নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যে রোযা মুবারক রাখতেন সে রোযা মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ উনার দিনে হওয়াটা ছিলো একটি বিরল ঘটনা (১)
, ১৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ فِيْهِ وُلِدْتُ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ.
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখার ব্যাপারে সুওয়াল মুবারক করা হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই দিন আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি এবং ওই দিন আমার উপর (পবিত্র কুরআন শরীফ) নাযিল হয়েছে। ” (মুসলমি শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু যিকরি ইখতিলাফি ‘আলা মূসা ইবনে ত্বলহা ফীল খাবারি ফী ছিয়ামি ছালাছাতি আইয়্যামিন মিনাশ শাহ্রি: হাদীছ শরীফ নং ২৬৪০)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ হতে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা মুবারক রাখতেন।
এখন আরবী মাসের হিসাব অনুযায়ী বছরে ৫০ সপ্তাহ হয়ে থাকে। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বছরের প্রত্যেক সপ্তাহে রোযা মুবারক রাখতেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَ السَّلَامَ قَالَتْ أَرْبَعٌ لَـمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো- পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা ও পবিত্র ফজর নামাযের পূর্বের দু’রাকায়াত নামায। ” (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিন কুল্লি শাহ্রিন ওয়া যিকরিখ তিরাফিন নাক্বিলীনা লিলখ্বাবারি ফী যালিক; আহমদ শরীফ; হাকিম শরীফ)
সুতরাং অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, যা সারাবছরে কখনোই ছাড়তেন না। যেহেতু প্রত্যেক মাসেই তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন, তাই উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেতো আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেতো। অর্থাৎ বছরের প্রত্যেক সপ্তাহের ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযার দিন পড়তো না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসেই তিন দিন যে রোযা মুবারক রাখতেন, উক্ত তিন দিনের মধ্যে কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পড়ে যেতো আবার কখনো কখনো ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বাদ পড়ে যেতো। কেননা এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ هُنَيْدَةَ الْـخُزَاعِيَّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَلَيْهَا السَّلَامَ سَـمِعْتُهَا تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ ثُـمَّ الْـخَمِيسَ الَّذِيْ يَلِيْهِ.
অর্থ: “হযরত হুনাইদা খুজায়িয়্যা রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার থেকে শুনেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা মুবারক রাখতেন। মাসের প্রথম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তারপর ইয়াওমুল খামীস এবং তার পরবর্তী ইয়াওমুল খামীস। ” (নাসায়ী শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিং কুল্লি শাহরিন ওয়া যিকরিখতিলাফিন নাক্বিলীনা লিল খাবারি ফী যালিক: হাদীছ শরীফ নং ২৪১৫) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












