই তিনি ১৯৩৫ সালে ইন্তিকাল করেন।
এই এডওয়ার্ড হেনরির দেখানো পথেই কিন্তু আজ পাশ্চাত্যের ইহুদী-খ্রিস্টানরা বিরাট বিজ্ঞানী-গণিতবিদ সেজে বসে আছে, বিপরীতে পর্দার আড়ালে কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনার মতো বঞ্চিত হয়ে রয়েছে বহু মুসলমান বিজ্ঞানী ও গবেষক। তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে এডওয়ার্ড হেনরির অধীনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রকল্প পরিচালিত হওয়ার মতোই বর্তমানে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ইহুদী-খ্রিস্টানদের অধীনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।
কাজী সাইয়্যিদ আজিজুল হক উনাকে যেভাবে চাকরি দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রকল্পে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই পাশ্চাত্যের ঐসব ইহুদী-খ্রিস্টানরা বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের মেধাবী ছাত্রদেরকে (বিশেষ করে বাংলাদেশের ছাত্রদেরকে) স্কলারশিপ ও চাকরির লোভ দেখিয়ে তাদের দেশে নিয়ে যায় এবং ঐসব বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রকল্পে নিয়োগ দেয়। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-গোলাম মুর্শিদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৬)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শেখ চুল্লির দুনিয়াবী সম্পদ গড়ার অলীক কল্পনা এবং হাক্বীক্বত বাস্তবতা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৭)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












