পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তেবা ও প্রচার-প্রসারের ফযীলত বিষয়ে
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ২১ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৯ম পর্ব)
কাজেই বিষয়গুলি ফিকির করতে হবে; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো নিজেই বললেন আদেশ মুবারক করলেন, পরিকল্পনা করে এই আর্ন্তজাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের মাধ্যমে সম্মানিত সুন্নত মুবারকগুলি প্রচার করতে হবে। সারা দুনিয়াতে ছড়াতে হবে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! তাহলে অন্যান্য মানুষ বুঝুক আর না বুঝুক এখানে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন আপনাদের জন্য কিন্তু এটা ফরজ হয়ে গেছে। এটা মনে রাখবেন। এখানে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সকলের জন্য ফরজে আইন। এই আদেশ মুবারক অবশ্যই পালন করতে হবে। তবে সেটা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী করবেন আস্তে আস্তে হোক কোন অসুবিধা নেই।
নিজে সম্মানিত সুন্নত মুবারকগুলি পালন করবেন আর আপনারা আপনাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সুন্নতী সামগ্রীগুলি বিক্রি করতে পারেন। ভাই-ভাতিজা হোক, পাড়া-প্রতিবেশী হোক, বন্ধু-বান্ধব হোক আপনাদের পরিচিত যারা রয়েছে তাদের কাছে একটা একটা করে সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন। আস্তে আস্তে প্রচার হবে আর একটা সুন্নত মুবারক যার মধ্যে প্রবেশ করবে একটা বিদয়াত দূর হয়ে যাবে। একটা সুন্নত মুবারক প্রবেশ করলে একটা বিদয়াত দূর হয়। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
যে একটা দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়া শুরু করলো; তাহলে তার থেকে বিদয়াতটা দূর হয়ে গেলো। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! দস্তরখানার সুন্নতটি তখন জারী হয়ে গেলো। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! যে একটা সুন্নতী চকি ব্যবহার শুরু করলো; তার থেকে একটা বিদয়াত দূর হয়ে গেলো। খাট-পালং দূর হয়ে গেলো। সুন্নত জারী হয়ে গেলো। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
এটা তো সোজা কথা নয় আর পবিত্র সুন্নত মুবারক সম্পর্কে আমভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيد যে, সুন্নত কায়েম করলো, ধারণ করলো, উম্মতের ফেতনা-ফাসাদের যামানায় অর্থাৎ আখেরী যামানায়। এখন তো আখেরী যামানা, যেটা এক হাজার হিজরীর পরে বুঝায়। এই আখেরী যামানায় যে ব্যক্তি একটা সুন্নত পালন করলো, কায়েম করলো, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সে সুন্নত মুবারক উনার উপর ইস্তেকামত থাকলো, তাহলে কী হবে?
সুন্নত মুবারক পালনকারী ঐ ব্যক্তি কমপক্ষে একশো শহীদ উনাদের সমপরিমাণ ফযীলত লাভ করবে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! একশো শহীদের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। একশো শহীদ তো বড় বিষয়; অবশ্যই বড় বিষয় বরং তার চাইতে বেশি। যার যার অন্তরের খুলুছিয়ত অনুযায়ী। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
কারণ সুন্নত মুবারক উনার কোন তুলনাই নাই। যেটা আমরা বলি, সারা পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকলের আমল যদি এক পাল্লায় দেয়া হয় আর একখানা সুন্নত মুবারক আরেক পাল্লায় দেয়া হয় তাহলে সুন্নত মুবারক উনার ওজন অনেক বেশি হবে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! তাহলে সুন্নত মুবারক উনাদের কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বিষয়টি ফিকির করতে হবে। এটাই কিন্তু বলা হচ্ছে ইজমা হয়ে গেছে-
حَتَّى مِنَ الْكَعْبَةِ وَالْعَرْشِ وَالْكُرْسِيِّ،
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে যা কিছু এসেছে, এখন মাটি হোক বা যাই হোক, সেই স্পর্শকৃত বিষয়ের ফযীলত কতটুকু? বলা হচ্ছে- আসমান, যমীন, আরশে আযীম, কা’বা শরীফ, কুরসী শরীফ, সবকিছু থেকেই লক্ষ-কোটি গুণ বেশি সম্মানিত। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
তাই, তাই যদি হয়ে থাকে, শুধু স্পর্শ মুবারক উনার কারণে এতো ফযীলত! সেজন্য অনেকে বলে থাকে- শুধু রওজা শরীফই, শুধু রওজা শরীফই আরশ, কুরসী, কা’বা শরীফ থেকে সম্মানিত।
এ বিষয়ে মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা, মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি তাজদীদ মুবারক করে বলেছেন যে, শুধু রওজা শরীফ নয়; যত কিছু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছেন, সমস্ত কিছুই সম্মানিত ফযীলতপূর্ণ হয়ে গেছেন। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
এতো সম্মানিত হয়ে গেছেন যা আরশ, কুরসী, কা’বা শরীফসহ সমস্ত কিছু থেকেই সম্মানিত হয়ে গেছেন। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! তাহলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শকৃত বিষয়গুলি যদি এমন মর্যাদাবান হয়ে থাকে, তাহলে যার স্পর্শ মুবারক উনার কারণে বিষয়গুলি সম্মানিত হচ্ছেন। তাহলে সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র অজুদ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতটুকু মর্যাদা মুবারক রয়েছেন? উনার কতটুকু ফযীলত মুবারক রয়েছেন? এটা ফিকির করতে হবে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












