সুন্নত মুবারক তা’লীম
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
, ০৭ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক। এমনকি কাউকে সেটা হাদিয়া দেয়াও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ امام الاول كرم الله وجهه عَلِيْهِ السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمُ اَتَى حَضْرَتْ امام الاول كرم الله وجهه عَلِيْهِ السَّلَامُ وَ النُّوْر الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَهُـمَا فِىْ خَـمِيْلٍ لَـهُمَا وَالْـخَمِيْلُ الْقَطِيْفَةُ الْبَيْضَاءُ مِنَ الصُّوْفِ قَدْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمُ جَهَّزَهُـمَا بِـهَا وَوِسَادَةٍ مَـحْشُوَّةٍ اِذْخِرًا وَقِرْبَةٍ.
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনলেন। তখন উনারা উনাদের একটি সাদা পশমী চাদরে আবৃত ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা উনাদেরকে পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ উপলক্ষ্যে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। তিনি আরও হাদিয়া মুবারক করেছিলেন ইযখির ঘাস ভর্তি একটি বালিশ এবং পানির একটি মশক। ” (ইবনে মাজাহ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৪১৫২)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফে যেসকল হাদিয়া মুবারক ছিলো, তন্মধ্যে অন্যতম হাদিয়া মুবারক ছিলো, “পানির মশক”।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
فَأَخْرُجُ حَتَّى جِئْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ يَرْقَى عَلَيْهَا بِعَجَلَةٍ، وَغُلاَمٌ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْوَدُ عَلَى رَأْسِ الدَّرَجَةِ؛ فَقُلْتُ لَهُ: قُلْ هذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلِيْهِ السَّلَامُ ، فَأَذِنَ لِي قَالَ حَضْرَتْ اَلْفَارُوْق الْاَعْظَم عَلَيْهِ السَّلَامُ: فَقَصَصْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هذَا الْحَدِيثَ، فَلَمَّا بَلَغْتُ حَدِيثَ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتنَا حَضْرَتْ اَلسَّادِسَة عَلَيْهَا السَّلَامُ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنَّهُ لَعَلَى حَصِيرٍ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ شَيْءٌ، وَتَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، وَإِنَّ عِنْدَ رِجْلَيْهِ قَرَظًا مَصْبُوبًا، وَعِنْدَ رَأْسِهِ أَهَبٌ مُعَلَّقَةٌ؛ فَرَأَيْتُ أَثَرَ الْحَصِيرِ فِي جَنْبِهِ، فَبَكَيْتُ؛ فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ كِسْرى وَقَيْصَرَ فِيمَا هُمَا فِيهِ، وَأَنْتَ رَسُولُ اللهِ فَقَالَ أَمَا تَرْضى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيا وَلَنَا الآخِرَةُ.
অর্থ: (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন) আমি কাপড় নিয়ে বেরিয়ে চলে আসলাম। গিয়ে দেখলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি উঁচু কক্ষে অবস্থান করছেন। সিঁড়ি বেয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। সিঁড়ির মুখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন কালো বর্ণের গোলাম বসা ছিলেন। আমি বললাম, বলুন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এসেছেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে অনুমতি মুবারক দিলেন, আমি উনাকে এসব ঘটনা বললাম, এক পর্যায়ে আমি যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু সালামাহ আলাইহাস সালাম) উনার কপোপকথন পর্যন্ত পৌঁছলাম তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুত তাক্বরীর মুবারক (মহাসম্মানিত মুচকি হাসি মুবারক) দিলেন। এ সময় তিনি একটা চাটাইয়ের উপর মহাসম্মানিত শোয়া মুবারক অবস্থায় ছিলেন। চাটাই এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে আর কিছুই ছিল না। উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাথা মুবারক) উনার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার একটি বালিশ এবং পা মুবারকের কাছে ছিল সল্লম বৃক্ষের পাতার একটি স্তূপ ও নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাথা মুবারক) উনার উপর লটকানো ছিল চামড়ার একটি পানির মশক। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একপার্শ্বে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কেন কাঁদছেন? আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিসরা ও কায়সার পার্থিব ভোগ-বিলাসের মধ্যে ডুবে আছে, অথচ আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি পছন্দ করেন না যে, তারা দুনিয়া লাভ করুক, আর আমরা আখিরাত লাভ করি। (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ৪৯১৩; মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ১৪৭৯)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণীত হয় যে, চামড়ার বালিশ ও পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৩)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (১)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৪)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মৃত ব্যক্তির কবরে তালক্বীন দেওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১)
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মাইয়্যিতের জানাযা নামাযের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (২)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












