(وِسَادَةٌ) “উইসাদাহ” বা চামড়ার বালিশ ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
, ২৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৭ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পবিত্র বালিশ মুবারক ব্যবহার করতেন সেই বালিশ মুবারক চামড়ার তৈরী ছিলো এবং তার ভিতরে খেজুরের ছাল-ছোবড়া ভর্তি ছিল। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন কিতাবে অসংখ্য মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَحْتَ رَأْسِهٖ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيْفٌ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত মুবারক করলাম, তখন উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নুরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাথা মুবারক উনার নিচে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ মুবারক ছিল। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ فِرَاشُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اَدَمٍ وَحَشْوُه مِنْ لِيْفٍ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বালিশ মুবারক ছিল চামড়ার তৈরী এবং তার ভেতরে ছিল খেজুর গাছের ছাল।” (বুখারী শরীফ: ৬৪৫৬)
উক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চামড়ার তৈরী বালিশ মুবারক ব্যবহার করতেন যার ভিতরে খেজুরের ছাল-ছোবড়া ভর্তি ছিল।
আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সর্বাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করা। কাজেই সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব, হচ্ছে বেধর্মীদের যাবতীয় তর্জ-তরীক্বাহ বাদ দিয়ে, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা, অনুসরণ-অনুকরণ করা।
তবেই অতি সহজে সর্বপ্রকার আযাব-গযব থেকে হিফাযত থেকে, সর্বপ্রকার নিয়ামত, রহমত-বরকত হাছিল করা সহজ ও সম্ভব হবে।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهٗ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيْدٍ
অর্থ: “যে ব্যক্তি ফিতনা ফাসাদের যুগে আমার একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আঁকড়ে ধরে থাকবেন অর্থাৎ পালন করবেন, তিনি একশত শহীদ উনাদের সমপরিমাণ ছওয়াব লাভ করবেন।” (মিশকাত শরীফ)
যাতে করে বান্দা-বান্দী, উম্মত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনের মাধ্যমে সহজেই সেই রহমত-বরকত লাভ করতে পারে, সেজন্য খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, নূরে মুকাররাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা মুবারক করেছেন আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র। যার মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যাবতীয় মহাসম্মানিত সুন্নতী বিষয় সমূহ।
কাজেই সকলের জন্য আবশ্যক হলো, সকল প্রকার সুন্নত মুবারক সম্পর্কে জেনে-শুনে, মনে রেখে আমলে বাস্তবায়ন করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












