নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাম মুবারকে নাম রাখার ফযীলত ও বরকত মুবারক (৩)
, ২রা রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১২ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابى امامة الباهلى رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ وُلِدَ لَهُ مَوْلُودٌ فَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا حبا لى وتَبَرُّكًا باسمى كَانَ هُوَ وَمَوْلُودُهُ فِي الْجَنَّةِ.
অর্থ : “হযরত আবূ উমামা আল বাহিলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি কোন ব্যক্তির ছেলে সন্তান হয় অতঃপর সে ব্যক্তি যদি আমার মুহব্বতে এবং আমার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার বরকতের জন্য তার ছেলে সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ রাখে তাহলে সে ব্যক্তি এবং তার ছেলে উভয়েই জান্নাতে যাবে। ” সুবহানাল্লাহ!
আর নাম মুবারক উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে আদব হলো নাম মুবারক লেখার অনুরূপই। তবে যেসকল স্থানে নাম মুবারক উচ্চারণ করতেই হবে সে সকল স্থানের কথা আলাদা যেমন কালিমা শরীফ উচ্চারণের সময়, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের সময়, নামাযে পবিত্র দুরূদে ইবরাহীম পাঠ করার সময় ইত্যাদি। এসময় ছাড়া অন্য সময় নাম মুবারক উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে আদবের বিষয় হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক যে ব্যক্তি উচ্চারণ করবে আর যে ব্যক্তি শুনবে উভয়ের জন্যই উনার প্রতি ছলাত সালাম পাঠ করা ফরয-ওয়াজিব।
কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عنْ حضرت أَبي هُريْرةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ: قَالَ رسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: رَغِم أنْفُ رجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ علَيَّ
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা তিনি করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ব্যক্তি অপমানিত হোক, যার সম্মুখে আমার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে আমার প্রতি ছলাত (পবিত্র দুরূদ শরীফ) পাঠ করলো না। ” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت امام الاول كرم الله وجهه عليه السلام قَالَ: قَالَ رسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْبخِيلُ الذى مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ، فَلَم يُصَلِّ علَيَّ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় বখীল (কৃপণ), যার সম্মুখে আমার নাম মুবারক উচ্চারণ করা হয়, অথচ সে আমার প্রতি ছলাত পাঠ করে না। ” (তিরমিযী শরীফ)
মহাসম্মানিত নাম মুবারক লেখা ও মুখে উচ্চারণ করার হুকুমঃ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক লেখা ও উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব রক্ষা করা প্রত্যেকের জন্যই ফরয-ওয়াজিব। কারণ এক্ষেত্রে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও যদি আদবের খিলাফ হয় তবে কাট্টা কুফরী হবে। অর্থাৎ ঈমান হারা হয়ে যাবে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক লেখার ক্ষেত্রে আদব হচ্ছে যেক্ষেত্রে নাম মুবারক না লেখলেও চলে সেক্ষেত্রে নাম মুবারক না লিখে লক্বব মুবারক লেখাই আদব।
যেমন উদাহরণস্বরূপ “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অবস্থাভেদে লক্বব মুবারক কমবেশি হতে পারে। তবে পবিত্র দুরূদ শরীফ অর্থাৎ “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” আরবীতে হোক, ফার্সীতে হোক, উর্দূতে হোক, বাংলায় হোক, ইংরেজিতে হোক অথবা যেকোন ভাষাতেই হোকনা কেন পবিত্র দুরূদ শরীফ অনুরূপ পূর্ণভাবেই লিখতে হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তের ফতওয়া মোতাবেক ‘পবিত্র দুরূদ শরীফ’ সংক্ষেপে যেমন- (ص), (দ.), (সা.) (ঝয) (উ) ইত্যাদি অক্ষর দ্বারা লেখা আম ফতওয়া মতে মাকরূহ আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












