পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ২রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি গোশ্ত বিক্রেতার সাথে সাথে তার বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছলেন। যখন তার বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছলেন এবং তার ঘরে প্রবেশ করলেন তখন দেখলেন যে, তার বাড়ীতে কেউ নেই। প্রথমে মনে হলো সে একা। এরপর সে ব্যক্তি যে গোশতের টুকরাটা নিয়েছিল। সেটা চুলাতে বসালো। যেহেতু নরম গোশত ছিল তাই পাক করে সুরার মতো করে নিল অর্থাৎ সুপের মতো করে নিল। করে তার ঘরের এক কোণায় একটা বড় টুকরী ছিল; সে তার ভিতরে দু’হাত প্রবেশ করিয়ে একজন খুব বৃদ্ধা জয়ীফা মহিলাকে বের করে নিয়ে আসল। এতো দূর্বল বা জয়ীফা হয়ে গেছে যে মনে হচ্ছে কবুতরের বাচ্চার মতো। অতঃপর হাত মুখ ধোয়ায়ে সেই গোশতের সুরাগুলো পান করালো। পান করিয়ে আবার হাত মুখ ধোয়ায়ে কাপড় পরিবর্তন করে যথাস্থানে রেখে দিলো।
যখন সে খাওয়ালো, পান করালো এবং হাত মুখ মুছে দিলো তখন সে বৃদ্ধা মহিলা যেন চুপে চুপে বিড় বিড় করে কি বললো। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত মূসা কালীমুুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি দূর থেকে সেটা লক্ষ্য করলেন এবং তিনি তার প্রত্যেকটা কাজ-কাম, উঠা-বসা লক্ষ্য করতেছিলেন।
যখন তার সে কাজ সমাধা হলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন হে ভাই, এই যে একটা বৃদ্ধা মহিলা তুমি যাকে খাওয়ালে, পান করালে, কাপড়-চোপড় পালটালে, হাত-মুখ ধুয়ে দিলে, এটা কে? তখন সেই গোশ্ত বিক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো যে, এই মহিলা হচ্ছেন আমার মাতা। উনাকে দেখার মতো আমি ছাড়া এই জমিনে আর কেউ নেই এবং তিনি এতো জয়ীফা এত দুর্বলা হয়েছেন যে উনার পক্ষে উঠা, বসা, চলা-ফেরা কোনটা করাই সম্ভব নয়। তাই উনার তরফ থেকে কাজগুলো আমিই করে দেই। অর্থাৎ উনাকে হাত মুখ ধোয়ানো, গোসল করানো, কাপড় পালটানো যা রয়েছে, খাদ্য খাওয়ানো, পানি পান করানো সবটাই আমি করে দিয়ে থাকি। সেজন্য আমি নির্দ্দিষ্ট সময় করে নিয়েছি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি সেটা করে দেই।
তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, তুমি যখন খাওয়ালে, পান করালে, হাত মুখ মুছে দিলে তখন তোমার মাতা মনে হচ্ছিল কি যেন বলতেছিলেন।
সেটা শুনে লোকটা একটু লজ্জিত হলো ও বলল, প্রত্যেকের মা তার সন্তানের জন্য অনেক দোয়া করে থাকেন। তা আমার মাও আমার জন্য অনেক দোয়া করে থাকেন।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি বলতেছিল তোমার মাতা? সে লোকটা বারবার সে কথা এড়িয়ে যাচ্ছিল।
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সেটা শুনেছিলেন, তিনি শুনে বললেন যে দেখ, তোমার মা বলেছে যে, আল্লাহ পাক! আমার ছেলেকে মূসা আলাইহিস সালাম উনার বেহেশতের সঙ্গী করে দিন। সে লোক সেটা স্বীকার করলো যে, হ্যাঁ, আমার মা প্রত্যেকদিন এ দোয়া করে থাকেন।
খাওয়া-দাওয়া করানোর পর হাত-মুখ মুছে দেয়ার পর, তিনি দোয়া করেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমার এই সন্তানকে আপনার নবী, আপনার রাসূল, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বেহেশতের সঙ্গী করে দিন। এটা বলে সে লজ্জা অনুভব করলো সে বললো, মাতো অনেক কিছু বলে থাকে আপনি কিছু মনে করবেন না।
সে যেহেতু উনাকে চেনেনা তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে দেখ, তোমার মা যে তোমার জন্য দোয়াটা করে থাকেন সে দোয়াটা মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন।
যখন একথা তিনি বললেন তখন সে লোক জানতে চাইলো, আপনি কি করে জানলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মায়ের দোয়া কবুল করেছেন।
তখন কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে দেখ, তুমি তো আমাকে চেনো না, আমি হচ্ছি- মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম আলাইহিস সালাম।
তিনি ওটা বলার সাথে সাথে সে লোকটা এক প্রকার চমকে উঠে বললো আপনি বলেন কি! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি আমার ঘরে এসেছেন! এখানে বসে রয়েছেন! আপনি এখনো আমাকে তো জানাননি! হয়তো আমার কোন বেয়াদবী হয়ে যেতে পারে অথবা আমার কোন ক্রটি হয়ে গেছে এর মধ্যে। আপনি দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন, মাফ করবেন।
এরপর লোকটি আরও বললো- আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি এখানে এসেছেন কি কারণে?
হযরত কালীমুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন দেখ, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে আমার জান্নাতে সঙ্গী করেছেন। সেটা আমি দেখার জন্য এসেছি কোন্ আমলের কারণে তুমি আমার সঙ্গী হলে। তার একমাত্র কারণ ছিল যে, তুমি তোমার মায়ের খেদমত খালিছভাবে করেছো। তোমার মা তোমার জন্য দোয়া করেছেন এবং সেই দোয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন যে- মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার ছেলেকে আপনি হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বেহেশতের সঙ্গী হিসেবে কবুল করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (১)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৫)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












