জীবনী মুবারক
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯)
বিলাদত শরীফ: ১২০১ হিজরী বিছাল শরীফ: ১২৪৬ হিজরী বয়স মুবারক: ৪৫ বছর
, ১৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(৯)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ২৪ পৃষ্ঠায় ও “কারামতে আহমদী” কিতাবের ৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হিন্দুস্থানে যে সময় দুর্ভিক্ষের জন্য মানুষ নিজেদের সন্তানদেরকে বিক্রয় করতে বাধ্য হতো সেই সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে শতাধিক লোক প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবার খেতো। উনার খাদ্য ভান্ডারের জিম্মাদার মৌলভী মুহম্মদ ইউসুফ সাহেবের প্রতি তিনি আদেশ মুবারক করেছিলেন, সকল লোকের জন্য একই প্রকার খাদ্য প্রস্তুত হবে আর খাদ্য প্রস্তুত হলে বড় বড় ডেকচিতে রেখে চাদর দিয়ে যেন ঢেকে রাখা হয়। তারপর হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে খাদ্যবস্তুকে হাত দ্বারা স্পর্শ করে এই দোয়া পড়তেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! ইহা বৃদ্ধি করে দিন এবং এতে বরকত দান করুন।
অবশেষে দশ দশ কিংবা বিশ বিশ জনকে একত্রে বসিয়ে বড় বড় পাত্রে খাবার খাওয়ানো হতো। যদিও দুর্ভিক্ষের জন্য খাদ্য অল্প পরিমাণ প্রস্তুত করা হতো অথচ এতে এতো বরকত হতো যে, সমস্ত কাফেলার লোক তা ভক্ষণ করে তৃপ্তি লাভ করতো এমনকি কখনো কখনো কিছু খাদ্য বেশী হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
(১০)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৪-৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মৌলভী মুহম্মদ আলী রামপুরী সাহেব লিখেছেন যে, কলকাতায় গোলাম হুসাইন নামক একজন বড় অর্থশীল দালাল ছিলো। তার ৯০ লক্ষ টাকা ছিলো। কোটি টাকা পূর্ণ করার জন্য দিবা-রাত্রি তার আকাঙ্খা ছিলো। ঐ ব্যক্তি বড় মদখোর, বদকার ছিলো।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে তার অতিশয় শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছিলো, যেহেতু তিনি নৃত্যাগীত, মদপান ইত্যাদি আমোদ-প্রমোদের বিষয়গুলো নিষেধ করতেন। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তার অবাধ্যতা অবগত হয়ে কিছুই বলতেন না।
একদিন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আছরের নামায পরে এক ময়দানে ভ্রমণ করছিলেন। সেই সময় তিনি হঠাৎ মাথা থেকে টুপি মুবারক খুলে বললেন, ‘গোলাম হুসাইন দালালের উপর এখনই মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হলো।’ তারপরে তিনি শহরে পৌঁছে শুনলেন যে, উক্ত দালাল ঠিক সেই সময় উম্মাদ হয়ে গিয়েছে। যখন তার চৈতন্য লাভ হতো তখন সে চিৎকার করে বলতো যে, ‘হয় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমার নিকট আনয়ন করো, না হয় আমাকে উনার নিকট নিয়ে যাও।’ লোকেরা তাকে খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট নিয়ে গেলে সে একটু আরোগ্য লাভ করতো এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলে পুনরায় উম্মাদ হয়ে যেতো। অবশেষে সে ঐ অবস্থায় বিষয় সম্পত্তি ত্যাগ করে মারা যায়।
(১১)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হজ্জে যাওয়ার সময় আদন বন্দরে উপস্থিত হলে কয়েকজন লোকসহ একটি নৌকায় উঠে বন্দরে নামলেন। শহরটি বন্দর হতে দূরে অবস্থিত। এদিকে সূর্যের এত প্রচন্ড তাপ যে এক পা চলাও কঠিন। সেখানে উট ইত্যাদি কোন প্রকার যানবাহন ছিলো না। আবার কারো পায়ে জুতাও ছিলো না।
অনুসন্ধানে অবগত হওয়া গেলো যে, সামনের পাহাড়ে ভাড়ায় উট পাওয়া যায়। কিন্তু উক্ত প্রচন্ড সূর্যের তাপে পাহাড় পর্যন্ত গিয়ে উট নিয়ে আসা সাধ্যাতীত ছিলো। তখন সঙ্গীরা নিরুপায় হয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট আবেদন করলেন। এতে তিনি বললেন, ‘তোমরা চিন্তা করো না, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের আবশ্যকীয় বিষয় আমাদের জন্য সংগ্রহ করে দিবেন।’ তারপর তিনি সকলকে ৭ বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়তে বললেন। তাদের উক্ত পবিত্র সূরা শরীফ পড়া শেষ হতে না হতেই পাহাড়ের দিক হতে কয়েকটি উট সোজাভাবে উনাদের নিকট এসে উপস্থিত হলো এবং উনাদেরকে উটের পরিচালকরা তাদের উটের উপর উঠিয়ে আদন শহরে পৌঁছে দিলো।
শহরে পৌঁছে দেয়ার পরে উটগুলো ও তৎসমূদয়ের পরিচালকগণ অদৃশ্য হয়ে গেলো। ভাড়ার টাকা দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে খোঁজা হলো কিন্তু তাদের সন্ধান পাওয়া গেলো না। শহরের কাজির নিকট উট পরিচালকগণের রূপ ও চেহারার কথা প্রকাশ করা হলো ও কাজির নিকট তাদের ভাড়ার টাকা জমা রাখার প্রস্তাব করা হলো। কিন্তু কাজী সাহেব বললেন, এরূপ চেহারার উট পরিচালকরা এখানে নাই। কোন গায়েবী সাহায্য আপনাদের নিকট পৌঁছেছিলো, যদি আপনারা এই প্রচন্ড তাপে উক্ত সাহায্য প্রাপ্ত না হতেন তবে আপনারা মারা যেতেন। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












