পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ২৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
পবিত্র নামাযের ওয়াজিবসমূহ :
সম্মানিত নামাযের ওয়াজিবগুলো প্রায় ফরযের মতোই গুরুত্ব বহন করে, যে কারণে ওয়াজিব ব্যতীত শুধু ফরয পালন করেই নামায আদায় করলে নামায পূর্ণভাবে আদায় হয় না। ইচ্ছাকৃত কোনো ওয়াজিব তরক করলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব। আর ভুলক্রমে কোনো ওয়াজিব তরক হয়ে গেলে সিজদায়ে সাহু দেয়া ওয়াজিব।
ওয়াজিবসমূহ হলো:
১. ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকায়াতে এবং বিতির, সুন্নত ও নফল নামাযের মধ্যে প্রত্যেক রাকায়াতে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করা। পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফের সাত আয়াত শরীফ ৭টি ওয়াজিব।
২. পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফের সাথে অন্য একটি পবিত্র সূরা শরীফ মিলানো।
৩. সম্মানিত নামাযের রুকন বা ফরয ও ওয়াজিবসমূহ তরতীব অনুযায়ী আদায় করা, অর্থাৎ প্রত্যেক ফরয, ওয়াজিব তার যথাস্থানে আদায় করা। যেমন- ক্বিরায়াতের পরেই রুকূ’ করা ফরয। অতএব, যদি কেউ ক্বিরাআত পড়ে সন্দেহ করে যে, ক্বিরাআত পড়েছি কিনা, যদি এ চিন্তায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় বিলম্ব করে, তবে ওয়াজিব তরক হবে। কারণ ফরয যথাস্থানে আদায় করতে বিলম্ব হয়েছে।
অথবা পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়ার পরই পবিত্র সূরা শরীফ মিলানো ওয়াজিব। যদি কেউ পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়ে রুকূ’ করার পর মনে করে যে, পবিত্র সূরা শরীফ মিলায়নি, তবে এতে ওয়াজিব তরক হয়েছে, কারণ পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফের পরেই অন্য পবিত্র সূরা শরীফ মিলানো ওয়াজিব ছিলো।
৪. প্রথম বৈঠক করা। অর্থাৎ চার বা তিন রাকায়াত বিশিষ্ট নামাযের মধ্যে দুই রাকা‘আতের পর বসা।
৫. উভয় বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করা।
৬. সালাম ফিরিয়ে নামায হতে বের হওয়া।
৭. বিতির নামাযের মধ্যে দু‘আ কুনূত পাঠ করা এবং দু‘আ কুনূত পাঠের পূর্বে তাকবীর বলা।
৮. বিতির নামাযের প্রত্যেক রাকায়াতে পবিত্র সূরা শরীফ মিলানো।
৯. পবিত্র ঈদের নামাযের মধ্যে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।
১০. পবিত্র ঈদের নামাযের মধ্যে দ্বিতীয় রাকায়াতে রুকূ উনার তাকবীর বলা।
১১. ত’াদীলে আরকান অর্থাৎ থেমে থেকে সুস্থিরভাবে নামাযের রুকনসমূহ আদায় করা। তাড়াতাড়ি না করা। যেমন- রুকূ’, সিজদা, ক্বওমা ও জলসার মধ্যে এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা।
১২. ক্বিরায়াতের জন্য প্রথম দুই রাকায়াতকে নির্দিষ্ট করা।
১৩. ইমামের আগে কোনো কিছু না করা।
১৪. ইমামের ক্বিরাআত পাঠকালে মুক্তাদীর চুপ থাকা।
১৫. যেহরী নামাযের মধ্যে প্রথম দুই রাকায়াতে ইমামের প্রকাশ্য বা সশব্দে ক্বিরাআত পড়া এবং সেররী নামাযের মধ্যে ইমাম ও একা নামাযীর চুপে ক্বিরাআত পাঠ করা। (ফজর, মাগরিব, ইশা, ঈদ, জুমুয়া, তারাবীহ ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের মধ্যে বিতির হলো যেহরী নামায। এতদ্ব্যতীত দিবাভাগের সবই সেররী নামায)।
১৬. প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করে পরক্ষণেই দাঁড়ানো। তাশাহহুদ পড়ার পর আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন পর্যন্ত পড়লেই ওয়াজিব তরক হবে। কিন্তু চার রাকায়াত বিশিষ্ট নফল বা সুন্নতে যায়িদাহ নামাযের মধ্যে তাশাহহুদের পর সম্পূর্ণ দুরূদ শরীফ এবং দু‘আ মা’ছূরা পড়লে ওয়াজিব তরক হবে না।
১৭. এক রাকায়াতে তিন সিজদা না করা।
১৮. নাসিকা ও কপাল দ্বারা সিজদা করা।
১৯. মাছবূক ব্যক্তির ইমামের প্রত্যেক বৈঠকে তাবেদারী করার জন্য বসা।
২০. নামাযের মধ্যে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ ভুলে না পড়ে অন্য পবিত্র সূরা শরীফ পড়ে যদি মনে হয় যে, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়েনি, তবে এ অবস্থায় সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। সিজদা সাহু দিলেই নামায আদায় হয়ে যাবে।
২১. ইমামের নামাযের মধ্যে ওয়াজিব তরক হলে ইমাম যদি তার প্রতিকার বা ব্যবস্থা না করে, তবে মুক্তাদীর জন্য ওয়াজিব যে, পুনরায় নামায দোহারায়ে পড়া। কিন্তু জুমুয়াহ নামাযের ক্ষেত্রে, ইমাম ব্যবস্থা না নিলে অর্থাৎ পুনরায় নামায না দোহরালে মুক্তাদীগণের কর্তব্য হচ্ছে ইহ্তিয়াতুয যোহর ৪ রাকা’আত আদায় করে নেয়া। আর ঈদ উনার নামায হলে, ওয়াক্ত থাকলে, ইমাম মুক্তাদী উভয়ের জন্যই উক্ত নামায দোহরানো ওয়াজিব।
আর ইমাম যদি নামায না দোহরায় তাহলে মুক্তাদীগণের পক্ষে সম্ভব হলে নামায দোহারায়ে পড়বে। অন্যথায় ইস্তিগফার-তওবা করবে। অতঃপর দু’ রাকায়াত নফল নামায আদায় করে নিবে।
২২. ‘আল্লাহু আকবার’ কালাম নির্দিষ্ট করতঃ তাকবীরে তাহরীমা বলা।
২৩. মুক্তাদী বৈঠকে প্রথম তাশাহহুদ পাঠের পূর্বে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদীর ওয়াজিব যে, তাশাহহুদ পূর্ণ করে উঠে ইমামের সাথে দাঁড়ানো।
কিন্তু শেষ বৈঠকে মুক্তাদীর তাশাহহুদ পড়ার পূর্বে ইমাম যদি সালাম ফিরায়, তাহলে মুক্তাদী শুধুমাত্র তাশাহহুদ শেষ করেই সালাম ফিরিয়ে ফেলতে হবে। দুরূদ শরীফ ও দু‘আ মাছূরা পড়ার জন্য বিলম্ব করতে হবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৭ম পর্ব)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্দে নহম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৩)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হক্কানী-রব্বানী আলিম তথা ওলীআল্লাহ উনাদের সাথে তায়াল্লুক বা সম্পর্ক রাখা পরকালে নাযাত লাভের অন্যতম উছীলা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির-ফিকিরে থাকা লাখ-লাখ তখতে সুলায়মানী থেকে উত্তম
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৩)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (২)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৫ম পর্ব)
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












