জীবনী মুবারক
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
বিলাদত শরীফ: হিজরতপূর্ব ১০ সন বিছাল শরীফ: ৯৩ হিজরী বয়স মুবারক: ১০৩ বছর
, ০৭ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এমন কোন রাত্র অতিবাহিত হয় না যে রাত্রে আমি আমার হাবীব (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে স্বপ্নে দেখি না, এতটুকু বলে তিনি ক্রন্দন করতে থাকতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক যখন তিনি স্মরণ করতেন তখন খুব অস্থির ও কাতর হয়ে পড়তেন। একদিন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুর রহমাহ মুবারক বা চেহারা মুবারক ও পবিত্র দৈহিক গঠন মুবারকের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তখন শুধু উদাস চাহনিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবদ্দশার সেই সৌভাগ্যে ভরা দিনগুলির কথা স্মরণ করতে লাগলেন।
তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের কথা বলতেন, তখন দেখা যেতো অকস্মাৎ উনার মধ্যে ভাবান্তর ঘটে গেছে। অবলীলাক্রমে উনার যবান মুবারক থেকে বের হয়ে যেতো- কিয়ামতের দিন আমি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে উপস্থিত হবো তখন বলবো, আয় মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সেই কনিষ্ট খাদিম আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উপস্থিত।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতিটি মজলিস নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘটনাবলী স্মরণে ভরপুর থাকতো। সম্মানিত রিসালাত মুবারকের সময়কালের ঘটনাবলী ছাত্র ও ভক্তদের কাছে বর্ণনা করতেন। এই বর্ণনার মধ্যেই অন্তরে একটা প্রচ- ব্যথা অনুভব করতেন এবং তাতে তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন। তিনি বাড়ী ফিরে যেতেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে সকল পবিত্র সামগ্রী উনার নিকট ছিলো তা বের করে বার বার দেখতেন, বুছা দিতেন এবং মনকে সান্তনা দিতেন। উনার ছাত্রদের সকলের মধ্যে এই মুহব্বত অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দ্রব্য-সামগ্রীর মুহব্বত প্রভাব পড়েছিলো।
হযরত ছাবিত বনানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অন্যতম ছাত্র। তিনি একেবারেই উস্তাদের রঙ্গে রঞ্জিত ছিলেন। তিনি উস্তাদের নিকট সবসময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক রেসালাতী যুগ মুবারক সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন। একদিন প্রশ্ন করলেন, আপনি কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারক স্পর্শ করেছেন?
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, হ্যাঁ। অথবা তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারক অপেক্ষা অধিকতর কোমল হাত মুবারক আমি আর কখনও স্পর্শ করিনি। এ কথা শুনে হযরত ছাবিত বনানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্তরে মুহব্বতের জযবা জেগে উঠলো। তিনি উস্তাদজীকে বললেন, আপনার মুবারক হাতটি একটু বাড়িয়ে দিন, একটু চুম্বন করি।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একবার এক দর্জি ছাহাবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আহারের দাওয়াত দিলেন। আমিও উনার সাথে গেলাম। যবের রুটি, শুকনা গোশত এবং কদু তরকারী উপস্থিত করা হলো। আমি দেখলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেছে বেছে কদু খাচ্ছেন। সেদিন থেকে আমি কদু খেতে পছন্দ করি। (হায়াতুছ ছাহাবা)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে খুশু’-খুজূ’ (ভয় ও বিনয়) ও আদব মুবারকের সাথে নামায আদায় করার তারতীব শিক্ষা দিয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেই পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা করতেন। তবে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নামায ছিলো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ম-িত। একবার হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নামায পড়তে দেখে বলেছিলেন, আমি ইবনে উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার নামায অপেক্ষা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামাযের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ আর কারো নামায দেখিনি। (ইছাবা)¬
একবার কিছু লোক যোহরের নামায আদায় করে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাক্ষাতের জন্য আসেন। তিনি তখন খাদেমের নিকট অযুর পানি চাইলেন। লোকেরা জানতে চাইলেন, এ কোন নামাযের প্রস্তুতি? তিনি বললেন, আছরের নামাযের। এক ব্যক্তি বললেন, আমরা তো এখনই যোহরের নামায পড়ে আসলাম। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমীর-উমরাহদের দ্বীনের প্রতি উদাসীনতা এবং জনগণের দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা দেখে দারুণ ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি বললেন, এ তো হবে মুনাফিকদের নামায। মানুষ বেকার বসে থাকবে, তবুও নামাযের জন্য উঠবে না। যখন সূর্য অস্ত যেতে থাকবে, তখন খুব তাড়াতাড়ি মোরগের মত চারটি ঠোকর মেরে দিবে। সেই ঠোকরে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ মুবারক থাকবে অতি অল্পই। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ব্যতিত অন্য কারও অনুসরণ করার বিষয়ে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তির জাওয়াব
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইখলাছই হচ্ছে সমস্ত ইবাদতের মূল। ইখলাছবিহীন ইবাদত প্রাণহীন প্রাণীর ন্যায়। প্রত্যেকের জন্য ইখলাছ অর্জন করা ফরযে আইন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মানুষকে আমলের প্রতি নিরুৎসাহিত করতেই পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে মওজু-জয়ীফ ইত্যাদি অপপ্রচার করছে বাতিল ফিরক্বারা
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












