ওযূর মধ্যে পরিপূর্ণ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা না হওয়ায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
, ২৫ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ رَسُوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ:- হযরত ইমাম মালেক বিন আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি মুরসাল সূত্রে বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, ‘আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস রেখে গেলাম। তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, যতদিন তোমরা সে দু’টিকে শক্তভাবে ধরে থাকবে। সে দু’টি জিনিস হল, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। (মুওয়াত্ত্বা শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)।
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট হলো, যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে, পালন করবে সেই মুসলমন থাকতে পারবে। আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাদেরকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরতে পারবে না, পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করতে পারবে না সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।
হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি একটা সময় ডাকাত সর্দার ছিলেন। তিনি তওবা করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হলেন, তিনি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ হয়ে গেলেন। একদিন হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র ইশার নামাযের ওযূ করলেন। ওযূ করার সময় প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার ধোয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবরক উনার অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু তিনি তিনবার ধোয়ার জায়গায় ভুলে হাত ধোয়ার সময় দু’বার ধুয়ে ওযূ করে পবিত্র ইশার নামায পড়ে শুয়ে রইলেন।
শোয়ার সাথে সাথে তিনি স্বপ্নে দেখতে লাগলেন- মহান আল্লাহ পাক উনার মহসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ (আগমন) মুবারক এনেছেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “হে ফুজায়েল! ” আপনি আমার খালিছ উম্মতের ও আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকের ইত্তেবার দাবীদার, ওযূতে তিনবার হাত ধোয়া সুন্নত মুবারক। আমি তো আশ্চর্য হয়ে গেলাম; আপনি দু’বার হাত ধুয়ে ওযূ করে নামায পড়ে শুয়ে আছেন?”
মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন একথা মুবারক বললেন, তখন হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে গেলেন। তিনি খালিছ তওবা-ইস্তেগফার করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চাইলেন।
শুধু খালিছ তওবা-ইস্তেগফার করেই ক্ষান্ত থাকলেন না, বরং এই ভুলের জন্য কাফফারা বাবদ এক বৎসর নফল রোযা রাখলেন এবং প্রতিদিন ৫০০ রাকায়াত করে নামায কাফফারা বাবদ আদায় করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
ফিকিরের বিষয়, হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভুলে একখানা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক ছেড়ে দেওয়ায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সতর্ক করে দিলেন।
আর বর্তমান সমাজে মানুষ অসংখ্য মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক ছেড়ে দিয়ে কাফের-মুশরিকদের অনুসরণে ব্যস্ত। নাউযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: আয় আমার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা যিনি খ¦লিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত মুবারক করে থাকো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ মুবারক করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবেন এবং তোমদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
সুতরাং যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করবে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক লাভ করবে এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এছাড়াও আরো অসংখ্য নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হবে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاِنْ تُطِيْعُوْهُ تَهْتَدُوْا
অর্থ: আর যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ মুবারক করো, তাহলেই তোমরা সম্মানিত হিদায়েত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা নূর শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ নং:-৪৫)
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ বা ইত্তেবা মুবারক করলেই হাক্বীক্বী হিদায়েত মুবারক লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক প্রচার-প্রসারের বেমেছাল গুরুত্ব- ফযীলত মুবারক
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৪)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (৩)
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (২)
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র শবে বরাত শরীফ পালন করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র শবে বরাত শরীফ পালন করা খাছ সুন্নত মুবারক
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা ও দিনে রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (১)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












