পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তেবা ও প্রচার-প্রসারের ফযীলত বিষয়ে
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০২ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৫ম পর্ব)
উনাকে বলা হলো- তিনি হচ্ছেন যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে হাবীবুল্লাহ। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! এবং যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক উনার মাঝেই তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
কাজেই সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা যে কতটুকু ফযীলতপূর্ণ তা বুঝার জন্য এই আয়াত শরীফ বা এই ওয়াকেয়া শরীফ যদি ফিকির করা হয় তাহলে সেটাই যথেষ্ট হবে। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
অন্য দিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ থেকে ফিরে গেলে কী হবে? উনার অনুসরণ থেকে কেউ যদি ফিরে যায় তাহলে কী হবে?
কালামুল্লাহ শরীফে যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সর্তক করে বলে দিচ্ছেন। কি বলে দিচ্ছেন- قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَহে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাদেরকে বলে দিন, আপনি তাদেরকে বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুসরণ করো। আর যদি তোমরা উনাদের অনুসরণ থেকে ফিরে যাও তাহলে মনে রেখো মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে মুহব্বত মুবারক করেন না। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
অর্থাৎ সুন্নত মুবারক উনাদেরকে যারা অবজ্ঞা করে ফিরে যাবে তারা কাফের হিসেবে সাব্যস্ত হবে। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! এই বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت اِبْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: لَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَكَفَرْتُمْ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি তোমরা তোমাদের নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক তরক করো, অবজ্ঞা করো, অপছন্দ করো, ইহানত করো তবে তোমরা অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে। নাউযুবি মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম!
সে কারণেই ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আদেশ-নির্দেশ মুবারক অনুধাবন করতে পেরে ফতওয়া মুবারক দিয়েছিলেন, যে সুন্নত মুবারক পালন করা হচ্ছেন ফরয। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! অনেক আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমেও প্রমাণিত। যে সুন্নত মুবারক ইত্তেবা করা হচ্ছে ফরয।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যে মশহুর ওয়াকেয়া ঘটনা। উনার সময় ছিলো ইমাম মুজতাহিদ উনাদের যামানা। যদিও তিনি হচ্ছেন উনার হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ। তিনি হচ্ছেন ইমাম, মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ, মুহাদ্দিস, মুফাসসিরীন উনাদের ইমাম। অর্থাৎ একজন উম্মত যত ছিফত-গুণ অর্জন করতে পারে; যত দিক থেকে, তিনি সবগুলোই অর্জন করেছেন। সুবহানা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম! তিনি যখন ফতওয়া মুবারক দিলেন যে সুন্নত মুবারক পালন করা হচ্ছে ফরয।
তখন উনার সম-সাময়িক বড় বড় ইমাম মুজতাহিদ যারা ছিলেন তারা উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক করতে আসলেন। উনারা এসে বললেন, হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনাকে তো আমরা ইমাম হিসেবে জানি মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ অর্থাৎ সমস্ত বিষয় আপনি মাহের অভিজ্ঞ এবং সর্বজনমান্য ব্যক্তিত্ব। আপনি এটা কি ফতওয়া মুবারক দিলেন! যে সুন্নত মুবারক পালন করা হচ্ছেন ফরয। আমাদের জানা ছিলো, যে ফরযগুলো হচ্ছে ফরয, ওয়াজিবগুলো হচ্ছে ওয়াজিব, সুন্নত মুবারক হচ্ছেন সুন্নত।
আর আপনি এটা আজ কী ফতওয়া দিলেন? যে, সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা হচ্ছেন ফরয। এর পক্ষে আপনার কোন দলীল আছে কী? তিনি বললেন, হ্যাঁ; দলীল তো আছে। কোথায় দলীল আছে? কুরআন শরীফ থেকেই কেতয়ী দলীল আছে।
এখন সকলেই আশ্চর্য হলেন- উনারা যারা এসেছিলেন উনারা প্রত্যেকেই বড় বড় ইমাম এবং সকলেই হাফেজে কুরআন। কুরআন শরীফে দলীল রয়েছে। তো কুরআন শরীফ উনার মাঝে কোথায় দলীল আছে? তিনি বললেন, অনেক জায়গাতেই তো আছে। তবে একটা আয়াত শরীফ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












