ঘটনা থেকে শিক্ষা
ইবলীস মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
শয়তান মানুষের মধ্যে ফেৎনা তৈরি করে কিভাবে? তার একটা মেছাল কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বুযূর্গ ব্যক্তি, ওলীআল্লাহ তিনি বর্ণনা করেন, তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, ইবলীস এক জায়গায় দাঁড়ানো।
তিনি ইবলীসকে দেখে বললেন, ইবলীস! তুমি এখানে কি করো? নিশ্চয়ই তোমার আশে-পাশে ফেতনা লাগিয়েছ।
সে বললো- না হুযূর! সে কোন ফেতনা করেনি। সেই বুযূর্গ ব্যক্তি একটু সামনে গেলেন। গিয়ে দেখেন মারামারি হচ্ছে।
তিনি বললেন, হে ইবলীস! তুমি নিশ্চয়ই মারামারির মূল। সে বললো- হুযূর! সে মারামারি লাগায়নি। কি করেছ তুমি?
সে বললো, সে- শুধু ছোট্ট একটা কাজ করেছে, আর কিছুই করেনি। কাজটা হলো এই যে, দুই বাড়ীতে মারামারি হচ্ছে, দুই বাড়ীর সীমানার মধ্যে এক ফোঁটা মিষ্টির রস ফেলে দিয়েছিল। যার কারণে সেখানে পিঁপড়া আসলো, পোকা-মাকড় আসলো। তা দেখে ঈঁদুর আসলো, ঈঁদুর দেখে বিড়াল আসলো। বিড়াল দেখে প্রতিবেশীর কুকুরটা আসলো। কুকুর বিড়ালকে কামড় দিল, আর বিড়ালওয়ালা কুকুরের মাথায় বারি দিল। তখন কুকুরওয়ালা উত্তেজিত হয়ে বিড়ালওয়ালার মাথায় বারি দিয়ে তাকে হত্যা করে ফেললো।
মূলতঃ ইবলীস শুধু একফোঁটা রস ফেলেছিল। কিন্তু বিরাট একটা ফেতনা পয়দা হয়ে গেল। ঠিক ইবলীসের কাজগুলি এরকমই হয়ে থাকে।
মূলতঃ বড় কাজটা তো সে করেনি, সে শুধু শুরু করে দেয়। এরপরে আর তার কিছু করা লাগে না। ইবলীস মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে ওয়াস্ওয়াসা দেয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ইবলীস নিজে বর্ণনা করেছে যে, মানুষকে সে যখন গোস্বার মধ্যে পায়, বলের মত তাকে সে চক্কর খাওয়াতে থাকে। সে তখন তার তাবেদার হয়ে সে কি করে, তার নিজেরও হুঁশ থাকে না।
কাজেই ইবলীস হলো মানুষের শত্রু।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তাকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো।
হযরত হাতেম আসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে তখন থেকে আমি সমস্ত শত্রুতা, সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি যত বদ খাছলত রয়েছে, তা ছেড়ে দিয়ে একমাত্র মনে করলাম, শয়তানই আমাদের শত্রু, আর কারো সাথে আমাদের শত্রুতা নেই। সবার সাথে মুহব্বত, আমি তা জারি করে দিলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৫)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উন্মোচন (৪)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৩)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












