জীবনী মুবারক
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭)
বিলাদত শরীফ: ১২০১ হিজরী বিছাল শরীফ: ১২৪৬ হিজরী বয়স মুবারক: ৪৫ বছর
, ১৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(৩)
“কারামতে আহমদী” কিতাবের ৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হজ্জে যাওয়ার সময় সমুদ্রের মধ্যে স্টিমারে মিষ্টি পানি শেষ হয়ে গিয়েছিলো। জাহাজের পরিচালকরা তা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে অবগত করলে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করতে বসে গেলেন। দোয়া করার সময় উনার নিকট ইল্হাম হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই স্থানের সমুদ্রের পানি মিষ্টি করে দিয়েছেন। যে পরিমাণ পানি ইচ্ছা হয় জাহাজে পূর্ণ করে নেয়া যাবে। তখন তিনি জাহাজের পরিচালকদেরকে এই সুসংবাদ জানিয়ে দিলেন। তারা সাথে সাথে পরিমাণ মত মিষ্টি পানি সমুদ্র থেকে তুলে জাহাজ পূর্ণ করে নিলেন। সুবহানাল্লাহ!
(৪)
“একখানা বিজ্ঞাপন রদ” কিতাবের ৪৭ পৃষ্ঠায়, “তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, কলকাতার একজন মশহুর বড় আলিম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি অভক্তি প্রকাশ করতো। একদিন মৌলভী আশরাফ আলী সাহেব তিনি ওই ব্যক্তিকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি সেই সময় খাবার খাচ্ছিলেন। উক্ত দু’জনকে দেখে তাদেরও আহার করার জন্য তিনি বললেন এবং উক্ত মশহুর বড় আলিমের হাত ধরে বললেন, আপনি হাত ধুয়ে শরীক হয়ে যান। হাত ধরা মাত্র উক্ত আলেম সাহেব অচৈতন্য হয়ে তওবা করতঃ উনার কাছে মুরীদ হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, যখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার হাত ধরেছিলেন তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের ফয়েজ মুবারক প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকস্বরূপ মানতেক, হিকমাত ইত্যাদি নাপাক ইলিমগুলো আমার অন্তর থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলো এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে প্রাপ্তির পথ আমার জন্য সহজ হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
(৫)
কিতাবে বর্ণিত আছে, একবার কিছু শিয়া ও বাতিল ফিরকার লোক অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট কিছু প্রশ্ন নিয়ে এলো। তাদের ধারণা ছিলো যে, তাদের প্রশ্নগুলোর জবাব তিনি দিতে পারবেন না। কিন্তু তাদের উক্ত প্রশ্নগুলোর জবাব হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদগণই দিতে চাইলেন। কিন্তু বাতিল ফিরকার লোকেরা উনাদের একথায় রাজি হলো না। তাদের ধারণা ছিলো হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেহেতু মাদরাসায় লেখাপড়া করেননি তাই তাদের এ প্রশ্নগুলোর জবাব নির্ঘাত তিনি দিতে পারবেন না।
এমনকি মুজাহিদে মিল্লাত, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিজের মুরীদানগণের মধ্য হতেও কেউ কেউ উক্ত সন্দেহের মধ্যে ছিলো, তখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাশ্ফের মাধ্যমে আপন মুরীদানদের অন্তরের এই অবস্থা জেনে নিলেন।
তিনি বললেন, ঠিক আছে সরাসরি তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমিই তাদের এ প্রশ্নের জবাব দিবো। তখন উক্ত বাতিল ফিরকার লোকেরা উনার সামনে এসে নতজানু হয়ে উনাকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ফিক্বাহ্ ও মানতেক থেকে কিছু প্রশ্ন করলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাদের প্রশ্নগুলোর জবাব অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে দিলেন যা তারা কল্পনা করতে পারেনি। এতে তারা যারপর নাই বিস্মিত ও অবাক হয়ে সন্তুষ্টচিত্তে চলে গেলো।
যখন বাতিল ফিরকার লোকেরা তাদের প্রশ্নের জবাব পেয়ে চলে গেলো তখন কিছু মুরীদান উনাকে জিজ্ঞাসা করলো, হুযূর! আমরা আপনাকে দেখলাম আপনি যখন পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহ্ থেকে তাদের প্রশ্নের জবাব দিলেন তখন আপনার মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা লক্ষ্য করা গেলো। কিন্তু আপনি যখন তাদের মানতেকের প্রশ্নগুলোর জবাব দিচ্ছিলেন তখন আপনার শরীর মুবারক থেকে ঘাম ঝরছিলো, এর কারণ কি?
খলীফাতুল্লাহ্ ফিল্ আরদ, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরীদানদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, তারা যখন আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে প্রশ্ন করলো, তখন আমি সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে এর উত্তর জেনে তাদের জবাব দিয়েছি।
যখন তারা পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রশ্ন করলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত করে উনার থেকে উত্তর জেনে নিয়ে তাদের উত্তর দিয়েছি।
যখন তারা ফিক্বাহ্ সম্পর্কিত প্রশ্ন করলো, তখন আমি হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত ও যোগাযোগ করে এর জবাব দিয়েছি। আর যখন তারা আমাকে মানতেক সম্পর্কে কিছু মাসয়ালা জিজ্ঞেস করলো, তখন আমি মানতেকের বড় বড় ইমামদের খুঁজতে লাগলাম, তাদেরকে জান্নাতে খুঁজে না পেয়ে অবশেষে জাহান্নামে তাদের পেলাম। আমি জাহান্নামে প্রবেশ করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ঐ মাসয়ালার জবাব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করি। জাহান্নামে প্রবেশ করার কারণে তার প্রচন্ড আগুনের তাপে আমার শরীর ঘেমে গেছে যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাতামুন নাবিইয়ীন, এই আক্বীদা বিশ্বাস করা ফরযে আইন
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে সকল মুসলমান আকীদা-আমলে বিজাতীয়দের তথা ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের সাদৃশ্য রাখে তারা মুসলমান নয়
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৩)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: শানে হযরত ওয়ালেদাইনিশ শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের মর্যাদা উম্মতের মাঝে সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম স্থানে
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (১)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












