ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬১)
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩৭৩)
أن طاعة الله وطاعة رسوله واجبة قطعا، وعندنا أن طاعة أهل الإجماع واجبة قطعا، وأما طاعة الأمراء والسلاطين فغير واجبة قطعا، بل الأكثر أنها تكون محرمة لأنهم لا يأمرون إلا بالظلم.
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব অর্থাৎ ফরযে আইন। আমাদের মতে ইজমাকারীগণ উনাদেরকে অনুসরণ করা ওয়াজিব। কিন্তু আমির ও সুলতানদেরকে অনুসরণ করা ওয়াজিব নয়। বরং অধিকাংশগণের মতে, তাদেরকে অনুসরণ করা হারাম, কেননা তারা সাধারণত: যুলুমেরই হুকুম দিয়ে থাকে।
(৩৭৪)
المسألة الرابعة: اعلم أن قوله: فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ يدل عندنا على أن القياس حجة.
অর্থ: চতুর্থ মাসয়ালা: জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কালাম- “তোমাদের মধ্যে যদি কোন ব্যাপারে মতবিরোধ হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো” এ মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা আমাদের নিকট কিয়াস অকাট্য দলীল হিসেবে স্বীকৃত।
(৩৭৫)
المسألة الخامسة: هذه الآية دالة على أن الكتاب والسنة مقدمان على القياس مطلقا، فلا يجوز ترك العمل بهما بسبب القياس.
অর্থ: পঞ্চম মাসয়ালা: মূলত: অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, মহাপবিত্র কিতাবুল্লাহ ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ ‘কিয়াস’ উনার উপরে অগ্রগণ্য। তাই কিয়াসের কারণে উনাদের উপর আমল তরক করা জায়িয হবে না।
(৩৭৬)
المسألة السادسة: هذه الآية دالة على أن ما سوى هذه الأصول الأربعة: أعني الكتاب والسنة والإجماع والقياس مردود باطل.
অর্থ: ৬ষ্ঠ মাসয়ালা: মহাপবিত্র অত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই চারটি উছূল তথা মহাপবিত্র কিতাবুল্লাহ, মহাপবিত্র সুন্নাহ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ ও পবিত্র কিয়াস ব্যতীত অন্য কিছু পরিত্যাজ্য ও বাতিল।
(৩৭৭)
المسألة السابعة: زعم كثير من الفقهاء أن قوله تعالى: أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ يدل على أن ظاهر الأمر للوجوب.
অর্থ: ৭ম মাসয়ালা: অসংখ্য ফুকাহা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতে, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করো” দ্বারা প্রকাশ্য নির্দেশ ওয়াজিব অর্থাৎ ফরযের ফায়দা দেয় তা প্রমাণ করা হয়েছে।
(৩৭৮)
المسألة الثامنة: اعلم أن المنقول عن الرسول صلى الله عليه وسلم اما القول واما الفعل، أما القول فيجب إطاعته لقوله تعالى: أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وأما الفعل فيجب على الأمة الاقتداء به إلا ما خصه الدليل.
অর্থ: ৮ম মাসয়ালা: জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই হযরত হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দু’প্রকার মহাপবিত্র সুন্নাহ নকল করা হয়। একটি কওল অপরটি ফে’ল। কওল তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা বা নির্দেশ মুবারক উনাকে অনুসরণ করা ওয়াজিব অর্থাৎ ফরয। যেমন: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো। আর ফে’ল তথা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাজ মুবারক উনার অনুসরণ করাও ওয়াজিব। তবে উনার খাছ বা বিশেষ আমল উম্মতের জন্য ওয়াজিব নয়। (মাফাতীহুল গইব আত তাফসীরুল কবীর অর্থাৎ তাফসীরুর রাযী, পবিত্র সূরা নিসা: আয়াত শরীফ: ৫৯, লেখক: ইমাম হযরত মুহম্মদ বিন উমর ফখরুদ্দীন রাযী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৬০৬ হিজরী)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৮)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬২)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৭)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৬)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৪)
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৩)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬০)
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (৪)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৯)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৭)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৬)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












