প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা হারাম, যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (২)
, ০৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রক্রিয়ার সুবিধা ও অন্যান্য প্রক্রিয়াসমূহের অসুবিধা:
কণ্ঠস্বর শনাক্তকরণও একটি অসুবিধাজনক প্রক্রিয়া ছিল। কারণ কণ্ঠস্বরের ওঠানামা বা অসুস্থতার কারণে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হলে সেটি যন্ত্রের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। কারো কণ্ঠস্বর রেকর্ড করে সেটি দিয়ে অন্য কারো কম্পিউটার বা স্মার্টফোন আনলক করে গোপনীয় তথ্য চুরি করার ঝুঁকি এই প্রক্রিয়ায় থেকে যায়। কারণ কম্পিউটারের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব হবে না যে, কণ্ঠটি রেকর্ড করা না আসল ব্যক্তির। যেহেতু কম্পিউটারের নিজস্ব কোন বুদ্ধি নেই, তাকে যেভাবে প্রোগ্রাম করা হয় সে সেভাবেই কাজ করে থাকে।
সে তুলনায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণের প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি দ্রুত, ঝামেলাহীন, ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই এবং স্বল্পমূল্যে ব্যবহারের উপযুক্ত। বিশেষ করে মোবাইল ডিভাইস আনলক করার ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর একটি মূল কারণ হলো, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর মোবাইল ফোনে সহজে স্থাপনযোগ্য। ফিঙ্গারপ্রিন্টের বৈশিষ্ট্যের কারণে এর দ্রুততা এবং অপপঁৎধপু অত্যন্ত বেশি, যা ছবি বা কণ্ঠস্বর দ্বারা সম্ভবপর নয়। ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ফ্রন্ট ক্যামেরার সামনে চেহারাটি ঠিকমতো রাখতে পারলে তবেই ক্যামেরার পক্ষে চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হয়, অন্যথায় সম্ভব হয় না। যার ফলে বারবার একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করতে হয়। কণ্ঠস্বরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, মোবাইল ডিভাইস আনলক করতে বারবার ব্যবহারকারীকে চেষ্টা করতে হয়।
কারণ বিভিন্ন সময়ে কণ্ঠস্বরের উঠানামার কারণে যন্ত্রের পক্ষে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। মোবাইল ডিভাইসের সেন্সরের উপর যেভাবেই আঙ্গুল রাখা হোক না কেন, অতিদ্রুত স্মার্টফোনের পক্ষে (০.৩ সেকেন্ড) ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত করা সম্ভবপর হয়। এই প্রক্রিয়ার অপপঁৎধপু অত্যন্ত বেশি, যে কারণে প্রথম চেষ্টাতেই মোবাইল ডিভাইসের পক্ষে ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত করে ফেলা সম্ভব হয়। ছবি বা কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়ার মতো এতে ব্যবহারকারীকে বারবার ফোন আনলক করার চেষ্টা করতে হয় না। সবকিছু মিলিয়ে পিন, পাসওয়ার্ড ও প্যাটার্ন লকসহ যত প্রক্রিয়া আছে মোবাইল ফোনের ংবপঁৎরঃু বা নিরাপত্তার জন্য, সেগুলোর তুলনায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক অনেক বেশি সুবিধাজনক ও দ্রুত হওয়ায় বর্তমানে এই প্রক্রিয়াই অধিকাংশ স্মার্টফোন ইউজার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে।
আঙুলের ছাপ কোন বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং চামড়ার আভ্যন্তরীণ স্তরের মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের জেনেটিক কোডের উপর নির্ভরশীল:
বিগত সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছিল যে, ফিঙ্গারপ্রিন্টের স্থায়িত্ব অত্যন্ত বেশি এবং সে কারণে যে কোন ব্যক্তি বা অপরাধীকে শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন অপরাধী তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছুরি দিয়ে কেটে, এসিড দিয়ে ঝলসিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি। কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট আঙ্গুলের বাইরের স্তরের কোন বৈশিষ্ট্য নয়, এটি আঙ্গুলের চামড়ার আভ্যন্তরীণ একটি বৈশিষ্ট্য যা মায়ের রেহেমে থাকা অবস্থায়ই মানুষ লাভ করে।
মানুষের চামড়ার মূলত তিনটি অংশ, এপিডার্মিস, ডার্মিস ও হাইপোডার্মিস। এপিডার্মিস হলো চামড়ার সবচেয়ে বাইরের অংশ, যা আমরা খালি চোখে দেখে থাকি। এপিডার্মিসের নীচের অংশটিকে বলা হয় ডার্মিস, যাকে ‘ট্রু স্কিন’ বা সত্যিকারের চামড়া বলা হয়। কারণ সবচেয়ে বাইরের এপিডার্মিস অংশটি এই ডার্মিস অংশের উপর ভিত্তি করেই তৈরী হয়, আর মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এই ডার্মিস অংশেরই একটি বৈশিষ্ট্য
চিত্র: ডার্মিসের উঁচুনিচু গঠন বা খাঁজের উপর ভিত্তি করে উপরের এপিডার্মিস অংশে আঙ্গুলের ছাপ তৈরী হয়ে থাকে।
সুতরাং কোন কারণে যদি বাইরের আঙুলের ছাপ ক্ষয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেক্ষেত্রে ভিতরের ডার্মিস অংশের উপর ভিত্তি করে সেই আঙ্গুলের ছাপ ফের আগের অবস্থায় ফেরত আসে। একারণে চাইলেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরিবর্তন করা যায় না, এসিড বা ক্ষয়কারী বস্তু দিয়ে বাহ্যিক পরিবর্তন আনলেও ডার্মিস অংশ অক্ষত থাকার কারণে সেই পরিবর্তন ক্ষণস্থায়ী হয়।
মানুষের আঙুলের চামড়ার ডার্মিস অংশে আঙ্গুলের ছাপ গঠিত হয় তার ভ্রুণাবস্থার ১০ম থেকে ১৭তম সপ্তাহের মধ্যে। ভ্রুণাবস্থায় হাত ও পায়ের আঙ্গুলের ডগা ও তালুতে এক ধরণের প্যাড গঠিত হয়, যাকে বলা হয় ঠড়ষধৎ ঢ়ধফ (ভোলার প্যাড)। এই ভোলার প্যাড সম্পূর্ণ মসৃণ হয়, কোন প্রকার ছাপ তাতে থাকে না। ভ্রুণাবস্থার ১০ম সপ্তাহে এই ভোলার প্যাডের বৃদ্ধি থেমে যায়, কিন্তু ভ্রুণের হাতের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এই সময়ে দৃশ্যমান ভোলার প্যাডগুলো আস্তে আস্তে হাতের মূল গঠনের মধ্যে মিশে যেতে শুরু করে। এই সময়েই মিলিয়ে যেতে থাকা ভোলার প্যাডগুলোর উপর আঙ্গুলের ছাপ দৃশ্যমান হতে শুরু করে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-গোলাম মুর্শিদ
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৬)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শেখ চুল্লির দুনিয়াবী সম্পদ গড়ার অলীক কল্পনা এবং হাক্বীক্বত বাস্তবতা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৭)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












