নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যে রোযা মুবারক রাখতেন সে রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিলো একটি বিরল ঘটনা (৩)
, ০৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুতরাং মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখার পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা দেখা গেলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মাসে ১ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম সপ্তাহ ছাড়া বাকি ৩ সপ্তাহে কোন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ৫ম পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের কোন সপ্তাহেই ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা পড়েনি। যে মাসে ২য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। অনুরূপভাবে যে মাসে ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সে মাসের ১ম ও ৪র্থ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি। আর ৪র্থ পদ্ধতিতে ৩য় সপ্তাহ ছাড়া অন্য ৩ সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়েনি।
প্রত্যেক সপ্তাহে বার যেহেতু ৭টি, তাই কোন একটি মাস শুরু হওয়ার ক্ষেত্রেও ৭টি পদ্ধতি অনুসারেই হবে। নিচের সারণীতে তা তুলে ধরা হলো-
সপ্তাহ তা
রি
খ মাস শুরু হওয়ার বার
১ম ১ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস
জুমুয়া সাবত আহাদ
২ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
৩ আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
৪ খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
৫ জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস
৬ সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া
৭ আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত
২য় ৮ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ
¬¬¬৯ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ
১০ আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা
১১ খ¦মীস জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া
১২ জুমুয়া সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস
১৩ সাবত আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া
১৪ আহাদ ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছুলাছা আরবিয়া খ¦মীস জুমুয়া সাবত
উপরের সারণী হতে দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সুযোগ তখনই হয় যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ¦মীস দিয়ে শুরু হয়।
এখন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ১ম, ৪র্থ ও ৫ম পদ্ধতিতে রোযা মুবারক রাখলেও এই ৩টি পদ্ধতিতে যেহেতু ২য় সপ্তাহে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ কোন রোযা পড়ে না। তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। শুধুমাত্র রোযা মুবারক রাখার ক্ষেত্রে ২য় ও ৩য় পদ্ধতি অবলম্বন করলেই কেবল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাও যদি মাসটি ইয়াওমুল খ¦মীস দিয়ে শুরু হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার এবং সে দিন রোযা হওয়ার সম্ভাবনার সাথে ২টি শর্ত সম্পর্কিত-
১. যদি মাসটি ইয়াওমুল খ¦মীস দিয়ে শুরু হয়।
২. যদি ২য় বা ৩য় পদ্ধতি অবলম্বনে রোযা রাখা হয়।
এই ২টি শর্ত একত্রে পূরণ না হলে কখনোই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ রোযা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তাহলে প্রমাণিত হলো যে, যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস ইয়াওমুল খ¦মীস দিয়ে শুরু হলে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে ২য় সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা হয় এই পদ্ধতিতে রোযা রাখলেই কেবলমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যে রোযা রাখতেন উক্ত রোযা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়া ছিলো একটি বিরল ঘটনা।
তাহলে যারা বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রাখতেন রোযা, আর আপনারা করেন ঈদ এবং তিনি নির্ধারণ করলেন বার আর আপনারা নির্ধারণ করেন তারিখ। তাদের বক্তব্যে জবাবে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক উপলক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ করে ঈদ উদযাপনে যেমন কোন বাধা নেই, ঠিক তেমনি বার নির্ধারণ করে রোযা পালনের মধ্যেও রয়েছে এক মহান সুন্নত।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












