প্রসঙ্গ: ভোটাভুটি ও নির্বাচন:
পবিত্র দ্বীন ইসলামে খলিফা মনোনয়ন ও গণতন্ত্রে শাসক নির্বাচনে পদ্ধতিগত পার্থক্য
, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ভোটাভুটিতে জনগণের আইনের শাসন কতটুকু প্রতিষ্ঠা পায় তা প্রশ্নের বিষয়। কারণ বর্তমানে সংসদে যে সমস্ত আইন পাশ হয়, তাতে জনগণের চিন্তাধারা থাকে না, বরং রাজনৈতিক বা সরকার দলীয় চিন্তাধারা থাকে। অর্থাৎ নতুন আইন পাশে ক্ষমতাসীন দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই এমপিকে ঐ আইনের পক্ষে থাকতে হবে। কিন্তু ঐ আসনের জনগণ উক্ত আইনের পক্ষ না বিপক্ষে আছেন, সেই কথা যাচাইয়ের সুযোগ নেই।
আসলে যে জনগণ ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করে, সে নিজেও কতটুকু বুঝে একজন এমপির কাজ কি? সে শুধু এতটুকু বুঝে, ঐ এমপি ক্ষমতায় গেলে তার এলাকার কথা সংসদে বলবে, আর তাতেই সরকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, সেতু বানাবে অর্থাৎ ইট-বালু-সিমেন্টের উন্নয়ন ছাড়া মানুষ আর কিছু বুঝে না।
কিন্তু একজন এমপির কাজ যে আইনও প্রণয়ন করা, সেটা কিন্তু সাধারণ জনগণ জানে না। এমপি অর্থ পার্লামেন্ট মেম্বার বা সংসদ সদস্য। সংসদ হচ্ছে এমন স্থান যেখানে আইন প্রণয়ন করা হয়। আর সংসদ সদস্য হচ্ছে ‘যিনি আইন প্রণয়ন করে’। তার মানে জনগণ কোন প্রার্থীকে এ কারণেও ভোট দেয় যে, সে তার প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে আইন প্রণয়ন করবে।
এখানে আসলেই সমস্যা। যারা ভোট দিচ্ছে তার অধিকাংশই জানে না, একজন জনপ্রতিনিধি বা এমপির কাজ কি কি? দেখা যাবে, ১০০০ জনের মধ্যে ৯৯০ জন বিষয়টি জানে না। হতে পারে মাত্র ১০ জন জানেন। কিন্তু ভোট-নির্বাচন পদ্ধতিতে সেই ৯৯০ জনের প্রত্যেকের ভোটের মান ১। আবার ১০ জন যারা জানেন, তাদের প্রত্যেকের ভোটের মানও ১। অর্থাৎ নির্বাচনে মূর্খ-শিক্ষিত সবার ভোটের মান সমান। এজন্য কেউ যদি এমপি পদে নির্বাচিত হতে চায়, তবে সেই ৯৯০ জন মূর্খের অধিকাংশের ভোট পেলেই হবে, ১০ জন শিক্ষিতের ভোট না পেলেও চলবে। এজন্য গণতন্ত্রকে বলা হয় মূর্খের শাসন। কারণ যে যত বেশি মূর্খের ভোট পাবে, সে তত বেশি ক্ষমতায় যাবে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রকৃত আইনের শাসন নয়, বরং মূর্খের তৈরী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
এজন্য দেখবেন, মূর্খ মানুষরা যাদেরকে বেশি চিনে, মানে খেলোয়াড়, নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকা, টিকটকার সব নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাদেরকে মানুষ চিনে বেশি, টেলিভিশন, সিনেমা, টিকটকে দেখে বেশি। তারা ভালো খেলতে পারে, তারা ভালো গান গাইতে পারে, তারা ভালো অভিনয় করতে পারে। কিন্তু তারা ভালো আইন প্রণয়ন করতে পারবে কি না, জনগণের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, সেই যোগ্যতা তাদের আছে কি না, সেটা অধিকাংশ জনগণেরই জানা নাই। তাকে টেলিভিশন বা টিকটকে দেখছে, এটাই তার যোগ্যতা।
পবিত্র দ্বীন ইসলামে শাসন পদ্ধতি বা খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াতে তাই এমন ভোট বা নির্বাচন পদ্ধতি নেই। দ্বীন ইসলামে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঐ বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণই ঠিক করেন, কে শরীয়ত অনুসারে খিলাফত পরিচালনা করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে খলীফা নিজেই পরবর্তী খলীফা কে হবেন, তা মনোনীত করে যান। কারণ খলীফা নিজেই সর্বাধিক এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হোন।
এ বিষয়টি আমরা হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে দেখতে পাই। দ্বীন ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে কিন্তু সব ছাহাবীগণ মিলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন নাই। বরং উক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কয়েকজন ছাহাবী আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফসমূহকে অনুসরণ করে উনাকে ১ম খলীফা হিসেবে মনোনয়ন করেছেন। আবার দ্বিতীয় খলীফা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিও একইভাবে মনোনীত হয়েছেন। সকল মানুষের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি হন নাই, বরং প্রথম খলীফা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে ২য় খলীফা হিসেবে মনোনীত করেছেন। কারণ খলীফা হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রজ্ঞাবান ও উক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
এখানেই আসলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য। গণতন্ত্রে মূর্খদের সিদ্ধান্তে শাসক নির্বাচিত হয়, অপরদিকে পবিত্র দ্বীন ইসলামে খলীফা মনোনিত হোন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের সিদ্ধান্তে। পার্থক্যটা সেখানেই।
-আহসান হাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












