দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৩য় পর্ব)
, ০১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
বাংলাদেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক প্রকল্প এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ”
পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রই নামেমাত্র স্বাধীন বা ওহফবঢ়বহফবহঃ বা ঋৎবব হলেও আসলে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের অধীনে ইহুদীদের দ্বারা পরোক্ষভাবে শাসিত অর্থাৎ অদৃশ্যভাবে নিজেদের অজান্তেই পরাধীন। আধুনিক রাষ্ট্রের অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার কৌশলটাই ইহুদীদের সৃষ্টিকৃত কঠিন এক ষড়যন্ত্র।
বাংলাদেশও একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক স্বাতন্ত্রের প্রতীক বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে প্রায় ২৩ বছর এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৫ বছর বিভিন্ন সময়ে জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরাচারের বিপরীতে গণ আন্দোলন হয়েছে, সরকারের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু জনগণের আশা আকাঙ্খার বাস্তবায়ন কখনই হয়নি। দেখা গেছে গণ আন্দোলনের চেতনা ছিনতাই হয়ে গেছে।
মুসলমানদেরকে দিয়ে সংঘটিত এই গণ আন্দোলন বা ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যা অর্জন হওয়ার কথা ছিলো তা না হয়ে আরো বেশি ক্ষতি হয়েছে, আরো বেশি ইসলাম বিরোধী ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেশের সম্পদ ও নিরাপত্তা বিদেশী ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ কাফির-মুশরিকদের হাতে চলে গেছে। মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে ইহুদী-মুশরিকদের বাধ্যগত দাসে পরিণত করতে এই গণ আন্দোলন আর এই গণ আন্দোলনের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা পর্যায়ক্রমিক নিখুঁত কু-পরিকল্পনা। সহজ সরল ঈমানদার মুসলমানেরা ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের এই ষড়যন্ত্র বুঝতেই পারেনা।
ইহুদী-নাছারা-মুশরিক-কাফিররা কোন দেশের বা রাষ্ট্রের ভৌগলিক বা রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা ওহফবঢ়বহফবহঃ বলতে মুসলমানদেরকে যা বুঝায় তা হলো মুসলমানদের ঐক্য ভেঙে দেওয়া। স্বাধীনতা মানে মুসলমানদেরকে এক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য থেকে বের করে এনে নানান বিভ্রান্তি ও বিভেদ সৃষ্টি করে মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করে দেওয়া। এর ফলে বিভিন্ন মুসলমান দেশগুলো ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যায়, মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং এক মুসলমান দেশ আরেক মুসলমান দেশের শত্রুতায় মত্ত হয় ইহুদী-মুশরিক-কাফিরদের খুশি করার জন্য। শয়তানের অনুচর সব অমুসলিম কাফিররা মুসলিম দেশগুলোকে ইহুদীসংঘের অধীন করে নতুন সেই স্বাধীন দেশকে তাদের শয়তানি মত অনুসারে পরিচালিত করে। আসলে এই রাষ্ট্রযন্ত্রটাই তাদের বিশ্বনিয়ন্ত্রণ বা নিপীড়ন পরিচালনার একটা বড় ছাঁচ বা একটা বড় যন্ত্র, একটা বড় অস্ত্র।
আর ইহুদী-মুশরিক-কাফিররা কথায় কথায় ব্যক্তিস্বাধীনতা বা ঋৎববফড়স বলতে যা শিখায় তা হলো- কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের হুকুম-আহকামের বিরোধীতা করে নফসের বা নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা (শয়তানের অনুসরণ করা)। তখনই ইহুদীরা তাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা মিডিয়া, পরিবেশ ইত্যাদির দ্বারা মানুষকে প্রভাবিত করে মানুষের খেয়াল খুশিকে তাদের ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করে।
মুসলমানদের বড় সমস্যা হচ্ছে মুসলমানরা তাদের শত্রু চিনতে পারেনা বা শত্রুদের সম্পর্কে সচেতন নয়। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি মালউন ইবলিস এবং তার অনুসারী-অনুচর ইহুদী-নাছারা-হিন্দু-বৌদ্ধ-মজুসি-মুশরিকসহ তাবৎ কাফিরকে মুসলমানদের শত্রু বলে বার বার ঘোষণা করেছেন। তাদেরকে বন্ধু হিসেবে বা উপদেষ্টা, পরামর্শদাতা বা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে শক্তভাবে নিষেধ করেছেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ‘মানবাধিকার রক্ষা’ নামের পরোক্ষ অজুহাতে বিদেশিদের মূলত: ইহুদীদের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক তদারকির নতুন দ্বার উন্মুক্ত করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইহুদীসংঘ বা পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোর তত্ত্বাবধানে এই দেশে একটি স্থায়ী মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন-প্রথম দৃষ্টিতে এটি মানবিক উদ্যোগ মনে হলেও বাস্তবে এটি বাংলাদেশের এবং মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপের এক সূক্ষ¥ কুট কৌশল।
এখানে সেই কূটকৌশল বা ষড়যন্ত্রসমূহ উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে আলোচনা করা হয়েছে-
???? সন্ত্রাসী ইহুদীসংঘের (জাতিসংঘের) কথিত মানবাধিকার বিষয়ে কার্যক্রম আসলে কি এবং পৃথিবীর কোথায় কোথায় তাদের কার্যালয় (অফিস) রয়েছে?
???? কিভাবে ‘মানবাধিকার’ শব্দটি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি অস্ত্রে পরিণত হয়েছে;
???? কেন এই কার্যালয় স্থাপন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর অনাকাক্সিক্ষত চাপ সৃষ্টি করবে;
???? কিভাবে এটি ভবিষ্যতে দেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে এনে দেবে;
???? এবং কেন এটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের আইন-শাসন, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
???? পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে এই কার্যালয় কিভাবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের কু-পরিকল্পনা (এজেন্ডা) বাস্তবায়ন করে দেশটা সন্ত্রাসী ইহুদীদের পরোক্ষ উপনিবেশে (কলোনীতে) পরিণত করার অপচেষ্টা চালাবে।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (১)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করলে তা দিগুণ-বহুগুণে বৃদ্ধি করে ফিরিয়ে দেয়া হয়
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৬)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












