জীবনমান ধরে রাখতে বাড়ছে ব্যাংকঋণ
, ২০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে ভোক্তা ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ, যা শিল্পঋণের প্রবৃদ্ধির তুলনায় তিনগুণ বেশি। শুধু বাড়ি-গাড়ি নয়, সংসার খরচ মেটাতেও ঋণ নিচ্ছেন অনেকে। চিকিৎসা এমনকি বিয়ের জন্যও নেওয়া হচ্ছে ঋণ। ক্রেডিট কার্ড ও বেতন হিসাবের পাশাপাশি ডিপিএস, এফডিআর ও প্রফিডেন্ট ফান্ড লিয়েন রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
এসি, কম্পিউটার ও ফার্নিচারের মতো ভোগ্যপণ্য কেনার ঋণ ক্রমেই বাড়ছে। মূলত আয় না বাড়লেও সংসার ব্যয় বাড়তে থাকায় ঋণ নিয়ে জীবনমান ও ভোগ অভ্যাস ধরে রাখছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। আর বেশি সুদ ও খেলাপির হার তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাংকগুলোও এই ঋণ বিতরণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
সাধারণভাবে ভোক্তা ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়। ভোক্তা ঋণ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ভোক্তা ঋণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ এ ঋণ সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে সহায়ক নয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, মানুষের আয় না বাড়লেও খরচ বেড়েছে। ফলে শুধু ভোগ্যপণ্য কেনার জন্য নয়, সংসারের চাকা সচল রাখতেও মানুষ ঋণ নিচ্ছে। এটি স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবার ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করবে। এ ছাড়া ভোক্তা ঋণ বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতেও। অন্যদিকে শিল্পঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য খারাপ বার্তা দিচ্ছে। এটা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধতা তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেড়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসা ভাড়া ও শিক্ষা প্রতিটি খাতেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত সবাই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে পারছেন না।
সম্প্রতি পিপিআরসি পরিচালিত ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়, তুলনামূলক গরিব পরিবারগুলো নিজেদের আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করছে। এমনকি মধ্যবিত্তদেরও আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। আর এই ব্যয়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে খাদ্য কেনায়। একটি পরিবারের মাসের মোট খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ চলে যায় খাবার কেনায়। শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন। কাউকে কাউকে ধারদেনা করতে হচ্ছে। অন্তত ৪০ শতাংশ পরিবারের ঋণ বেড়েছে।
ওই গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মূলত তিন ধরনের সংকটের প্রভাব বর্তমানে দেশে চলমান। এগুলো হলো- উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিশাল আশা সৃষ্টি করেছে; একই সঙ্গে এক ধরনের অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে একটা ধারাবাহিক সংকটজনক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে মানুষের আয়-ব্যয়, দারিদ্র্য পরিস্থিতি ও অন্যান্য খাতে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়ায় ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ২৪ হাজার লিটার তেলবোঝাই লরি ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদে কালেমা শরীফের ক্যালিগ্রাফি স্থাপন
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইসরাইলি সন্ত্রাসীদের বোম্ব দিয়েই তাদের সামরিক যান ধ্বংসের প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যুদ্ধ শুরুর পর ৮৫ দেশে বেড়েছে তেলের দাম, বাড়েনি বাংলাদেশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে ইরান যুদ্ধ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাছ কাটা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাছ কাটা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আমার স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন -ফখরুল
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
থার্ড টার্মিনাল চালু করতে ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম, নেপথ্যে কী?
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রবাসীদের কল্যাণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে মন্ত্রণালয়
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












