সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আখিরি’ শব্দটির অর্থ- শেষ। আর ‘চাহার শোম্বাহ’ শব্দ এর অর্থ- আরবিয়া বা বুধবার। পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলতে পবিত্র ছফর শরীফ মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়াকে (বুধবারকে) বলা হয়। পবিত্র ছফর শরীফ মাস ব্যতীত আর কোনো মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়াকে (বুধবারকে) পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলা হয় না।
যেমন ‘আশূরা’ শব্দটি আরবী ‘আশারাতুন’ শব্দ হতে এসেছে; যার অর্থ দশ বা দশম। কিন্তু ইছতিলাহী বা পারিভাষিক অর্থে ‘আশূরা’ শরীফ বলতে শুধুমাত্র পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের ১০ তারিখ দিনটিকেই বুঝানো হয়ে থাকে। অন্য কোনো মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশূরা শরীফ বলা হয় না।
মূলত, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের ১০ তারিখ দিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদামন্ডিত হওয়ার কারণে যেমনিভাবে উক্ত দিনটি ‘আশূরা’ শরীফ নামে মাশহুর হয়েছে, তদ্রুপ পবিত্র ছফর শরীফ মাসের শেষ আরবিয়া (বুধবার) দিনটিও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদামন্ডিত হওয়ার কারণে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ’ হিসেবে মাশহুর হয়েছে।
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন। এ মুবারক দিনটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, পবিত্র ১১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করেন এবং পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মাথা মুবারকে মারীদ্বী (অসুস্থতা শান) মুবারক গ্রহণ করেন। এর ৮/১০ দিন পর তিনি আবার ছিহ্হাতী শান (সুস্থতা) মুবারক প্রকাশ করেন।
অতঃপর পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। অতঃপর তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী যিয়ারত মুবারক করেন। পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে তিনি পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন এবং তিনি ‘ওয়াহ রা’সাহু’ ‘ওয়াহ রা’সাহু’ অর্থাৎ আমার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মাথা মুবারক, নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মাথা মুবারক একথা বলে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মাথা মুবারক উনার মারীদ্বী শান মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেন এবং পর্যায়ক্রমে মারীদ্বী শান মুবারক বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অতঃপর এই পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার ৩০ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়া সকালে তিনি ছিহ্হাতী শান মুবারক গ্রহণ করেন। ফলে ভোরবেলা মহাসম্মানিত ঘুম মুবারক থেকে জেগে তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’ এ কথা শুনামাত্রই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছুটে আসলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাযির আছি। ’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! মারীদ্বী শান মুবারক ত্যাগ করে ছিহহাতী শান মুবারক গ্রহণ করার ফলে মহাসম্মানিত জিসিম (শরীর) মুবারক বেশ হালকা মনে হচ্ছে। ’ সুবহানাল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাড়াতাড়ি পানি এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মাথা মুবারক ধুয়ে দিলেন এবং সমস্ত নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার মধ্যে পানি মুবারক ঢেলে ভালোভাবে গোসল মুবারক করিয়ে দিলেন।
কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে কাপড় মুবারক ভিজিয়ে নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক মুছে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এ সংবাদ পেয়ে অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খিদমত মুবারকে হাযির হলেন।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! পবিত্র হুজরা শরীফে কোনো খাবার আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জি-হ্যাঁ। ’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর আমার আওলাদ অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকেসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সংবাদ দিন। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও নিয়ে আসতে বলুন।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












