ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে (১৮)
, ০৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৫ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৪, মে, ২০২৪ খ্রি:, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এজন্য অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে। প্রতিনিধিত্ব যে দেয়া হয়েছে, এর খুছূছিয়াতটা যেটা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وسَلَّمَ أَنَّهٗ قَالَ الْـحَاجُّ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللهِ إِنْ دَعَوْهُ أَجَابـَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوْهُ غَفَرَ لَـهُمْ
হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন।
أَنَّهٗ قَالَ
নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلْـحَاجُّ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللهِ
খাছ করে যারা হাজী এবং উমরাহকারী তারা যিনি খ্বলিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এজন্য খুছূছিয়াত বর্ণনা করা হয়েছে-
إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَـهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوْهُ غَفَرَ لَـهُمْ
কোন হাজী এবং উমরাহকারী যখন কারো জন্য দোয়া করে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাথে সাথে সেই দোয়া কবুল করে নেন। সুবহানাল্লাহ! এবং কারো জন্য যখন মাগফিরাত কামনা করে থাকে তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! এটা যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ প্রতিনিধি হওয়ার কারণে সেই বৈশিষ্ট্য, খুছূছিয়াত মুবারক দিয়েছেন। সেজন্য অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করে বলা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا لَقِيْتَ الْـحَاجَّ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَصَافِحْهُ، وَمُرْهُ أَنْ يَّسْتَغْفِرَ لَكَ قَبْلَ أَنْ يَّدْخُلَ بَيْتَهُ، فَإِنَّهُ مَغْفُوْرٌ لَّه.
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِذَا لَقِيْتَ الْـحَاجَّ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَصَافِحْهُ
যখন তোমরা কোন হাজী ছাহেবকে পাবে যে সে হজ্জ করে ফিরে এসেছে, তাকে সালাম দিবে, মুছাফাহ করবে। মুছাফাহ করে-
وَمُرْهُ أَنْ يَّسْتَغْفِرَ لَكَ قَبْلَ أَنْ يَّدْخُلَ بَيْتَهٗ
এবং সে হাজী ছাহেবকে বলবে, সে হাজী ছাহেব যেন দোয়া করে তোমাদের জন্য, বাড়ীতে প্রবেশ করার পূর্বে।
فَإِنَّهٗ مَغْفُورٌ لَّهٗ.
কারণ সেই হাজী ছাহেবকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
হাজী ছাহেব যে হজ্জ করে এসেছে, যার হজ্জে মাবরূর নছীব হয়েছে তার দোয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে থাকেন। সেজন্য স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে হজ্জ করে আসবে তাদেরকে সালাম দিবে, মুছাফাহ করবে, তাদেরকে দোয়া করার জন্য বলবে কারণ তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারা দোয়া করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি দোয়া কবুল করেন। সুবহানাল্লাহ! তারা বাড়ীতে প্রবেশ করার পূর্বে। বাড়ীতে প্রবেশ করার পূর্বে এটা করতে হবে। বিশেষ করে হজ্জ উমরাহর যে বিষয়টা, যেহেতু হজ্জের দ্বারা সেই হাজী ছাহেবের হজ্জে মাবরূর যদি নছীব হয় তাহলে তার গুনাহখাতা সব ক্ষমা হয়ে গেছে।
সেটাই পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করে বলা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِّمَا بَيْنَهُمَا وَالْـحَجُّ الْمَبْرُوْرُ لَيْسَ لَهٗ جَزَاءٌ إِلَّا الْـجَنَّةُ
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
اَلْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِّمَا بَيْنَهُمَا
কেউ যখন উমরাহ করে। হজ্জে তো গুনাহখতা মাফ হয়েই থাকে। যখন সে শুধু উমরাহই করে, উমরাহকারীকেও এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ পর্যন্ত তার যত গুনাহখতা হয় সব মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! এটা কাফফারা হয়ে যায়। সমস্ত গুনাহখতা মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! আর
وَالْـحَجُّ الْمَبْـرُوْرُ لَيْسَ لَهٗ جَزَاءٌ إِلَّا الْـجَنَّةُ
আর হজ্জে মাবরূর যখন নছীব হয়ে গেল, হজ্জে মাবরূর যে করতে পারলো তার বদলা জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু নয়। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সে জান্নাতী হবে। মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক্ব যিনি মালিক যিনি রব উনার এবং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেজামন্দি সন্তুষ্টি সে লাভ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! এবং বিশেষ করে হজ্জ এবং উমরাহ উভয়টা মানুষের গোনাহখতাগুলো ক্ষমা করিয়ে দেয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












