পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (২)
, ০৮ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
حٰم وَالْكِتٰبِ الْمُبِيْنِ اِنَّا اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةٍ مُّبٰرَكَةٍ اِنَّا كُنَّا مُنْذِرِيْنَ فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِيْمٍ
অর্থ: “হা-মীম হুরূফে মুক্বত্বয়াত শরীফ। প্রকাশ্য কিতাব উনার ক্বসম। আমি যাকে এক বরকতময় রাতে নাযিল করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। উক্ত রাত মুবারকে প্রত্যেক প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহ ফায়ছালা করা হয়।” সুবহানাল্লাহ!” (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমি এক বরকতময় রাতে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি। মূলত এর হাক্বীক্বী অর্থ হবে, আমি এক বরকতময় রাতে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেটা পরবর্তী পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِيْمٍ
অর্থ: এই পবিত্র রাত মুবারকে প্রত্যেক প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহ ফায়ছালা করা হয়। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের তাফসীর দেখলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে খাযিনে” উল্লেখ আছে-
وَقِيْلَ هِىَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اِلٰى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِاَكْثَرِ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ بَنِىْ كَلْبٍ.
অর্থ: “আরো বলা হয়, এটা হচ্ছে পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্যরাত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্যরাতে দুনিয়ার আসমানে নাযিল হন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর বনূ কালব গোত্রের মেষের শরীরের পশমের চেয়েও অধিক পরিমাণ বান্দা-বান্দীদেরকে ক্ষমা করে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে খাযিন ৪/১১৭)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
وَاحْتَجَّ الْاٰخَرُوْنَ عَلٰى اَنَّهَا لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ بِاَنَّهَا لَهَا اَرْبَعَةُ اَسْمَاءٍ اَللَّيْلَةُ الْمُبَارَكَةُ وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ وَلَيْلَةُ الصَّكِّ وَلَيْلَةُ الرَّحْمَةِ وَلِاَنَّهَا مُخْتَصَّةٌ بِخَمْسِ خِصَالٍ اَلْاُوْلٰى قَالَ تَعَالٰى {فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِيْمٍ}
অর্থ: “আর অপর পক্ষের উলামায়ে কিরাম দলীল পেশ করেন যে, এটা হচ্ছে পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্যরাত। কেননা এই সম্মানিত রাত মুবারক উনার ৪ খানা নাম রয়েছেন। (যেমন) ১. লাইলাতুম মুবারকাহ ২. লাইলাতুল বারায়াত ৩. লাইলাতুছ ছক ৪. লাইলাতুর রহমাত। এই সম্মানিত রাত মুবারক ৫টি বিষয়ের জন্য খাছ। তারমধ্যে প্রথম হচ্ছে- যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই পবিত্র রাত মুবারকে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়সমূহ ফায়ছালা করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরুল লুবাব লি ইবনে আদিল পৃষ্ঠা নং ৪৫১১, আল লুবাব ফী উলূমিল কিতাব)
পবিত্র সূরা দুখান শরীফ উনার ৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে হযরত ইকরিমা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
فِىْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يُبْرَمُ فِيْهِ اَمْرُ السَّنَةِ وَتُنْسَخُ الْاَحْيَاءُ مِنَ الْاَمْوَاتِ وَيُكْتَبُ الْحَاجُّ فَلَا يُزَادُ فِيْهِمْ اَحَدٌ وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ اَحَدٌ
অর্থ: “পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্য রাতে (পবিত্র শবে বরাতে) আগামী এক বছরের সমস্ত বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। এই বছরে কতজন জন্মগ্রহণ করবে, কতজন ইন্তেকাল করবে সেটাও লিপিবদ্ধ করা হয়। যারা পবিত্র হজ্জ করবেন উনাদের নামসমূহ লেখা হয়। যাদের নাম লেখা হয় উনাদের থেকে বাড়ানোও হয় না কমানোও হয় না। অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাতে যাদের নাম লেখা হয় উনারাই শুধু ঐ বছর পবিত্র হজ্জ পালন করতে পারেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ত্ববারী ২১/৯, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ১০/৩২৮৭, তাফসীরে মাযহারী ৮/৩৬৮ ইত্যাদি)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা আবশ্যক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬ষ্ঠ পর্ব)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৮)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












