ইস্তিঞ্জার মাসয়ালা-মাসায়িল ও ইস্তিঞ্জার পর ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
, ০৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৫ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ০৪ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২১ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ইস্তিঞ্জার পর ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা:
ইস্তিঞ্জার পর ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক। কারণ এ ব্যাপারে উদাসীনতার ফলে শরীর ও কাপড় নাপাক থেকে যায় এবং ওজু ও নামাযও বাতিল হয়ে যায়।
শুকনা মাটির টুকরা, পাথর, নতুন বা পুরাতন কাপড়ের টুকরা, তুলা ইত্যাদি দ্বারা কুলুখ নেয়া জায়িয আছে। হাড়, শুকনা চামড়া, কয়লা ইত্যাদি কুলুখরূপে ব্যবহার করা মাকরূহ। কোন খাদ্যদ্রব্য দ্বারা কুলুখ নেয়া নিষিদ্ধ, হারাম।
পুরুষের ছোট ইস্তিঞ্জা একেবারেই সম্পূর্ণ নির্গত হয় না। খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। এই অবস্থায় ইস্তিঞ্জা বন্ধ হওয়া মাত্রই অপেক্ষা না করে পানি ব্যবহার করে উঠে গেলে পরে এক-দুই ফোঁটা ইস্তিঞ্জা বের হয়ে শরীরে ও কাপড়ে লেগে যেতে পারে।
এজন্য ইস্তিঞ্জা বন্ধ হয়ে গেলে ঢিলা-কুলুখ নিয়ে উঠা-বসা করলে, দুই-এক বার কাশি অথবা গলা খাঁকার দিলে এবং তলপেটে একটু ঝাঁকানী দিলে ইস্তিঞ্জার ফোঁটা নিঃশেষে বের হয়ে আসে। তারপর পানি ব্যবহার বা খরচ করলে কোন আশংকা থাকে না।
আর বড় ইস্তিঞ্জা করার পর যে কয়টি কুলুখ ব্যবহার করলে ইস্তিঞ্জা পরিস্কার হয়ে যায় সেই কয়টি ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণতঃ তিনটি কুলুখ ঠিকমত ব্যবহার করলে ইস্তিঞ্জা অবশিষ্ট থাকতে পারে না। তিনটি কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
পুরুষের ক্ষেত্রে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার তরীক্বাহ:
উল্লেখ্য, পুরুষেরা শীতের মৌসুমে প্রথম কুলুখ পিছন দিক হতে সামনের দিকে, দ্বিতীয় কুলুখ সামনের দিক হতে পিছনের দিকে এবং তৃতীয় কুলুখ পুনরায় পিছন দিক হতে সামনের দিকে টানবে।
গরমের মৌসুমে এই নিয়মের বিপরীত করবে অর্থাৎ প্রথমটি সামনের দিক হতে পিছনের দিকে, দ্বিতীয়টি পিছন দিক হতে সামনের দিকে এবং তৃতীয়টি প্রথমটির মতো সামনের দিক হতে পিছনের দিকে টানবে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার তরীক্বাহ:
আর মহিলারা সকল মৌসুমেই প্রথম ও তৃতীয় কুলুখ সামনের দিক হতে পিছনের দিকে এবং দ্বিতীয়টি পিছন দিক হতে সামনের দিকে টানবে। কুলুখ ব্যবহারের ফলে ইস্তিঞ্জা পরিস্কার হওয়ার পরই পানি ব্যবহার করা উত্তম।
আরো উল্লেখ্য, ইস্তিঞ্জাখানায় বসার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দাঁড়ানো থেকে বসার কাছাকাছি হয়ে তারপর সতর অনাবৃত করবে এবং বাম পায়ের উপর খানিকটা বেশি ভর দিয়ে বসলে তাড়াতাড়ি এবং ভালভাবে কোষ্ঠ পরিস্কার হয়।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আয়না ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (২)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (১)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












