আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি জামিউছ ছিফত রূপে উসওয়াতুন হাসানাহ
, ০৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২১ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ২০ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ০৬ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
একেক ফুলের একক রকম ঘ্রাণ। আবার এমন অনেক ফুল রয়েছে, যেগুলোকে তুলনা করার কোনো ক্ষেত্র নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আটখানা জান্নাত মুবারক তৈরি করেছেন। একেকগুণের বান্দা একেক জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তবে এমন কতেক আখাছছুল খাছ বান্দা রয়েছেন, উনাদেরকে পুরো আটখানা জান্নাত হতেই আহবান করা হবে। যেমনটি মহাপবিত্রতম হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার কতিপয় বান্দা রয়েছেন, সর্বপ্রকার সর্বোত্তম গুণে উনারা গুণান্বিত। এমনি একজন মহাসম্মানিত অজুদ মুবারক উনার জন্য এ কলামসহ আমাদের সমস্ত কিছুই উৎসর্গকৃত।
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাাইহিম উনাদের মুবারক খুছূছিয়ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন- ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অলীআল্লাহগণ উনারা প্রথমত, যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী। দ্বিতীয়ত, রগীব বা দায়িমীভাবে আখিরাতমুখী। তৃতীয়ত, নিজের আমল সম্পর্কে সর্বদা সজাগ বা সচেতন। চতুর্থত, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে সর্বদা মশগুল। পঞ্চমত, চরম পর্যায়ের পরহেযগার। ষষ্ঠত, মুসলিম উম্মাহর ইজ্জত ও আবরু রক্ষায় সতর্ক। সপ্তমত, উম্মাহর মাল সম্পদ হিফাযতে অত্যাধিক তৎপর। অষ্টমত, উম্মাহকে তিনি নছীহতকারী।
হিজরী সনের নবম মাসের নবম তারিখের রাত নয়টায় এ ধরাধামে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন মুজাদ্দিদে আযম, হাবীবে আযম সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, বাহরুল উলূম ওয়াল হিকাম, খাযীনুর রহমাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম।
বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেই মহান আল্লাহ পাক যমীনে প্রেরণ করেছেন। তিনি চরম পর্যায়ের যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী। তাইতো এই মুবারক কৈশোরেও নিজেকে তিনি চার দেয়ালের মাঝে আটকে রাখেন। দুনিয়াদারী, হারাম- নাজায়িয, বেপর্দা-বেহায়াপনাসহ শরীয়তবিরোধী কোনো কিছু কোনোভাবেই উনাকে ¯পর্শ করতে পারে না। রিয়াজত-মাশাক্কাতের পূর্ণ অনুশীলনে তিনি দায়িমীভাবে ব্যাপৃত। যিনি দুনিয়া বিরাগী তিনি তো দায়িমীভাবেই আখিরাতমুখী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের হুজুরীতে অভ্যস্ত। মহাপবিত্রতম হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “তোমরা হায়াতকে এমনভাবে অতিবাহিত করো, যেন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখছো। ” সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এই হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক। তাই তিনি উনার আমল মুবারক সম্পর্কে এতোই সচেতন যে, তিনি একটি মুস্তাহাব সুন্নতও কখনো তরক করেন না। উনার বাল্যকাল মুবারক হতেই উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের সুনছীব হয়েছে এই অধমের। এই অধম কখনো এক মুহূর্তের জন্যও উনাকে সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ আমল করতে দেখেনি। অন্যান্য শিশুরা যে বয়সে হৈ হুল্লোড় আর ডানপিটে ভাব প্রকাশ করে থাকে, তিনি উনার সেই বয়স মুবারকে এক বিশেষ গাম্ভীর্যতা প্রকাশ করতেন। অর্থাৎ তিনি একদিকে উনার আমল মুবারক সম্পর্কে অত্যাধিক সচেতন, অপরদিকে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ মুবারক এবং নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক অনুসরণ ও অনুকরণে তিনি দায়িমীভাবে মশগুল। সুবহানাল্লাহ! আর এমন মহান ব্যক্তিত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরহেযগার হওয়ার বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট।
সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একদিকে খলীফাতুল উমাম, আরেকদিকে তিনি আল মানছুর। ইসলামবিমুখ হয়ে হারাম তন্ত্র-মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ায় উম্মাহ যখন কাফির-মুশরিক কর্তৃক নির্যাতিত-নিপীড়িত, তখন অসংখ্য হাদীছ শরীফ উনাদের সুসংবাদ হয়ে খলীফাতুল উমাম রূপে তিনি তাশরীফান। সারা বিশ্বে মহাপবিত্রতম কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ এবং খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াত প্রতিষ্ঠা করে উম্মাহকে নির্যাতন-নিপীড়ন হতে হিফাযত করতঃ জান্নাতী শান্তি স্থাপনে তিনি মহাপবিত্রতম হাদীছ শরীফে ঘোষিত “আল মানছুর” বা সর্বাধিক খোদায়ী সাহায্যপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মাহকে সর্বোত্তম নসীহতকারী। রাজারবাগ শরীফ সিলসিলাভুক্ত সকলেই সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ইলহাম-ইলক্বা সমৃদ্ধ নসীহত মুবারক সম্পর্কে সম্যক অবগত। হীনম্মন্যতার দরুণ পিছিয়ে পড়া মুসলিম উম্মাহকে আবারো জাগাতে হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার জবানী ও কলমী নসীহত মুবারক সত্যি বেমেছাল।
মহাপবিত্রতম হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে মহান ব্যক্তিত্ব উনার আমল দেখলে নেক আমল করার ইচ্ছা জাগে, নসীহত মুবারক শুনলে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ হয়, তোমরা উনার অনুসরণ করো। ”
এ কথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এমনি অজুদ মুবারক, যিনি জামিউছ ছিফত বা সর্বপ্রকার সর্বত্তোম ছিফত বা গুণাবলীর অধিকারী। উনার স্মরণ বান্দাহ-উম্মতকে মহান আল্লাহ পাক উনার, নূরে মুজ্স্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আযম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের স্মরণ, অনুসরণ-অনুকরণে নতুনভাবে উদ্দমী এবং আগ্রহী করে তোলে।
মূলকথা হচ্ছে, বাহরুল উলূম ওয়াল হিকাম, খাযীনাতুর রহমাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি জামিউছ ছিফত রূপে উসওয়াতুন হাসানাহ। সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- বেশি বেশি উনার আলোচনা মুবারক করা। উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা।
-আহমদ নুছাইর।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












