নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (১১)
, ২১ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০২ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আবূ জাহিলের পরিণতি:
আবূ জাহল (ابو جهل) এটি তার উপাধি। মূল নাম আমর ইবনে হিশাম। জাহেলি যুগে কাফেররা তাকে উপাধি দিয়েছিলো আবুল হাকাম الحكم) (ابو অর্থাৎ জ্ঞানের পিতা। সে ছিলো গভীর জ্ঞানের অধিকারী কিন্তু ঈমান থেকে বিমুখতা, হক্ব বা সত্য গ্রহণে অস্বীকার করার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার উপাধি দেন আবূ জাহল অর্থাৎ মূর্খের পিতা হিসেবে। ইতিহাসে সে এই উপাধিতেই পরিচিত।
পবিত্র মক্কা শরীফের কাফিরদের মধ্যে এই লোকটাই ছিলো সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুশমন। সকলের দুশমনি এক পাল্লায় রাখলেও তার দুশমনির পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার প্রধান সর্দার হওয়ায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়েছে সে। অবমাননার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছে। বলতে গেলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার সমূহ পন্থার নেতৃত্ব সেই প্রদান করেছে। প্রথম যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার আঙিনায় পবিত্র নামায আদায় করেন, আবূ জাহল বাধা দিয়ে বসে! এরপরে একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাকামে ইবরাহীমের কাছে পবিত্র নামায আদায় করছিলেন। ইত্যবসরে আবূ জাহল সে পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র নামায আদায় করতে দেখে সে উনার নাম মুবারক ধরে বললো, আমি কি আপনাকে এ কাজ করতে নিষেধ করিনি? সাথে সে আরো হুমকিও দিলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার হুমকির জবাব দিয়ে দিলেন। এরপর সে বললো, আপনি আমাকে কেন ধমক দিচ্ছেন? আপনি কি দেখেন না এই পবিত্র মক্কা শরীফে আমার মজলিস সবচেয়ে বড়? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আবূ জাহলকে ধমক দিয়ে বললেন- দুর্ভোগ, তোমার জন্য দুর্ভোগ! আবারও দুর্ভোগ! তোমার জন্য দুর্ভোগ! একথা শুনে আবূ জাহল দাম্ভিকতার সুরে বললো, আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন? আপনি এবং আপনার আল্লাহ পাক মিলে আমার কিছুই করতে পারবেন না। পবিত্র মক্কা শরীফের উভয় পাহাড়ের মধ্যে চলাচলকারীদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। নাঊযুবিল্লাহ!
কুরাইশ সর্দারদের নিকট একদিন আবূ জাহল এসে বললো, তোমাদের সামনে কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নূরুর রহমত বা চেহারা মুবারক ধূলোয় মাখান? অর্থাৎ সে পবিত্র নামায পড়ার বিষয়টি ব্যঙ্গ করে বলছিলো। তারা বললো, হ্যাঁ। আবূ জাহল বললো, ‘লাত ও উয্যার ক্বসম; আমি যদি উনাকে এই অবস্থায় দেখি, তবে উনার ঘাড় মুবারক উনার উপর পা রেখে দলিত মথিত করবো! নাঊযুবিল্লাহ! উনার চেহারা মুবারক মাটিতে টেনে হেঁচড়াবো! নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর একদিন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র নামায আদায় করতে দেখে। দেখতেই তার মাথা বিগড়িয়ে যায়। উনার ঘাড় মুবারক মটকে দেয়ার জন্য সে অগ্রসর হয়। কিন্তু সকলে অবাক হয়ে দেখলো যে, আবূ জাহল চিৎপটাং হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি করছে এবং চিৎকার করে বলছে- বাঁচাও বাঁচাও! তার পরিচিত লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, আবুল হাকাম তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি দেখলাম, আমার ও উনার (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মধ্যখানে আগুনের একটি পরিখা। ভয়াবহ সে আগুনের পরিখায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই কথা শুনে বললেন, যদি সে আমার কাছে আসতো, তবে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে ফেলতেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












