পবিত্র তারাবীহ নামাযে ও অন্যান্য সময় পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িজ (২)
, ২৫ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৮ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ১১ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত বা খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীলসমূহ:
পবিত্র কুরআন শরীফ খতম বা তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয হওয়ার স্বপক্ষে অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীলসমূহ নি¤েœ পেশ করা হলো-
তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খ- ৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وَافْتَى الْـمُتَأَخِّرُوْنَ بِصِحَّةِ الْاُجْرَةِ لِلْاٰذَانِ وَالْاِقَامَةِ وَالتَّذْكِيْرِ وَالتَّدْرِيْسِ وَالْـحَجِّ وَالْغَزْوِ وَتَعْلِيْمِ الْقُرْاٰنِ وَالْفِقْهِ وَقِرَائَتِـهِمَا لِفُتُوْرِ الرُّغْبَاتِ الْيَوْمَ.
অর্থ : “বর্তমানে দান-খয়রাতে আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে উলামায়ে মুতাআখ্খিরীন উনারা আযান, ইক্বামত, ওয়াজ, শিক্ষকতা, হজ্জ, জিহাদ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও ফিক্বাহ্ শিক্ষা দিয়ে ও ফিক্বাহ্ এবং পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা ছহীহ্ অর্থাৎ জায়িয ফতওয়া দিয়েছেন। ”
তাফসীরে ইকলীল ৫ম খ-, ২১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
كَذَالِكَ اَلَّفَ رِسَاَلَةً الشَّيْخُ صَالِـحٌ الدَّسُوْقِىُّ سَـمَّاهَا كَشْفَ الْغُمَّةِ رَادًّا فِيْهَا عَلَى الْبَرْكُوِىِّ وَرِسَالَةً الْـمَنْقِيْـحِ وَاَتٰى بِنُقُوْلٍ عَنِ الْـمَذَاهِبِ الْاَرْبَعَةِ فِىْ صِحَّةِ الْاِسْتِيْجَارِ عَلَى التِّلَاوَةِ وَهٰكَذَا اَفْتٰى بِالْـجَوَازِ مُفْتِىُ مَكَّةَ الْـمُكَرَّمَةِ مَوْلَانَا عَبْدُ الرَّحْـمٰنِ سِرَاجٌ وَمُفْتِىُ مَدِيْنَةَ الْـمُنَوَّرَةِ مَوْلَانَا مُـحَمَّدٌ تَاجُ الدِّيْنِ الْاِلْيَاسُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَا.
অর্থ: “অনুরূপ শায়েখ ছালেহ্ দাসুক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একখানা কিতাব রচনা করেন, যার নাম রাখা হয়, “কাশফুল গুম্মাহ” তিনি উক্ত কিতাবে বরকূবী ও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কিতাবের মত রদ করে দেন এবং পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয হওয়া সম্পর্কে চার মায্হাবের বহু বর্ণনা উল্লেখ করেন। তদ্রƒপ পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মুফতী, মাওলানা আব্দুর রহমান সিরাজ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মুফতী, মাওলানা মুহম্মদ তাজুদ্দীন ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয ফতওয়া দিয়েছেন।
তাফসীরে আযিযী, ২০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
محققین علماء قاعدہ مقرر کردہ اند کہ .. ہرچہ در حق شخص عبادت باشد- خواہ فرض عین خواہ فرص کفایۃ خواہ سنت مؤکدہ بران اجرت گرفتن جائز نیست مثل تعلیم قران، وحدیت وفقہ ونماز وروزہ وتلاوت وذکر وتسبیح وانچہ ہہیچ وجہ عبادت نیست مباح محض است بران اجرت گرفتن جائزا ست مثل رقیہ کردن بقران یا تعویذ نوشتن وامثال ذالک- وعبادات کہ سبب تعیین مدت یا تخصیص مکان مباح میشوند- نیز برانہا اجرت گرفتن جائزاست- مثل تعلیم قران بطفل کسی درخانہ ء او ازصبح تا شام.
অর্থ : “মুহাক্কিক (সূক্ষ্ম তত্ত্ববিদ) আলিম উনারা একটি মূল্যবান (কায়েদা) নিয়ম স্থির করেছেন যে, যা মানুষের প্রতি ইবাদত হিসাবে সাব্যস্ত, যেমন- ফরযে আইন হোক অথবা ফরযে কিফায়া বা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ হোক, যথা- পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহ্ পাঠ করে এবং নামায, রোযা, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, যিকির ও তাস্বীহ্ পাঠ করে ইত্যাদির বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয নেই। আর যে সকল ইবাদতসমূহ কারো জন্যে ইবাদত নয় (অর্থাৎ ফরয-ওয়াজিব নয়) বরং স্পষ্ট মুবাহ্ কাজ হিসাবে সাব্যস্ত, যেমন- পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করে শরীরে ফুঁক দেয়া, তাবীজ লেখা ইত্যাদির বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয এবং যে সকল ইবাদত সময় অথবা স্থান নির্ধারণ করাতে মুবাহ্ হয়ে যায়, যেমন- কারো সন্তানকে তার ঘরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা দিবে, এরূপ ইবাদতের বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয। ”
উল্লেখিত ইবারতে মূলতঃ তিনটি ছূরত বা অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে-
১. যে সকল ইবাদতগুলো ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্, তার বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হারাম। (মুতাক্বাদ্দিমীন উনাদের মতে)
২. যে সকল ইবাদতগুলো খাঁটি মুবাহ্ কাজ, তার বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয, যেমন- তাবীজ লিখে।
৩. (মুতাআখ্খিরীন উনাদের মতে) সময় অথবা স্থান নির্ধারণ করে দেয়াতে ইবাদতসমূহ মুবাহ্ কার্যে পরিণত হয়ে যায়, তখন তার পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও জায়িয হয়ে যায়। কারণ সে সময় অথবা স্থানের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়।
অতএব, তাকে যে পারিশ্রমিক দেয়া হবে, ওটা তার সময় অথবা স্থানে আবদ্ধ থাকার কারণে, ইবাদতের বিনিময়ে নয়। সুতরাং সময় অথবা স্থান নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে আযান, ইমামতি, হজ্জ, জিহাদ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও ফিক্বাহ্ শিক্ষা দিয়ে যেরূপ উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয, তদ্রুপ পবিত্র কুরআন শরীফ খতম বা পাঠ করেও উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












