সমঝ ও বিচক্ষণতা (৪)
পূর্ব প্রকাশিতের পর
কুফা শহরে এক ব্যক্তি ছিলো গোঁড়া শিয়া। সে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের তৃতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, আজওয়াদুন নাস, সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ইহুদী বলে বেড়াতো। নাঊযুবিল্লাহ! ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন তাকে বললেন, “তোমার মেয়ের জন্য কি বর খুঁজছ? আমার সন্ধানে একজন ছেলে আছে। তিনি অত্যন্ত শরীফ বংশের ছেলে। অধিক ধনাঢ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাফিয, খুবই পরহেযগার, মুত বাকি অংশ পড়ুন...
গ) জাল্লালা প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা নাজায়িয : জাল্লালা প্রাণী দিয়ে কুরবানী করা জায়িয নেই। জাল্লালা প্রাণী বলে ওই প্রাণীকে, যে প্রাণী সদা-সর্বদা মল খেয়ে জীবন ধারণ করে, যার কারণে ঐ সমস্ত পশুর গোশতে দুর্গন্ধ পয়দা হয়। আর যে সমস্ত পশু প্রায় প্রায় মল বা নাজাসাত খেয়ে থাকে, সে সমস্ত পশু দিয়ে কুরবানী করা সম্পর্কে ইখতিয়ার রয়েছে। তবে যারা জায়িয বলেছেন, উনারা বলেছেন- উট হলে ৪০ দিন, গরু হলে ২০ দিন, ছাগল হলে ১০ দিন, মোরগ হলে ৩ দিন, চড়ুই পাখি হলে ১ দিন বেঁেধ রেখে ভাল খাদ্য দিয়ে তার গোশতের দুর্গন্ধ দূরীভূত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পর যবেহ বাকি অংশ পড়ুন...
খ) গৃহপালিত পশু মধ্যে শুধুমাত্র দুম্বা, ভেড়া, ছাগল, উট, গরু ও মহিষ দ্বারা কুরবানী দেয়া জায়িয : গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানী করার বিধান থাকলেও যে কোন গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানী করলে শুদ্ধ হবে না। বরং ৬ প্রকার গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানী করতে হবে। এই ৬ প্রকার পশু হচ্ছে দুম্বা, ভেড়া বা মেষ, খাসী বা বকরী, উট, গরু ও মহিষ। এই ছয় প্রকার পশুর নর-মাদী উভয়ই কুরবানী যোগ্য পশু।
দুম্বা কুরবানী : দুম্বা কুরবানীর ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم বাকি অংশ পড়ুন...
২১ পর্ব:
আপনারা লক্ষ্য করুন, আমার বান্দারা কি অবস্থায় এসেছে, কি করতেছে। এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি সে বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দেন হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে। উনারা সেটা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلآَئِكَةِ إِنِّيْ جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيْـفَةً
মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে যে সৃষ্টি করবেন সে বিষয়টা বলেছিলেন। হে হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম! আমি যমীনে খলীফা পাঠাতে চাই? বিষয়টা তাদে বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার নামাযের বিবরণ
পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা রাখার পর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ উনার চাঁদের প্রথম দিবস সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী খুশি প্রকাশের নাম পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিনে ছয় তাকবীরের সাথে দুই রাক‘আত ওয়াজিব নামায আদায় করতে হয়। এ পবিত্র নামায সূর্যোদয় হতে মাকরূহ ওয়াক্তের পূর্ব পর্যন্ত পড়া যায়। বিশেষ ওজরবশতঃ ১ম দিন পড়তে না পারলে পরের দিনও পরা যায়। পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার নামায সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আর পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার নামায এর চেয়ে একটু পরে। অর্থাৎ ঈদের নামাযদ্বয় সকাল সকাল আদায় করা খাছ সুন্নত মুবাà বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র কুরবানী উনার পশুর বৈশিষ্ট্য
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- فَصَلّ لِرَبّكَ وَانْـحَرْ ◌
অর্থ : “আপনার মহান রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন। ” (পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
এখন কুরবানী করতে হলে কুরবানী উনার পশুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য রাখতে হয়। নি¤েœ সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
ক) কুরবানী যোগ্য পশু গৃহপালিত হতে হবে বন্য পশু দ্বারা কুরবানী দেয়া নাজায়িয : ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে পবিত্র কুরবানী উনার জন্য পশুকে গৃহপালিত হওয়ার শর্ত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঠবাকি অংশ পড়ুন...
২০ পর্ব;
এটা হচ্ছে একটা ফযীলত এখানে বলা হয়েছে। আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়, যে পবিত্র হাদীছ শরীফ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। এটা একটা লম্বা বড় হাদীছ শরীফ।
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ إِنَّ اللهَ يَـنْزِلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْـيَا فَـيُـبَاهِيْ بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ فَـيَـقُوْلُ: انْظُرُوْا إِلٰى عِبَادِيْ أَتَـوْنِي شُعْثًا غُبْـرًا ضَاجِّيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ فَـيَـقُوْلُ الْمَلَائِكَةُ: يَا رَبِّ فُلَانٌ كَانَ يُـرَهَّقُ وَفُلَانٌ وَفُلَانَةُ قَالَ: يَـقُوْلُ اللهُ ع বাকি অংশ পড়ুন...
খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اجْتَنِبُوْا كَثِيْرًا مِّنَ الظَّنِّ اِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ اِثْـمٌ ۖ
অর্থ : “হে মু’মিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা হতে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কোন কোন ধারণা পাপজনক হয়ে থাকে।” (পবিত্র সূরা হুজুরাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২)
উদ্ধৃত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে অনেক ধারণা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে অর্থাৎ অনুমান করে ধারণা করা সম্মানিত শরীয়তসম্মত নয়। সেজন্যই বলা হয়েছে যে, কোন কোন ধারণা পাপ বা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرِتْ اَبÙ বাকি অংশ পড়ুন...
ঘ) কুরবানীর পশুর রক্তের বিনিময়ে গুনাহখ¦তা ক্ষমা করা হবে : পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিনে বান্দার পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তার গুণাহ মাফ করে দেন।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ ব্যাপারে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا فَاطِمَةُ ع বাকি অংশ পড়ুন...
১৯
অন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলেছেন-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: حُجُّوْا
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা হজ্জ সম্পাদন করো যাদের হজ্জ ফরয হয়েছে। কেন?
فَإِنَّ الْـحَجَّ يَغْسِلُ الذُّنُـوْبَ
নিশ্চয়ই হজ্জ সমস্ত গুনাহগুলিকে ধুয়ে পরিস্কার করে দেয়, মা’ছূম নিস্পাপ করে দেয়।
كَمَا يَغْسِلُ الْمَاءُ الدَّرَنَ
যেমন পানি ময়লাগুলি দূর করে দেয়। ঠিক একইভাবে হজ্জ মানুষের সমস্ত গুনাহখাতাগুলি দূর করে মা†বাকি অংশ পড়ুন...
১৮ পর্ব:
মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক্ব যিনি মালিক যিনি রব তিনি উনার পবিত্র কালাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে, আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে পবিত্র হজ্জ এবং উমরা সম্পর্কে বান্দা-বান্দি উম্মতদের জন্য বিস্তারিত ফাযায়িল-ফযীলত, মাসয়ালা-মাসায়িল, হুকুম-আহকাম বর্ণনা করেছেন। যে বিষয় উম্মতদের জন্য ইলিম অর্জন করা ফরয ওয়াজিবের অন্তুর্ভুক্ত। কারণ যিনি খ¦লিক্ব যিনি মালিক যি বাকি অংশ পড়ুন...












