সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৫)
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
وَلَمَّا كَانَ الشَّهْرُ التَّاسِعُ دَخَلَ عَلَىَّ رَجُلٌ وَهُوَ يَقُوْلُ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَاخَاتِمَ رُسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَنَى الْقُرْبُ مِنْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ لَهٗ مَنْ اَنْتَ قَالَ اَنَا عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قُلْتُ لَهٗ مَاتُرِيْدُ قَالَ اَبْشِرِىْ يَا سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ حَمَلْتِ بِالنَّبِىِّ الْمُكَرَّمِ وَالرَّسُوْلِ الْمُعَظَّمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَالَ عَنْكِ الْبُؤْسُ وَالْعَنَا وَالسَّقْمُ وَالْاَلَمُ
অর্থ: এবং যখন নবম মাস আগমন করলো তখন একজন তাশরীফ মুবারক এনে বললেন-
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا خَاتِمَ رُسُوْلِ اللهِ دَنَى الْقُرْبُ مِنْكَ يَارَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থঃ ইয়া মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে সর্বশেষ মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি সালাম মুবারক। হে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব-মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে নিছবত মুবারক বা সম্পর্ক মুবারক উনার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী।
আমি উনাকে বললাম, আপনি কে এবং কেন এসেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিমাস সালাম। আপনাকে সুসংবাদ মুবারক দিতে এসেছি। আপনি নাবীইয়ূল মুকাররম ও রসূলুল মুয়াজ্জম, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধারণ মুবারক করেছেন। (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)
অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আলমে আরওয়াহতে সংঘটিত সেই ওয়াদা মুবারক বাস্তবায়নের জন্যই অর্থাৎ পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার জন্যই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আগমন করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়া “মাওয়াহিবুল লাদুননিয়া” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে দিবস মুবারকে যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন সেই রাত্রি মুবারকে অসংখ্য-অগণিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা অবতরণ করেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার পবিত্র দরজা মুবারক-এ দাঁড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম শরীফ পেশ করেন।”
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা মা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক আনার পর কুল-মাখলূক্ব, সমস্ত সৃষ্টি খুশি মুবারক প্রকাশ করেছে। কিন্তু একমাত্র ইবলিস শয়তান ও তার চেলারা অসন্তুষ্ট হয়েছে, লাঞ্ছিত হয়েছে, পরাজিত হয়েছে।
এখন, সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে সদা-সর্বদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করা, গোলামীর আন্জাম দেওয়া। এক কথায়, উনার শান মুবারকে ফালইয়াফরহূ অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বদাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে গরক থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৪)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৩)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












