মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ইলম হচ্ছে আমলের ইমাম”।
দ্বীনি ইলম অর্জন করা ফরয। এই ফরয আদায় না করলে এর জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য তাকে শাস্তিও পেতে হতে পারে।
তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- নিজে হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা এবং অধীনস্তদেরকে হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া। পাশাপাশি সে অনুযায়ী আমল করা এবং নিজের জীবন পরিচালনা করা।
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
আল-ইহসান প্রতিবেদন:
ছাহিবাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, দ্বীনি ইলম অর্জন না করলে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ঐ সমস্ত লোকদের মত হয়োনা যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে গিয়েছে। আর ভুলে যাওয়ার কারণে তাদের আত্মবিস্তৃতি ঘটেছে। তারাই নাফরমান বা অবাধ্য।” যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে যাবে সে নিজেকেও ভুলে যাবে অর্থাৎ নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে ভুলে যাবে। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে যাওয়া থেকে বাঁচতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে যাওয়া মানে হলো উনার আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধানকে ভুলে যাওয়া। আর উনার বিধানকে ভুলে গেলে বান্দারা আত্মবিস্মৃত হয়ে যাবে, নিজেদের সৃষ্টিরহস্য বা দুনিয়াতে আগমনের উদ্দেশ্য কি তা জানতে পারবে না।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “যে নিজেকে চিনতে পারলো সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনতে পারলো।” বান্দা নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে যত বেশি জানবে, নিজেকে যত বেশি চিনবে তত বেশি মহান আল্লাহ পাক উনার বড়ত্ব, মহত্ব, কর্তৃত্ব, উনার দয়া-ইহসান সম্পর্কে জানা, বুঝা সম্ভব হবে অর্থাৎ উনার মা’রিফাত বা পরিচয় লাভ করতে পারবে। তখন বান্দা মহান রব তায়ালা উনার বিধি-বিধান পালনে সচেতন হবে, উনার মুহাব্বত অর্জনে নিজেকে নিয়োজিত করতে সচেষ্ট হবে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদেরকে কোন উদ্দেশ্যে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন সে সম্পর্কে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি (মহান আল্লাহ পাক) জ্বিন এবং ইনসানকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য।” মহান আল্লাহ পাক উনার মুহাব্বত, মা’রিফাত হাছিল করে উনার ইবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্য করার জন্যই তিনি জ্বিন-ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি জ্বিন-ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী, আনুগত্য করার জন্য। তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী চলে এটাই মূল উদ্দেশ্য। তাই উনার আদেশ-নিষেধগুলো জানতে হবে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ তথা বিধি-বিধান জানে না কিন্তু কাফির মুশরিকদের বিধি-বিধান জানে। আর এই জন্য তারা কোনো আমলও করতে পারে না। মনে করে কাফির-মুশরিকদের বিধি-বিধানই তার প্রয়োজন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার বিধি-বিধান জানার প্রয়োজন নেই। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ এই বিধি-বিধান সম্পর্কিত জ্ঞান বা দ্বীনি ইলম অর্জন করাই ফরয। মানুষ দ্বীনি ইলম অর্জন না করলে আমলও করতে পারবে না।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ইলম হচ্ছে আমলের ইমাম।” জামায়াতে নামায আদায় করার জন্য যেমন ইমাম আবশ্যক ঠিক তদ্রুপ আমল করার জন্য দ্বীনি ইলম অর্জন করা আবশ্যক। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য ইলম অর্জন করা ফরয।”
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ওহী মুবারকের ইলমকেই অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফের ইলমকেই দ্বীনি ইলম বলা হয়। আর দুনিয়াবী শিক্ষাকে হুনর বলা হয়, যা দ্বারা দুনিয়াবী কোনো কাজের যোগ্যতা অর্জন করা হয়। দ্বীনি ইলম অর্জন করা ফরয। এই ফরয আদায় না করলে এর জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে যে, কেন সে দ্বীনি ইলম অর্জন করলো না? এজন্য তাকে শাস্তিও পেতে হতে পারে। কিন্তু হুনর বা দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করা ফরয না। আর এর জন্য পরকালে কোনো জবাবদিহিও করতে হবে না।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, দ্বীনি ইলম অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনতে পারে, ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা এবং হক্ব-বাতিলের মাঝে পার্থক্য করতে পারে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করতে পারে। তাই এই ইলম অর্জনের দ্বারাই বান্দাদের পক্ষে দুনিয়াতে আগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা এবং পরকালের কঠিন জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- দ্বীনি ইলম অর্জন করা ফরয। এই ফরয আদায় না করলে এর জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য তাকে শাস্তিও পেতে হতে পারে। তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- নিজে হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা এবং অধীনস্তদেরকে হাক্বীক্বী দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া। পাশাপাশি সে অনুযায়ী আমল করা এবং নিজের জীবন পরিচালনা করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমাকে মুহব্বত না করবে। আর তোমরা আমাকে মুহব্বত করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত না করবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবত্রি সুন্নত মুবারক পালনরে অফুরন্ত ফযীলত মুবারক।
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই। বরং কাট্টা হারাম ও কুফরী।
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারকে আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলা হয়। যা মুসলিম উম্মাহর রহমত, বরকত হাছিলের এক সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ!
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন এবং অন্যদেরকেও পালন করার ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা ও জিন-ইনসান সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ যথাযথভাবে পালন করা। যা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক, ইহকালে রহমত-বরকত এবং পরকালে নাযাত-নিসবত লাভের কারণ হবে।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই কামিল শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা, ছোহবত ইখতিয়ার করা, তরীক্বার সবক্ব আদায় করা ফরযে আইন। যার মাধ্যমে ইছলাহ বা আত্মশুদ্ধি লাভ হয়। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে নিসবত স্থাপিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ঘরে পবিত্র ছলাত শরীফ অর্থাৎ পবিত্র মীলাদ শরীফ-পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা হবেনা সেই ঘর অন্ধকার কবরের মত হয়ে যাবে অর্থাৎ বিরান হয়ে যাবে।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই। বরং কাট্টা হারাম ও কুফরী।
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে মুসলমানরা যে সারাবিশ্বে ইহুদী-নাছারাদের দ্বারা যুলুম ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার একটাই কারণ- মুসলমানরা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। নাঊযুবিল্লাহ!¬ অতএব, সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলা জ্বীন-ইনসান সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের উপর ইস্তিকামত বা দৃঢ়চিত্ত থাকা এবং হাক্বীক্বী মুত্তাক্বী হওয়া।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রত্যকে মুসলমান পুরুষ-মহলিা, জ্বীন-ইনসান সকলরে জন্যই ইখলাছ র্অজন করা এবং ইখলাছরে সাথে প্রতটিি আমল করা ফরয। সুবহানাল্লাহ! কনেনা ইখলাছ ব্যতীত কোন ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নকিট কবুল হয় না। ইখলাছ হাছিল করতে হলে অবশ্যই একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হবে।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।" পরকালরে তুলনায় দুনযি়াবী সম্পদ অতি সামান্য।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
“হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্য কারো মতো নন, উনারা বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক উনার অধিকারিণী।” মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা।
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












