আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (৮)
, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ইহুদীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলমানদেরকে ছহীহ আক্বীদা ও আমল থেকে বিচ্যুত করে দেয়াই এদের উদ্দেশ্য:
আমরা সবাই জানি রাফিযী, শিয়া, খারিজী, ক্বদরিয়া, জহমিয়া, মুশাব্বিয়া এসব বাতিল ফিরকার লোকেরা বদ আকীদার এবং বিদয়াতী। তাহলে এসব বর্ণনাকারী কেন ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার কিতাবে?
বদ আকীদার রাবী সম্পর্কেও একেক ইমাম উনাদের একেক দৃষ্টি ভঙ্গি রয়েছে। যেমন, হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুতাজিলা ফেরকার লোকদের বর্ণিত হাদীছ শরীফ গ্রহণ করতেন না। (আল ফারকু বাইনাল ফিরকি ৩৫৮ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তাদের (শিয়া) নিকট পবিত্র হাদীছ বর্ণনা করো না, তাদের কাছ থেকে গ্রহণও করা যাবে না। (আল মুনত্বাকা ২১ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রাফিযী শিয়াদের চাইতে অধিক মিথ্যা রচনাকারী সম্প্রদায় আমি দেখিনি। (আল কিফায়া ২০২ পৃষ্ঠা)
তাহলে বর্তমানে ওহাবী সম্প্রদায় কি বুখারী শরীফ মুসলিম শরীফ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ বাদ দিয়ে দিবে? তারাইতো জোর গলায় প্রচার করে থাকে-
اَصَحُّ الْكِتَابِ بَعْدَ كِتَابِ اللهِ اَلصَّحِيْحُ الْبُخَارِيُّ.
অর্থ: “পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পর সর্বাধিক ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব হলো ছহীহ বুখারী।” (আল হিত্তাহ ফি যিকরিল ছিহাহুস সিত্তাহ ১/২১৯)
ওহাবী সালাফীরা কি জানে বুখারী শরীফেই দ্বয়ীফ সনদের বর্ণনা আছে?
বর্ণনাকারী যদি তার উস্তাদকে বাদ দিয়ে সরাসরি পরবর্তী ব্যক্তি থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে সেক্ষেত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উছুল অনুযায়ী মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ হয়। উছূলের কিতাবে মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ উনাকে বর্জনীয় বলা হয়েছে। অথচ মজার বিষয় হলো ছহীহ বুখারী শরীফেও মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ রয়েছে। যেমন-
قَالَ مَالِكٌ: أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهٗ اَنَّ أَبَا سَعِيْدٍ الْـخُدْرِىَّ اَخْبَرَهٗ أَنَّهٗ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيَهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ.
উক্ত সনদখানা বুখারী শরীফ উনার “কিতাবুল ঈমান” অধ্যায়ে ৪১ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ (যারা বাংলায় দেখতে চান তারা ইসলামী ফাউন্ডেশনের অনুবাদে ৪০ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ দেখতে পারেন)। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সরাসরি ইমাম হযরত মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। অথচ হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার (৯৩-১৭৯ হিজরী) বিছাল শরীফের প্রায় ১৫ বছর পর ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৯৪-২৫৬ হিজরী) বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তার মানে হচ্ছে ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম হযরত মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত পাননি। সাক্ষাত না পাওয়ার পরও মাঝখানে বর্ণনাকারী বাদ দিয়ে সরাসরি ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক ব্যবহার করেছে।
শুধু তাই নয় ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে এমন মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ উনার সংখ্যা ১৩৪১টি। তারমধ্যে ১১৭১/১১৮১টি হাদীছ শরীফ উক্ত বুখারী শরীফেই অন্যস্থানে সনদসহ বর্ণিত আছে। আর বাকি ১৬০/১৭০টি হাদীছ শরীফ বুখারী শরীফে কোথাও সনদসহ বর্ণিত হয়নি। (তাদরীবুর রাবী ১/৭৭)
এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ উনার ব্যাখ্যাকার ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَاَمَّا مَا لَـمْ يُوْرِدْهُ فِىْ مَوْضَعٍ اخَرٍ مِمَّا أَوْرَدَهٗ بـِهذِهِ الصِّيْغَةِ فَمِنْهُ مَا هُوَ صَحِيْحٌ اِلَّا أَنَّهٗ لَيْسَ عَلى شَرْطِهٖ وَمِنْهُ مَا هُوَ حَسَنٌ وَمِنْهُ مَا هُوَ ضَعِيْفٌ فَرْدٌ اِلَّا اَنَّ الْعَمَلَ عَلى مُوَافِقَتِه وَمِنْهُ مَا هُوَ ضَعِيْفٍ فَرْدٌ لَا جَابِرَ لَهٗ
আর যে পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো সনদসহ বুখারী শরীফ উনার অন্যস্থানে নেই এবং মজহুল শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো কিছু ছহীহ হলেও বুখারী শরীফ উনার শর্ত অনুযায়ী ছহীহ নয়। বাকিগুলো কিছু হাসান কিছু দ্বয়ীফ। যার কোন কোনটার স্বপক্ষে উম্মত উনাদের আমল রয়েছে। অবশিষ্টগুলো এমন দ্বয়ীফ যার সমর্থনে কোন কিছু নেই। (ফতহুল বারী ১ম খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল মা’রিফা, বৈরুত, লেবানন)
وَاَمَّا مَا لَـمْ يُخْرِجْهُ فَيَحْتَمِلُ اَنْ يَّكُوْنَ لَهٗ عِلَّةٌ خُفْيَةٌ مِنْ اِنْقِطَاعٍ اَوْ اِضْطِرَابٍ اَوْ ضُعْفٍ رَاوٍ
অর্থ: আর যেই পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো অন্যস্থানে সনদসহ নেই সেগুলোর মধ্যে সুক্ষ¥ দুর্বলতা থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যেমন- ইনকেতা, ইসতিরাব, রাবী দুর্বল ইত্যাদি। (তাগলীকুত তালীক আলা ছহীহ বুখারী ২য় খন্ড ১১ পৃষ্ঠা)
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রচিত “তাগলীকুত তালীক আলা ছহীহ বুখারী” দেখা যেতে পারে। সুতরাং বুখারী শরীফ হলেই এক ঢোক পানি বেশি খাওয়ার সুযোগ নাই। (ইনশাআল্লাহ! চলবে)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












