দৈনন্দিন ৩২বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করলেও মুসলমান কি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শুধু পাঠের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে?
ফিকির আর আমল কী অধরাই থাকবে?
, ১৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৭ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ২২ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সম্পাদকীয়
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর নাযিল হয়েছে বরকতময় কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ। যে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ইহা এমন একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যেন তারা উহার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহকে গভীরভাবে ফিকির করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।” (পবিত্র সূরা মুহম্মদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৪)
বাস্তবে সমাজ জীবনে সাধারণ মুসলমান তো বটেই, কার্যক্ষেত্রে আলিম দাবিদারদের মাঝেও পবিত্র কুরআন শরীফ নিয়ে ফিকিরের প্রবণতা তথা এর হাক্বীক্বত উপলব্ধির চেতনা খুবই কম পরিলক্ষিত হয়। এই উদাসীনতার দিকে নির্দেশ করে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তারা কি পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে ফিকির করে না?” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)
মূলত, এই উদাসীনতার ভিতরই যাতে পরিচালিত হতে না হয়, সেজন্য মহান আল্লাহ্ পাক তিনি সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে “ইয়া তাফাক্কারুন, ইয়া তাদাব্বারুন, ইয়া কিলুন, তা’ক্বিলুন, ইয়াফক্বাহুন, তাফক্বাহুন, মুতাওয়াস্সিমীন” ইত্যাদি ফিকির সম্বলিত নির্দেশাবলী প্রদান করেছেন। যা কিনা আমাদের ফিকির করতে, সূক্ষ্ম চিন্তা করতে, আকল খাটাতে, বুদ্ধি খাটাতে, সমঝ হাছিল করতে, দূরদর্শিতার সাথে শ্রবণ করতে, সর্বোপরি চিন্তা-চেতনার জগতকে বিস্তৃত করার জন্য গভীরভাবে করে অনুপ্রাণিত। এ প্রেক্ষিতে কেবল পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ নিয়েই যদি আমরা ফিকির করি, তবে সে ফিকিরলব্ধ জ্ঞানই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
উল্লেখ্য, বিষয়বস্তুর আঙ্গিকে, গুরুত্বের বিচারে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ এক অনন্য মর্যদাসম্পন্ন সূরা। পবিত্র কুরআন শরীফ আরম্ভ হয়েছে- পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ দ্বারা। অবতরণের দিক দিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সংক্ষিপ্ত সারমর্ম। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অবশিষ্ট পবিত্র সূরা শরীফগুলো মূলত পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। গুমরাহীর পথ ছেড়ে সিরাতুল মুস্তাক্বীমের পথে পরিচালিত হওয়াই সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মূলকথা। আর পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে সে বিষয়টিই দোয়ারূপে সন্নিবেশিত করা হয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণরূপে।
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়, প্রত্যেক নামাযের প্রত্যেক রাকাতে এ পবিত্র সূরা শরীফ পাঠ করার বাধ্যবাধকতা দেখে। একজন মুসলমান দৈনিক ৫ ওয়াক্ত ফরয নামাযের ১৭ রাকাতে ১৭বার, ৩ রাকাত ওয়াজিব নামাযে ৩বার এবং ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াকাদ্দাহ নামাযে ১২বার, এই মোট ৩২বার কম করে হলেও এ পবিত্র সূরা শরীফ পাঠ করে থাকে।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সর্বাধিক পঠিত সূরা হিসেবে সে দোয়া সারা মুসলিম জাহান উচ্চারণ করছেন প্রতিনিয়ত, অহরহ। মানুষের পক্ষ হতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রার্থনা ও আবেদন-নিবেদন বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার শেষের তিনটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভাষা হচ্ছে- “আমাদেরকে সরল পথ দান করুন, সে সমস্ত লোক উনাদের পথ, যাঁদেরকে নিয়ামত মুবারক দান করা হয়েছে। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।”
স্মর্তব্য, নিয়ামতপ্রাপ্ত ও গযবপ্রাপ্তদের বর্ণনা কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেই রয়ে গেছে। যাঁদেরকে নিয়ামত মুবারক দেয়া হয়েছে, উনাদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “যাঁদের প্রতি মহান আল্লাহ্ পাক তিনি অনুগ্রহ মুবারক করেছেন, উনারা হচ্ছেন- হযরত নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ এবং সালেহীন।”
অপরদিকে গযবপ্রাপ্ত বলতে ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদেরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের পথ পরিহার করে, হযরত নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ, ছালেহীনগণ উনাদের পথে পরিচালিত হওয়াই পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার কথা, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার শিক্ষা, যা কিনা আমরা প্রত্যহ দোয়া কুনুতেও উচ্চারণ করে থাকি- “ফাসিক-ফুজ্জারদের পথ থেকে বিরত রাখুন আল্লাহ্ পাক।”
বলাবাহুল্য, উম্মাহ্কে এই আদর্শের আলোকে পথ চলার উদ্দীপনা জাগানোর দায়িত্ব নীতিগতভাবে বর্তায় আলিম সমাজের উপর। কিন্তু যুগৎপৎভাবে আশ্চর্যজনক এবং দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তথাকথিত আলিম সমাজ সে অনিবার্য কাজটিতে কেবল ব্যর্থই হচ্ছে না, সাথে তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মসজিদে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ আওড়িয়ে, দোয়া কুনূত পড়ে মঞ্চে উঠে তারাই তার খিলাফ করছে। নিয়ামতপ্রাপ্তদের পথ চাইলেও তারা অনুসরণ করছে গযবপ্রাপ্তদের পথ। হযরত নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ, ছালেহীনগণের পথ নয়; বরং গণতন্ত্র, নির্বাচন, টিভি চ্যানেল, স্যাটেলাইট চ্যানেল ইত্যাদি করে তারা অনুসরণ করছে- ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের পথ, হরতাল করে কাট্টা মুশরিক-হিন্দুর পথ।
সঙ্গতকারণেই তাই বলতে হয়, আজ যেসব ওলামা নামধারী ব্যক্তি গণতন্ত্র, নির্বাচন, হরতাল, টিভি চ্যানেল, ছবি, বেপর্দা-বেহায়া, হারাম ক্রিকেট ইত্যাদির পথ ধরে চলছে, তারা মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আদর্শ, এমনকি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার শিক্ষা থেকেও মাহরূম। অর্থাৎ সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ তো অবশ্যই, এমনকি প্রতিনিয়ত পঠিত সূরা, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার ফিকির করতেও রয়েছে তাদের অবহেলা, অনীহা-অনিচ্ছা। যাদের প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তারা কি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সম্পর্কে গভীর ফিকির করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে?”
মূলত, তাদের অন্তরে সত্যিই তালা লেগে গেছে, মহর পড়ে গেছে। সুতরাং সত্যের খাতিরে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার নির্দেশে, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার শিক্ষায় আমাদেরকে অন্তরে মহরবিশিষ্ট এসব নামধারী উলামাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তাদের মুখালিফ ওলামায়ে হক্কানী-রব্বানীর সংস্পর্শে চলতে হবে। যাঁদের মর্তবা সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান, “যারা অন্ধ ও চক্ষুষ্মান, তারা কি কখনো সমান হতে পারে?”
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভরা পর্যটন মৌসুমে (নভেম্বর-জানুয়ারি) বারবার অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা নারিকেল দ্বীপের মতই পার্বত্য এলাকার উদীয়মান অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র এবং পার্বত্য এলাকা দখলের নীল নকশা।
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পরিবেশের তথাকথিত যুক্তিতেই বরং সেপ্টেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত নারিকেল দ্বীপ খোলা রাখলে জীবন-জীবিকা, পরিবেশ এবং সার্বভৌমত্ব সমুন্নত থাকে। নারিকেল দ্বীপ জনযোগাযোগ মুক্ত থাকায় আরাকান আর্মি নারিকেল দ্বীপ দখলের দুঃস্বপ্ন দেখে, এদেশের জেলেদের আটক করে।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্কুল শিক্ষায় নতুন ৪ বই অনুমোদন হারাম খেলাধুলা, মেয়েদের খেলাধূলায় অগ্রনী হওয়া, নাচ-গান ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে পাঠ্যপুস্তকে।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা যেমন জ্বলজ্বল, উন্নয়নে ঝলমল তেমনি সংকটকালেও থাকুক সমুজ্জল
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই জুমাদাল ঊলা শরীফ আজ।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান মহাপবিত্র ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ। যা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহাব্বুন নাসি ইলান নাবিয়্যি, সাইয়্যিদাহ, ত্বহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, যাকিয়্যাহ, রদ্বিয়্যাহ, মারদ্বিয়্যাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাবুল ইলম, কুতুবুল আলম, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চিনিকলগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে ভিনেগার, জৈব দ্রাবক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ রাসায়নিক সামগ্রী সহ-উৎপাদক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব।
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান মুবারক অনুভব করা, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক জানা, দয়া-ইহসান মুবারক উপলব্ধি করা, ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও নেক ছোহবত মুবারক হাছিল করা সর্বোপরি উনার নেক ছায়াতলে উপনীত হওয়া বর্তমান যামানায় সব নারীদের জন্য ফরয।
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তিউনিসিয়া এবং পেরু, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনলেও বাংলাদেশ কেনো সক্ষম হচ্ছে না।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূলিল্লাহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূলিল্লাহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












