নতুন শুল্কারোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কথিত ‘লাভ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যাপক সমালোচিত ও বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি 'ইউএস এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড'-এর আওতায়, ৩৭০ কোটি ডলারের বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই এবং চড়া দামে মার্কিন গম কেনার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ নতুন করে ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক শুল্কারোপ ছাড়া বলতে গেলে কিছুই পায়নি। ফলে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তথাকথিত 'জোরপূর্বক শ্রম' ব্যবহারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন বিষয়ে আরেকটি তদন্ত করছে দেশটি। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শুল্কের মুখে পড়তে পারে।
এই বাণিজ্য চুক্তির অধীনে অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল- মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাক দেশটির বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার। তবে সেই সুবিধাও এখনও অধরা রয়ে গেছে, যা থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের আদৌ কোনো লাভ হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
'একপক্ষ সুবিধা দিল সব, অপরপক্ষ দিল কেবল শুল্কের বোঝা' -ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ওপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর পর বাণিজ্য চুক্তিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা বলছেন, বৈশি^ক পাওয়ার প্র্যাকটিসের শিকার হয়ে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার চেয়ে-চুক্তিটি সংশোধন বা এমনকি বাতিলের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে এখনই দরকষাকষি শুরু করা উচিত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি পুরোপুরি অন্যায্য ও অযৌক্তিক। এখন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর প্রায় একই হারে শুল্কারোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য চুক্তি থেকে বাংলাদেশ কোন সুবিধা তো পেলোই না, উল্টো বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে।
রিসার্চ এন্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য 'এক্সট্রিমলি আনফেয়ার, টোটালি আন-ইক্যুয়াল'। এটাকে কোনো বাণিজ্য চুক্তি বলা যায় না। চুক্তিতে এক দেশ আরেক দেশকে ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু এখানে একতরফাভাবে বাংলাদেশ সব সুবিধা দিয়েও কিছু পায়নি।'
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য আমদানির অঙ্গীকার করেছে ঢাকা, সেগুলো আমদানি করতে হবে। এতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হলেও তা মেনে নিতে হবে। এই ক্ষতি মেনে না নিয়ে চুক্তিটি সংশোধন বা বাতিল করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে- বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ শুল্কের বোঝা বইতে হতে পারে। সব দেশের ওপর ১০-১২ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের উপর ১৯ শতাংশ শুল্কারোপ হলে প্রতিযোগী সক্ষমতা বলে কিছু থাকবে না। তাই সরকারের উচিত, এই চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের বছরে ১০০ বিলিয়ন বাড়তি ব্যয় করতে হবে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশসহ সব দেশের রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে।
র্যাপিড-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক বলেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য একটাই ইতিবাচক দিক ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে, কিন্তু সেটিও অস্পষ্ট বিষয়। "কারণ, চুক্তিতে বলা আছে, কিভাবে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তার ম্যাকানিজম যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে। এতে বাংলাদেশ এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে বলে মনে করি না।"
''কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনো বাণিজ্য চুক্তি মানে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কোনো নিয়ম মানে না। তারা অর্থনৈতিক শক্তির জোরে অন্য দেশের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। তাই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোন ছাড় না পেলেও-বাংলাদেশকে পারচেজ কমিটমেন্টগুলো মেনে চলতে হবে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে জেনেও-তা মেনে নিয়েই করতে হবে''- যোগ করেন এমএ রাজ্জাক।
বাংলাদেশ এখনও চুক্তিটি অনুমোদন (র্যাটিফাই) না করলেও, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো থেকে বিভিন্ন ধরণের জ্বালানি, ভোগ্যপণ্যসহ নানান পণ্য বেশি দামে আমদানিসহ প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের 'অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা' নিয়ে ইউএসটিআরের চলমান তদন্তটিও একই ধারায় পরিচালিত হতে পারে এবং এর ফলে আরও নতুন শুল্ক আরোপিত হতে পারে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশী রপ্তানিকারকেরা মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে এখনও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
''ইউএসটিআর আমাদের জানিয়েছে যে, আগামী সেপ্টেম্বরে এই সুবিধা কার্যকর করা হবে। শুল্কমুকক্ত রপ্তানি সুবিধার অন্যান্য শর্ত ও ভলিউমও ঠিক করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছরের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে''- জানান তিনি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারী বেশিরভাগই শিশু-কিশোর: ‘ফাঁসবেন’ অভিভাবকরা
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর -প্রধানমন্ত্রী
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানায় শতবর্ষী বৃদ্ধ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পশ্চিমবঙ্গের ৬৫০ বছরের আদিনা মসজিদকে ‘মন্দির’ দাবি
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
চাকরির একটি পদের জন্য পাঁচ-ছয় লাখ আবেদন আসছে -ফখরুল
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ ১২ই শরীফ উনার সম্মানার্থে অনন্য আয়োজন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা হবে: ববি হাজ্জাজ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা কোনো অনুসন্ধান নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাজবাড়ীতে ট্রেন-বাস-মাহেন্দ্র-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ১, গুরুতর আহত ৩
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ শাটডাউন থাকবে
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কেতরাংগা সীমান্তে ৪ জনকে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খুলনায় গৃহবধূ হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












