পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত ‘লাইলাতুম মুবারকা’ই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত (১)
, ০৩ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আখেরী উম্মত তথা আমাদেরকে অসংখ্য, অগণিত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন। আর সেই অসংখ্য, অগণিত নিয়ামত মুবারক উনাদের মধ্যে বিশেষ একখানা নিয়ামত মুবারক হচ্ছেন- পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্যরাত্রি মুবারক যা আমাদের এই অঞ্চলে পবিত্র শবে বরাত নামেই মশহূর। যাকে পবিত্র কুরআন শরীফে ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফে ‘লাইলাতুন নিছফে মিন শা’বান’ বলে নামকরণ করা হয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলে এই রাত্রি মুবারক ‘শবে বরাত’ হিসেবে মশহূর হওয়ার কারণ হচ্ছে, এই এলাকায় একসময় ফার্সী ভাষার প্রচলন ছিলো। তাই খোদা, নামায, রোযা, পানি ইত্যাদির ন্যায় আখেরী চাহার শোম্বাহ, শবে মি’রাজ, শবে বরাত, শবে ক্বদর, ফাতিহায়ে ইয়াযদহম ইত্যাদি শব্দের প্রচলন হয়েছে। এই শব্দগুলো আরবী নয় তবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে এই বিষয় সমূহের অস্তিত্ব নেই এরূপ বলা চরম জিহালতী ও হটকারিতার শামিল। কারণ সত্ত্বাগতভাবে এই বিষয়গুলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে বিদ্যমান রয়েছে। তাই এরূপ শব্দ ব্যবহার করা শরীয়তে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
অবশ্য কিছু নামধারী আলিম নামের জাহিলদের আবির্ভাব হয়েছে, যারা পবিত্র হাদীছ শরীফে শবে বরাতের বর্ণনা রয়েছে এটা স্বীকার করলেও পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাত রয়েছে এটা অস্বীকার করছে।
বক্ষমান প্রবন্ধে পবিত্র কুরআন শরীফেই শবে বরাতের বর্ণনা রয়েছে এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাতের অস্তিত্ব:
পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাতের অস্তিত্ব রয়েছে এটাই সত্য ও প্রমাণিত বিষয়। তবে এখানে যেই মতভেদটা সৃষ্টি হয়েছে তার কারণ হলো, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কয়েকখানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ সঠিকভাবে না বুঝা। পবিত্র সূরা দুখান শরীফ উনার ৩ নং পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, পবিত্র লাইলাতুম মুবারকায় পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ উনার ১৮৫ নং পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। পবিত্র সূরা ক্বদর শরীফ উনার ১ নং পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ আর পবিত্র সূরা ক্বদর শরীফ উনাদের মাঝে কোনো মতানৈক্য নেই। কারণ পবিত্র শবে ক্বদর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যেই রয়েছে। তবে পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাহ দ্বারা কেউ কেউ পবিত্র শবে বরাত উদ্দেশ্য নেন আবার কেউ কেউ পবিত্র শবে ক্বদর উদ্দেশ্য নেন। আর মতভেদটা শুরু হয়েছে এখান থেকেই। উপরোক্ত বিষয়টা সঠিকভাবে বুঝলে পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাত রয়েছে সেটা বুঝতে সহজ হবে।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি সমস্ত মতভেদের মূলোৎপাটন করে ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পবিত্র শবে বরাতে। আর পবিত্র শবে ক্বদরে লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইয্যত শরীফ নামক একটি হুজরা শরীফ আছে সেখানে একত্রে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে। এরপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূর রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফে (১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফে) ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার প্রথম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়া শুরু হন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছরে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হন। সুবহানাল্লাহ!
নিম্নে এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক আলোচনা পেশ করা হলো:
প্রত্যেকটা কাজের ২টা ধাপ থাকে প্রথমে সেই কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে কাজটা করা হয়। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক কাজের সিদ্ধান্ত নেন পবিত্র শবে বরাতে। যেটা পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যাকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বা পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার মধ্যরাত বলা হয়েছে। যা আমাদের এই অঞ্চলে পবিত্র শবে বরাত নামে মশহূর। আর এটা বাস্তবায়ন হয় পবিত্র শবে ক্বদরে। এ কারণেই পবিত্র শবে বরাতকে বলা হয়, لَيْلَةُ التَّجْوِيْزِ )লাইলাতুত তাজউয়ীয( বা ফায়ছালার রাত্রি। আর পবিত্র শবে ক্বদরকে বলা হয়, لَيْلَةُ التَّنْفِيْذِ (লাইলাতুত তানফীয) বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রাত্রি। সুবহানাল্লাহ!
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












