পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ১৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২০ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র নামাযের প্রকার:
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা নামায উনাকে কয়েক শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যেমন- ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ও মুস্তাহাব। উক্ত প্রত্যেক প্রকার নামাযের বিবরণ নিম্নরূপ:
ফরয নামায: এ নামায দু’প্রকার।
(ক) ফরযে আইন- যা প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ঈমানদার নর-নারীর জন্য আদায় করা ফরয। যেমন- পাঁচ ওয়াক্তের ফরয নামায ও জুমুয়া উনার ফরয নামায।
(খ) ফরযে ক্বিফায়া- এ নামাযও সকল মুসলমানেরই আদায় করা ফরয, কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক এ নামায আদায় করলে সকলের উপর হতে ফরয রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউই আদায় না করে, তবে সকলেই গুনাহগার হবে। যেমন- জানাযা নামায।
ওয়াজিব নামায: যেসব নামায দলীলে যন্নী দ্বারা পড়া স্থির হয়েছে, তা ওয়াজিব। যেমন- দু’ঈদের নামায, বিতির, মান্নত ও যে নফল নামায আরম্ভ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সুন্নত নামায: এ নামায দু’প্রকার-
(ক) সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফরয ও ওয়াজিব ব্যতীত যেসব নামায সদা-সর্বদা আদায় করেছেন। যেমন- যোহর উনার ফরয নামাযের পূর্বে এক সালামে ৪ রাকায়াত ও জুমুয়া উনার ফরয উনার পূর্বে এক সালামে ৪ রাকায়াত। জুমুয়া উনার ফরয বাদ এক সালামে ৪ রাকায়াত, তৎপর ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত। ফজরের ফরয নামাযের পূর্বে, যোহর, মাগরিব ও ইশা উনাদের ফরয নামাযের পরে দু’ দু’ রাকায়াত করে সর্বমোট ৮ রাকায়াত ও ২০ রাকায়াত তারাবীহ নামায।
(খ) সুন্নতে যায়িদাহ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেসব নামায সর্বদা পড়তেন না, বরং মাঝে মধ্যে পড়তেন যেমন- আছর ও ইশা’র পূর্বে এক সালামে চার রাকায়াত করে সর্বমোট আট রাকায়াত। এছাড়া তাহাজ্জুদ নামাযও সুন্নতে যায়িদাহ’র অন্তর্ভুক্ত।
মুস্তাহাব নামায: যে নামাযের দ্বারা বিশেষ নেকী ও ফযীলত হাছিল হয়। যেমন- আওওয়াবীন, ইশরাক, দ্বুহা বা চাশত, যাওয়াল ও ছলাতুত্ তাছবীহ ইত্যাদি।
নফল নামায: যে নামায উচ্চ মর্যাদা হাছিলের উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। যেমন- যোহর, মাগরিব, ইশা’র সুন্নতের পর ও বিতির নামাযের শেষে দুই রাকায়াত হালকী নফল নামায। এছাড়া যেকোনো সময় নফলের নিয়তে নামায আদায় করা।
উল্লেখ্য, ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামায তরককারী ফাসিক। পক্ষান্তরে ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামায যথাযথভাবে আদায়ের সাথে সাথে সুন্নতে যায়িদাহ, মুস্তাহাব ও নফল আদায়কারী বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদার অধিকারী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে তিনটি দরজা খোলা হয়-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












