প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা হারাম, যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৪)
, ০৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আঙুলের ছাপের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছু কথা:
প্রত্যেকটি মানুষই আলাদা আঙুলের ছাপ নিয়ে জন্ম নেয়। মায়ের রেহেমে অবস্থানের বারো সপ্তাহে শিশুর আঙুলের ছাপ তৈরী হওয়া শুরু করে। শিশুর ডিএনএ এবং ভ্রুণের নড়াচড়ার উপর ভিত্তি করে তৈরী হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট। যে কারণে আইডেন্টিকাল টুইন বা যমজ শিশুদের ডিএনএ এক হলেও তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কখনো এক হয় না।
মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শরীরের সব অংশেরই পরিবর্তন হতে থাকে। কিন্তু আঙুলের ছাপের কোন পরিবর্তন হয় না।
আঙুলের ছাপ সৃষ্টিকারী যে রেখাগুলো আঙুলের ডগায় দেখা যায়, তাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের ভাষায় বলে থাকে ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখা (ছবিতে দেখুন)।
এই ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখাগুলো শুধু আঙুলের ডগাতেই থাকে না, সাথে সাথে আঙুলের নীচের অংশে, হাতের তালুতে, পায়ের আঙুলে এবং পায়ের পাতাতেও এই ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখাসমূহ দেখা যায়। এই ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখাগুলো বয়সের সাথে অপরিবর্তনীয় থাকে। তবে রাজমিস্ত্রি তথা বাড়িঘর তৈরী বা ইট-সুরকি ওঠানামার কাজ করা, বা বিভিন্ন ক্ষয়কারী কাজ করা ব্যক্তিদের হাত বারবার ঘর্ষণের সম্মুখীন হওয়ায় আঙুলের ছাপ মলিন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তারা তাদের কাজগুলো বন্ধ করার পরপরই তাদের ক্ষয়প্রাপ্ত ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখাগুলো ফের তৈরী হয় এবং আঙুলের ছাপ আগের মতো হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
ফিঙ্গারপ্রিন্টের দ্বারা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করে থাকে। যে কারণে ইতিহাসের বিভিন্ন কুখ্যাত অপরাধীরা বারবার তাদের আঙুলের ছাপ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। অনেকে চেষ্টা করেছে ছুরি দিয়ে কেটে আঙুলের ছাপ বিকৃত করার। তাতে করে বড়জোর আঙুলে ছুরির দাগ বসে, কিন্তু দাগের চারপাশে ফ্রিকশন রিজ বা ঘর্ষণ রেখাগুলো অক্ষত থাকায় তা দিয়ে ঠিকই অপরাধীকে শনাক্ত করা যেতো। আমেরিকার কুখ্যাত অপরাধী জন ডিলিঞ্জার এসিড এবং আগুন দিয়ে ঝলসিয়ে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলতে চেয়েছিলো, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তার আঙুলের চামড়াগুলো ঠিক হতেই আঙুলের ছাপ ফের ফিরে আসে।
“ডযড় ডযধঃ ডযু: ঐড়ি ফঁৎধনষব রং ধ ভরহমবৎঢ়ৎরহঃ?” নামক বিবিসির একটি প্রতিবেদনে আঙুলের ছাপের স্থায়িত্ব নিয়ে বলা হয়েছে যে, মানুষের মৃত্যুর বহুদিন পরও তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট অক্ষত থাকে।
কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট শুধু এপিডার্মিস বা চামড়ার উপরের অংশেই থাকে না, তা চামড়ার নিচের স্তর বা ডার্মিসেও দেখা যায়। চামড়ার উপরের অংশে যে কোন একটি আঙুলের ছাপের রেখা বা ফ্রিকশন রীজের বিপরীতে তার নিচের স্তরের ডার্মিসে দুটি রেখা পাওয়া যায়, যাকে ফরেনসিক বা ময়নাতদন্তের ভাষায় বলা হয় ‘ট্রামলাইন ইফেক্ট’। অর্থাৎ যদি কোন মৃতদেহ পচে যাওয়ার কারণে তার চামড়ার উপরের অংশ বিকৃত হয়ে যায়, তারপরও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তার চামড়ার নিচের অংশের দ্বারা ব্যক্তিটির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বের করতে সক্ষম হয়। সুবহানাল্লাহ!
ফিঙ্গারপ্রিন্টের স্থায়িত্ব বোঝাতে বিবিসির রিপোর্টে এক ব্যক্তির উদাহরণ তুলে ধরা হয়, যে তার হাতের বেশকিছু আঙুল একটি সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় হারিয়েছিল।
মাছের পেটে পাওয়া আঙুল থেকে কিভাবে আঙুলের ছাপ পাওয়া গেল? সেটি তো হজম হয়ে যাওয়ার কথা। তা নিয়ে বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাছের পেটে আঙুলটির উপরের অংশ বা এপিডার্মিস সেই ব্যক্তির হাতের একটি আঙুল পাওয়া গিয়েছিল একটি সামুদ্রিক ট্রাউট মাছের পেটে। সেই আঙুলটির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছিল যে, আঙুলটি উক্ত ব্যক্তির। হজম হয়েছিল, কিন্তু ডার্মিসের কিছু অংশ অক্ষত ছিল। সেখান থেকেই আঙুলটি কার তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
প্লাস্টিক সার্জারি বা অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অপরাধীরা তাদের বাহ্যিক চেহারা ছবি পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে বহুবার ধোঁকা দিয়েছে, কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরিবর্তনের কোন নিয়ম তারা আজ পর্যন্ত বের করতে পারেনি। যে কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে এখন ছবি বা সিসি ক্যামেরার পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্টকেই অধিক প্রাধান্য দেয়া হয়।
অর্থাৎ খ¦লিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম কুদরত মুবারক লুকিয়ে আছে মানুষের এই আঙুলের ছাপের মধ্যে। পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যতো মানুষ দুনিয়াতে যেভাবে ছিল, ঠিক সেভাবেই তাদেরকে হাশরের ময়দানে পুনরুত্থিত করা হবে। এমনকি তাদের আঙুলের ছাপেরও কোন পরিবর্তন হবে না। সুবহানাল্লাহ! (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-গোলাম মুর্শিদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৬)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শেখ চুল্লির দুনিয়াবী সম্পদ গড়ার অলীক কল্পনা এবং হাক্বীক্বত বাস্তবতা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












