পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তা শঙ্কায়:
ত্রিদেশীয় সীমান্তে আরাকান-ইউপিডিএফ-কেএনএফের ‘জোট’
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সীমান্ত এখন শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্পর্শকাতর ফ্রন্টলাইন। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, অস্ত্র পাচারের অভিযোগ ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের বিস্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত সংযোগস্থল ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মি, দুই উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি করিডোরগুলো ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিবহনের সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্র।
তাদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ত্রিদেশীয় সীমান্ত এলাকা একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হতে পারে। যার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের মুখে বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউপিডিএফ তাদের কৌশল পাল্টে অন্য দেশবিরোধী ও বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি ও বান্দরবানের পার্বত্য অঞ্চলের কেএনএফের সঙ্গে ইউপিডিএফের গভীর গোপন আঁতাতের খবর মিলেছে।
গত ২৮ জুন রুমা-বিলাইছড়ি সীমান্তবর্তী রেতলাং পাহাড়ে কেএনএফের ঘাঁটিতে ইউপিডিএফের উপস্থিতি ও পরবর্তীসময়ে সেনা অভিযান তাদের এই নতুন সমঝোতা প্রকাশ করে।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্ত সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, কৌশলগত অবস্থান মজবুত করা, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার জন্য এই তিন গোষ্ঠী একটি ‘ত্রিপক্ষীয় অঘোষিত অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। এরই মধ্যে এই তিন গোষ্ঠীর মিয়ানমার-বাংলাদেশ ও ভারতের মিজোরামে অবাধ যাতায়াতের তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে তারা নতুনভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়ঙ্কর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তিন দেশের সীমান্তে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। ভয়ঙ্কর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারত থেকে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় এবং মিয়ানমার থেকে বান্দরবান সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী অস্ত্রের মজুত করছে তিন সশস্ত্র সংগঠন।
সম্প্রতি পার্বত্যাঞ্চলে সরেজমিনে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, গত বছরের শেষভাগ থেকে মিয়ানমারের চিন স্টেট এবং রাখাইনের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই তিন গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই জোটের প্রধান সমন্বয়ক আরাকান আর্মি। তারা ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
বিনিময়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি রুটগুলো ব্যবহার করে আরাকান আর্মির জন্য ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালানের নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করছে স্থানীয় এই দুই গ্রুপ।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হলো অস্ত্রের অবাধ চোরাচালান রুট সচল রাখা। মিয়ানমারে উৎপাদিত অবৈধ অস্ত্র ও ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা আধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল এখন আরাকান আর্মির হাত ঘুরে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করছে। কেএনএফ ও ইউপিডিএফের পাহাড়ি গোপন আস্তানাগুলোকে আরাকান আর্মি ব্যবহার করছে তাদের ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে সেনাবাহিনী না থাকলে হয়তো এতদিন বাংলাদেশ-ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত বলতে আর কিছুই থাকতো না। হয়তো উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বপ্নের ‘জুম্মল্যান্ড’ বাস্তবায়ন হয়ে যেত।
ভূ-রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঢাকাকে অবিলম্বে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পার্বত্য অঞ্চলে তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে এবং সীমান্ত নজরদারিতে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
নিরাপত্তা বিশ্লষক মেজর জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দীন বলেন, আরাকান আর্মি, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ- এই অশুভ আঁতাত পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিচুক্তির চেতনাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার শামিল। সময়মতো এই ত্রিদলীয় অক্ষকে ভেঙে দেওয়া না গেলে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছাত্রদলের সংগঠনের কমিটির স্বচ্ছতার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দুই মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৬
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৫৭ লাখ টাকার জাল নোটে স্বর্ণ কেনার চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, বিপাকে নিম্নবিত্তরা
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) পালনসহ ১৬ দফা দাবীতে সমাবেশ
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সৌদির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না: হুঁশিয়ারি ইরানের
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে আহত ১১
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বগুড়ার এরুলিয়ায় ফের দুর্ঘটনা, এবার প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত: ইরানি কর্মকর্তা
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
রাত ১টার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












